Key takeaways
- ২০২৬ সালে পাসপোর্ট নম্বর দিয়েই MOFA, Qiwa, Absher ও BMET-এ সৌদি ভিসা চেক করা যায়।
- সৌদি ওয়ার্ক ভিসা প্রসেসে গড়ে ৫-৭ কার্যদিবস লাগে।
- ভিসা চেক সম্পূর্ণ ফ্রি, কোনো ফি দিতে হয় না।
- জাল ওয়েবসাইট এড়িয়ে শুধু অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করুন।
সৌদি ভিসা চেক করতে চাইলে ২০২৬ সালে সবচেয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য উপায় হলো সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) অফিসিয়াল পোর্টাল visa.mofa.gov.sa-এ গিয়ে পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা এবং ভিসার ধরন দিয়ে স্ট্যাটাস দেখা। এছাড়া Qiwa, Absher এবং BMET-এর নতুন অনলাইন সেবায়ও পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ভিসা যাচাই করা যায়। ২০২৬ সালে সৌদি সরকার নতুন ডিজিটাল সিস্টেম চালু করায় পাসপোর্ট নম্বর দিয়েই ভিসার বাস্তব সময়ের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: জাল ওয়েবসাইট, প্রতারণাকারী এজেন্ট ও অযাচাইকৃত অ্যাপ থেকে দূরে থাকুন। সবসময় সরকারি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করুন। নিচে ২০২৬ সালের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদি ভিসা চেক করার সহজ উপায় (২০২৬)
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সৌদি আরবের ভিসা সিস্টেমে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদি ভিসা চেক করা সম্ভব কোনো ভিসা নম্বর ছাড়াই। পাসপোর্টের সঙ্গে ভিসার তথ্য সরাসরি সংযুক্ত করার ফলে যেকোনো সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই মাত্র কয়েক মিনিটে ভিসার বৈধতা যাচাই করা যায়। নিচে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য চারটি পদ্ধতি ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:
১. MOFA ভিসা ইনকোয়ারি পোর্টাল (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য)
- visa.mofa.gov.sa ওয়েবসাইটে যান।
- ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করুন (আরবি না বুঝলে)।
- “Visa Inquiry” বা “Visa Status” অপশনে ক্লিক করুন।
- আপনার পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা (Bangladeshi) এবং ভিসার ধরন (যেমন: Work Visa) দিন।
- ক্যাপচা কোড পূরণ করে “Search” বাটন চাপুন।
- স্ট্যাটাস দেখাবে: Active, Expired, বা Processing।
এই পোর্টাল থেকে ভিসার বৈধতা, ইস্যুর তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখা যায়। ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে পাসপোর্ট নম্বর ও জাতীয়তা দিলেই বেশিরভাগ ভিসার তথ্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে ওয়ার্ক ভিসা, রেসিডেন্স ভিসা ও ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর।
২. Qiwa প্ল্যাটফর্ম (নিয়োগকর্তা ও কর্মী উভয়ের জন্য)
সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (MHRSD) Qiwa.sa প্ল্যাটফর্ম ২০২৬ সালে হালনাগাদ হয়েছে। এখানে কর্মীরা নিজের পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে লগইন করে ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা স্ট্যাটাস ও নিয়োগকর্তার তথ্য দেখতে পারেন। বিশেষ করে যারা সৌদি আরবে কর্মরত, তাদের জন্য Qiwa অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতার সঙ্গে ভিসার সংযোগ নিশ্চিত করে।
- Qiwa অ্যাকাউন্ট থাকলে লগইন করুন, না থাকলে পাসপোর্ট নম্বর ও সৌদি মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- “My Services” থেকে “Visa & Work Permit” সেকশনে যান।
- পাসপোর্ট নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিংকড থাকলে ভিসার বিস্তারিত দেখা যাবে।
Qiwa-তে ভিসার পাশাপাশি আপনার নিয়োগকর্তার তথ্য, চুক্তির সময়কাল, এবং ইকামা নবায়নের অবস্থাও দেখা যায়। যদি কোনো কারণে MOFA সাইট কাজ না করে, তবে Qiwa একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প।
৩. Absher প্ল্যাটফর্ম (ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে)
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Absher.sa পোর্টালেও ভিসা চেক করা যায়। তবে এর জন্য একটি সক্রিয় Absher অ্যাকাউন্ট ও সৌদি নম্বর প্রয়োজন। Absher মূলত নাগরিক ও রেসিডেন্টদের জন্য তৈরি, কিন্তু বিদেশি কর্মীরাও ইকামা ও ভিসা স্ট্যাটাস জানতে এটি ব্যবহার করতে পারেন।
- Absher-এ লগইন করুন।
- “My Services” > “Passports” > “Visa Status” এ যান।
- পাসপোর্ট নম্বর প্রদর্শিত হবে, ক্লিক করলেই ভিসা স্ট্যাটাস, মেয়াদ ও এক্সিট/রিএন্ট্রি তথ্য দেখা যাবে।
যদি আপনার Absher অ্যাকাউন্ট না থাকে বা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বাংলাদেশে সক্রিয় না থাকে, তবে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ করা সম্ভব। এছাড়া, ২০২৬ সালের নতুন আপডেটে কিছু ক্ষেত্রে শুধু পাসপোর্ট ও জন্মতারিখ দিয়েও কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
৪. BMET বাংলাদেশের নতুন ফ্রি ভেরিফিকেশন সেবা
বাংলাদেশের বিএমইটি (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সৌদি ভিসা যাচাইয়ের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে। bmet.gov.bd-তে গিয়ে “Saudi Visa Verification” লিংকে ক্লিক করে পাসপোর্ট নম্বর ও ভিসা স্টিকারের তথ্য দিলে ভিসার সত্যতা যাচাই করা যায়। এটি প্রবাসী কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি এবং প্রতারণা এড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে যেসব কর্মী এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা নিচ্ছেন, তাদের উচিত BMET পোর্টালে যাচাই করে নেওয়া, যাতে জাল ভিসা বা ভুয়া স্টিকার এড়ানো যায়।
সৌদি ভিসা স্ট্যাটাস চেকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কোনটি?
পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদি ভিসা চেক করার জন্য নিচের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটগুলোই কেবল ব্যবহার করুন। জাল ওয়েবসাইট অনেক সময় আসলটির হুবহু নকল করে, তাই ইউআরএল ভালো করে মিলিয়ে নিন। ভুয়া সাইটে আপনার পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান মারাত্মক জালিয়াতির কারণ হতে পারে।
| প্ল্যাটফর্ম | ওয়েবসাইট | যা যা চেক করা যায় | প্রয়োজনীয় তথ্য |
|---|---|---|---|
| MOFA | visa.mofa.gov.sa | ভিসা স্ট্যাটাস, মেয়াদ, ইস্যুর তারিখ | পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, ভিসার ধরন |
| Qiwa | qiwa.sa | ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট স্ট্যাটাস | পাসপোর্ট নম্বর, সৌদি মোবাইল |
| Absher | absher.sa | ভিসা, ইকামা, এক্সিট রিএন্ট্রি | পাসপোর্ট নম্বর (অ্যাকাউন্ট থাকলে) |
| BMET (বাংলাদেশ) | bmet.gov.bd | ভিসার সত্যতা যাচাই | পাসপোর্ট নম্বর, ভিসা স্টিকার নম্বর |
| Tawakkalna | অ্যাপ (মোবাইল) | ভিসা, স্বাস্থ্য স্ট্যাটাস | পাসপোর্ট নম্বর, সৌদি আইকিউএমএ |
সতর্কতা: visa-check-saudi.com বা এই ধরনের অননুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে দূরে থাকুন। কখনোই অফিসিয়াল ছাড়া অন্য সাইটে আপনার মূল্যবান তথ্য দেবেন না।

ভিসা নম্বর ছাড়া কি পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সৌদি ভিসা চেক করা যায়?
হ্যাঁ, ২০২৬ সালে এটি একেবারেই সম্ভব হয়েছে। আগে ভিসা স্টিকার বা নম্বর ছাড়া চেক করা কঠিন ছিল, কিন্তু এখন MOFA, Qiwa ও Absher-এর হালনাগাদ সিস্টেমে পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদি ভিসা চেক করাই যথেষ্ট। সৌদি আরবের ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে প্রতিটি ভিসার সাথে পাসপোর্ট নম্বর ডাটাবেজে সংযুক্ত থাকে, তাই আলাদা করে ভিসা নম্বর মনে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে (যেমন পুরনো ভিসা বা বিশেষ ক্যাটাগরি) তখনও ভিসা নম্বর চাওয়া হতে পারে।
- MOFA: পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা ও ভিসার ধরন দিলেই স্ট্যাটাস দেখায়।
- Qiwa: পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে লগইন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ভিসার তথ্য চলে আসে।
- Absher: পাসপোর্ট নম্বর অ্যাকাউন্টের সাথে লিংক থাকলে আলাদা করে ভিসা নম্বর লাগে না।
- BMET: পাসপোর্ট নম্বর ও ভিসা স্টিকারের নম্বর দিতে হয়, তবে স্টিকার নম্বরটি পাসপোর্টের ভিসা পৃষ্ঠা থেকেই নেওয়া যায়।
সুতরাং, হাতে কেবল পাসপোর্ট থাকলেই আপনি ভিসার বৈধতা জেনে নিতে পারবেন। তবে BMET-এর ক্ষেত্রে ভিসা স্টিকারের নম্বরটি একটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করে, যা জালিয়াতি রোধে সহায়ক।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি ওয়ার্ক ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
ডিজিটালাইজেশনের ফলে সৌদি ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়াকরণ সময় অনেক কমেছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সৌদি ভিসা চেক প্রসেস টাইম গড়ে ৫ থেকে ৭ কার্যদিবস। পূর্বে যা ১০-১৪ দিন লাগত। তবে এটি নির্ভর করে আপনার নিয়োগকর্তা, এজেন্ট ও দূতাবাসের কার্যপ্রণালির ওপর। এছাড়া ভিসা আবেদনের পর আপনি নিয়মিত MOFA সাইটে চেক করে দেখতে পারেন যে স্ট্যাটাস “Processing” থেকে “Active” হয়েছে কিনা।
মূল ধাপগুলো:
- সৌদি নিয়োগকর্তা তার দেশের MHRSD থেকে ইলেক্ট্রনিক ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করান (প্রায় ১-২ দিন)।
- ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর ভিসা স্টিকার ইস্যু হয়, যা ইলেক্ট্রনিকভাবে বাংলাদেশের দূতাবাসে পৌঁছায় (আরও ১-২ দিন)।
- বাংলাদেশী এজেন্সি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর দূতাবাস থেকে ভিসা স্ট্যাম্পিং হতে ২-৩ দিন লাগে।
সুতরাং, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ৭ দিন সময় ধরা যায়। তবে কোনো জটিলতা তৈরি হলে ১০ দিন পর্যন্ত গড়াতে পারে। ভিসা স্ট্যাম্পিং শেষ হলে আপনার পাসপোর্ট হাতে পেলেই MOFA বা BMET-এ দিয়ে দ্রুত যাচাই করে নিন।
সৌদি ওয়ার্ক ভিসার জন্য কী কী প্রয়োজনীয়তা?
একজন বাংলাদেশী কর্মীর সৌদি ওয়ার্ক ভিসা পেতে যা যা লাগে:
- বৈধ পাসপোর্ট: অন্তত ৬ মাস মেয়াদ ও কমপক্ষে দুইটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
- চাকরির চুক্তিপত্র: নিয়োগকর্তার স্বাক্ষরিত ও সৌদি কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত।
- মেডিকেল রিপোর্ট: সৌদি দূতাবাস অনুমোদিত ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (HIV, Hepatitis B/C, TB ইত্যাদি) এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট।
- ভিসা স্টিকার: দূতাবাস থেকে পাসপোর্টে লাগানো ভিসা স্টিকার।
- এজেন্সি ফি: বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে তাদের ফি (সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ BDT ৮৪,০০০, কিন্তু অনেক সময় অতিরিক্ত চাওয়া হয় — সতর্ক থাকুন)।
সৌদি ভিসার জন্য আলাদা করে ইন্সুরেন্সও করতে হতে পারে, যা প্রায় SAR ১০০-৩০০ (BDT ৩,০০০-৯,০০০) এর মধ্যে পড়ে। ভিসা পাওয়ার পর এসব কাগজপত্র ভালোভাবে সংরক্ষণ করুন এবং সৌদি পৌঁছার পর নিয়োগকর্তাকে দিয়ে ইকামা (রেসিডেন্স পারমিট) তৈরি করান, যা ভিসা অপেক্ষা দীর্ঘমেয়াদী বৈধতা দেবে।
সৌদি ভিসার বিভিন্ন ধরন ও তাদের চেক করার বিশেষ নিয়ম
সৌদি আরব বিভিন্ন ধরনের ভিসা ইস্যু করে, এবং ২০২৬ সালে প্রতিটি ভিসার জন্য চেক করার নিয়মে কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। নিচে প্রধান ভিসার ধরন ও সেগুলো কীভাবে যাচাই করবেন তা দেওয়া হলো।
- ওয়ার্ক ভিসা (Work Visa): সাধারণত MOFA-তে পাসপোর্ট ও জাতীয়তা দিয়ে চেক করা যায়। এছাড়া Qiwa-তে ওয়ার্ক পারমিটের সাথে লিংক থাকে, যা ভিসার বৈধতা নিশ্চিত করে।
- রেসিডেন্স ভিসা (Residence Visa): এটি একবার ইকামা ইস্যু হলে ভিসা স্ট্যাটাস Absher-এ দেখা যায়। MOFA-তে ভিসা নম্বর লাগতে পারে, তবে পাসপোর্ট দিয়েও অনেক সময় কাজ করে।
- ভিজিট ভিসা (Visit Visa): পরিবার বা ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত এই ভিসা MOFA-তে সহজেই চেক করা যায়। শুধু পাসপোর্ট নাম্বার ও ভিসার ধরন (Business/Personal) দিলেই স্ট্যাটাস আসে।
- ট্রানজিট ভিসা (Transit Visa): সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এই ভিসা সাধারণত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এটি চেক করতে MOFA-তে গিয়ে “Transit” সিলেক্ট করতে হবে।
- উমরাহ / হজ ভিসা: ধর্মীয় ভ্রমণের এই ভিসা MOFA-র পাশাপাশি সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত অ্যাপ (যেমন Nusuk) দিয়েও চেক করা যায়।
যেকোনো ধরনের ভিসার ক্ষেত্রেই, যদি অনলাইনে তথ্য না আসে, তবে সরাসরি সৌদি দূতাবাসের হটলাইনে ফোন করে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সৌদি ভিসা চেকের মোবাইল অ্যাপ ও অন্যান্য পদ্ধতি
২০২৬ সালে সৌদি সরকারের তিনটি প্রধান মোবাইল অ্যাপ দিয়েও সৌদি ভিসা চেক করা যায়। মোবাইল অ্যাপগুলো বিশেষভাবে উপযোগী যখন আপনি বিদেশে অবস্থান করছেন বা কম্পিউটারের ব্যবস্থা নেই।
Tawakkalna অ্যাপ
প্রথমে Tawakkalna অ্যাপ ডাউনলোড করে পাসপোর্ট নম্বর ও আইকিউএমএ নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন। “Digital Wallet” সেকশনে ভিসা ও ইকামার ডিজিটাল কপি সবসময় দেখা যায়। ২০২৬ সালের হালনাগাদে Tawakkalna অ্যাপে সরাসরি পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ভিসা চেক করার একটি বিশেষ ফিচার যোগ হয়েছে, যা আগে ছিল না।
Absher অ্যাপ
Absher অ্যাকাউন্ট থাকলে মোবাইল থেকেও পাসপোর্ট নম্বরের তথ্য ও ভিসা স্ট্যাটাস চেক করা যায়। অ্যাপটিতে বায়োমেট্রিক লগইনের সুবিধাও চালু হয়েছে, ফলে নিরাপত্তা বেড়েছে।
Qiwa অ্যাপ
Qiwa-র মোবাইল সংস্করণ দিয়েও নিয়োগকর্তা ও কর্মী উভয়ই ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের তথ্য দেখতে পারেন। বিশেষ করে সৌদি আরবের ভেতরে অবস্থান করলে Qiwa অ্যাপটি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী বলে বিবেচিত হয়।
এছাড়া BMET-এর একটি মোবাইল অ্যাপ “BMET Helper” থেকে সৌদি ভিসার সত্যতা যাচাই করা যায় (তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ নয়)। বাংলাদেশ সরকার শীঘ্রই একটি সমন্বিত পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা করছে যেখানে সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণের ভিসা যাচাই করা যাবে।
সৌদি ভিসা চেক করতে কত খরচ লাগে?
সৌদি ভিসা চেক করা অনলাইনে সম্পূর্ণ ফ্রি। MOFA, Qiwa, Absher বা BMET-এর কোনো প্ল্যাটফর্মেই ভিসা চেক করার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। তবে ভিসার জন্যই সরকারিভাবে খরচ হয়:
- সৌদি ওয়ার্ক ভিসা ফি (সরকারি): SAR ২,০০০ (প্রায় BDT ৬০,০০০)।
- চিকিৎসা পরীক্ষা ফি: BDT ৪,০০০-৭,০০০ (ক্লিনিকভেদে)।
- এজেন্সি ফি: সর্বোচ্চ BDT ৮৪,০০০ (সরকার নির্ধারিত)।
সতর্কতা: কেউ ভিসা চেক করার নামে টাকা চাইলে বুঝবেন তা প্রতারণা। অফিসিয়াল চ্যানেল ছাড়া কোনো অর্থ পরিশোধ করবেন না। এমনকি কিছু দালাল ‘জরুরি ভিসা চেক’ বা ‘বিশেষ পারমিশন’-এর নামে টাকা দাবি করে, এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া।
সৌদি ভিসা চেক করার সময় সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
অনেক সময় পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদি ভিসা চেক করতে গিয়ে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। একটু সতর্ক থাকলেই এগুলো এড়ানো সহজ।
- পাসপোর্ট নম্বর ভুল দেওয়া: পাসপোর্টের নম্বরটি ইংরেজি অক্ষর ও সংখ্যা দুটোই আছে; খেয়াল করে লিখুন। O (ও) কে 0 (জিরো) ভেবে ভুল করবেন না। এছাড়া পাসপোর্টের নিচের মেশিন রিডেবল জোনে (MRZ) দ্বিতীয় লাইনের প্রথম ৯ ক্যারেক্টার মূলত পাসপোর্ট নম্বর।
- জাতীয়তা সঠিক না দেওয়া: “Bangladeshi” নির্বাচন করুন।
- ভিসার ধরন ভুল: ওয়ার্ক ভিসা হলে “Work” সিলেক্ট করুন।
- সার্ভার ডাউন: মাঝে মাঝে MOFA ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। পরে চেষ্টা করুন।
- কোনো তথ্য না পাওয়া: ভিসাটি প্রকৃতই ইস্যু হয়নি বা এখনও প্রক্রিয়াধীন। সেক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা বা এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন।
- ভিসা স্ট্যাটাস “Rejected” দেখানো: যদি বারবার চেষ্টার পরেও দেখা যায় ভিসা নাকচ হয়েছে, তাহলে কারণ জানতে দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে; সাধারণত কাগজপত্রের ত্রুটি বা মেডিকেল সমস্যার জন্য এমন হয়।
যদি আপনার সৌদি ভিসা স্ট্যাটাস “Expired” দেখায় এবং আপনি এখনও সৌদি আরবে অবস্থান করেন, তাহলে পরবর্তী অংশ দেখুন।
সৌদি ভিসা এক্সপায়ার্ড দেখালে করণীয়
যদি Absher বা MOFA-তে আপনার ভিসা স্ট্যাটাস “Expired” দেখায় কিন্তু আপনি সৌদি আরবেই আছেন, তাহলে দ্রুত নিচের পদক্ষেপ নিন। এটি আইনি জটিলতা ও জরিমানা এড়াতে জরুরি।
- নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ: প্রথমে আপনার স
Frequently asked questions
পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদি ভিসা চেক কীভাবে করব?
visa.mofa.gov.sa-এ গিয়ে পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা ও ভিসার ধরন দিয়ে স্ট্যাটাস দেখুন। এছাড়া Qiwa, Absher ও BMET পোর্টালেও একইভাবে চেক করা যায়।
ভিসা নম্বর ছাড়া কি সৌদি ভিসা চেক করা যায়?
হ্যাঁ, ২০২৬ সাল থেকে MOFA, Qiwa ও Absher-এ পাসপোর্ট নম্বর দিয়েই ভিসা স্ট্যাটাস দেখা যায়।
সৌদি ভিসা চেক করতে কি টাকা লাগে?
না, অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে ভিসা চেক সম্পূর্ণ ফ্রি। কেউ টাকা চাইলে তা প্রতারণা।
সৌদি ভিসা এক্সপায়ার্ড দেখালে কী করব?
নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন, Qiwa-তে ওয়ার্ক পারমিট চেক করুন এবং ৩০ দিনের মধ্যে নবায়নের ব্যবস্থা নিন।