Key takeaways
- ২০২৬ সালে BMET প্রশিক্ষণ বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক।
- মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা এবং থাকা-খাওয়া বিনামূল্যে।
- আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন এবং কোনো ফি নেই।
- প্রশিক্ষণ শেষে Skill Pass ডিজিটাল সনদ পাওয়া যায়।
- সরকার ৫ লক্ষ কর্মীকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
২০২৬ সালে বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে BMET প্রশিক্ষণ নেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। সরকারি এই প্রশিক্ষণে অংশ নিলে আপনি পাবেন মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা, বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং ডিজিটাল সনদ, যা বিদেশে চাকরির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় BMET-এর এই প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং ২০২৬ সালে বেশ কিছু নতুন সংযোজনের মাধ্যমে আরও সহজ ও কর্মমুখী হয়েছে।
দেশের ৩৮টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC), ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই কোর্স পরিচালিত হয়। প্রতিটি কোর্সে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিরাপত্তা, ভাষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।
BMET প্রশিক্ষণ কী এবং কেন ২০২৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ?

BMET বা ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান, যারা বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ২০২৬ সালে BMET প্রশিক্ষণ আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে, কারণ সরকার পাঁচ লাখ কর্মীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এবং ‘Skill Pass’ নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যা আপনার প্রশিক্ষণের তথ্য ভবিষ্যতে সহজেই যাচাই করবে।
আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে তিনটি বড় পরিবর্তন এসেছে:
- মাসিক ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
- প্রথমবারের মতো আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
- ‘Skill Pass’ ডিজিটাল সনদ চালু হয়েছে, যা আপনার দক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।
উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণের মেয়াদ ট্রেড ভেদে ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত দিনে ৬ ঘণ্টা করে ক্লাস হয়, যার মধ্যে ২ ঘণ্টা তাত্ত্বিক ও ৪ ঘণ্টা ব্যবহারিক।
প্রশিক্ষণ শেষে আপনি পাবেন একটি সরকারি সনদ, যা মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চাকরি পেতে সহায়তা করে। তাই আজই BMET-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঘুরে আসুন এবং সুযোগটি কাজে লাগান।
BMET প্রশিক্ষণের জন্য আবেদনের যোগ্যতা কী?

সবাই এই প্রশিক্ষণে ভর্তি হতে পারেন না। নিচের শর্তগুলো মিলিয়ে দেখুন:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস। কিছু ট্রেডে (যেমন নার্সিং, আইটি) এসএসসি বা সমমানের যোগ্যতা চাওয়া হতে পারে।
- বয়সসীমা: আবেদনের সময় আপনার বয়স ১৮–৪০ বছর হতে হবে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে (যেমন অভিজ্ঞ কর্মী বা প্রতিবন্ধী) ৪৫ বছর পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়, তবে সেটি অল্পসংখ্যক।
- শারীরিক সুস্থতা: প্রশিক্ষণ শুরুর আগে মেডিকেল পরীক্ষা পাস করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ছোঁয়াচে রোগ থাকলে আবেদন নাও জমা পড়তে পারে।
- জাতীয়তা: অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বৈধ এনআইডি থাকতে হবে।
যদিও সরাসরি কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না, তবে বিদেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হতে পারে, তাই কোনো ফৌজদারি মামলা না থাকাই ভালো। এছাড়া শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, বুকের এক্স-রে ইত্যাদি দেখে নেওয়া হয়।
এছাড়া, কোনো নারী বা পুরুষ আলাদা কোটাও আছে না— সবাই সমান সুযোগ পাবেন। বিদেশগামী কর্মীদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কিছু বিশেষ ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে স্থানীয় BMET অফিসে যোগাযোগ করুন।
Skill Pass প্ল্যাটফর্ম কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Skill Pass হলো সরকার চালু করা একটি ডিজিটাল দক্ষতা যাচাই ব্যবস্থা, যেখানে প্রশিক্ষণার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য, প্রশিক্ষণের ট্রেড, প্রাপ্ত নম্বর ও সনদ ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকে। এটি একধরনের দক্ষতার পাসপোর্ট। বিদেশি নিয়োগকর্তারা অনলাইনে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে আপনার প্রশিক্ষণের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। এতে নকল সনদের ঝুঁকি কমবে এবং আপনার দক্ষতার মূল্যায়ন আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত হবে। ২০২৬ সালে এটি পুরোদমে চালু হওয়ায় BMET প্রশিক্ষণ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার Skill Pass অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে।
Skill Pass ব্যবহার করে আপনি নিজেও আপনার প্রশিক্ষণের তথ্য দেখতে ও শেয়ার করতে পারবেন। ভবিষ্যতে চাকরি বদল বা নতুন কোর্স করলেও তা আপডেট হবে। তাই প্রশিক্ষণ শেষে আপনার Skill Pass লগইন তথ্য সংরক্ষণ করুন। Skill Pass অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেট করতে আপনার মোবাইল নম্বর ও NID ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। একবার লগইন করলেই আপনার সমস্ত সনদের ডিজিটাল কপি পেয়ে যাবেন।
বিদেশে যাওয়ার আগে BMET প্রশিক্ষণ কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ, ২০২৬ সালে বিদেশে কাজ করার জন্য যাওয়া প্রতিটি কর্মীকেই BMET প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি আইন করে বলা আছে: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী, প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং (PDOT) ছাড়া কোনো কর্মী বিদেশ যেতে পারবেন না।
যেসব দেশে এই সনদ সবচেয়ে বেশি চেক হয়:
- সৌদি আরব
- দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য অংশ
- মালয়েশিয়া
- কাতার
- ওমান
- বাহরাইন
- ইতালি, রোমানিয়া, পোল্যান্ড (ইউরোপ)
আপনার পাসপোর্ট ও ভিসা থাকলেও ইমিগ্রেশন অফিসে এই সনদ দেখাতে হবে। তাই সময় থাকতেই প্রশিক্ষণটি সেরে রাখুন। প্রশিক্ষণ শেষে একটি আইডি কার্ড ও ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে ‘Skill Pass’ প্ল্যাটফর্মেও সংরক্ষিত থাকবে। বিস্তারিত জানতে আমাদের পাসপোর্ট ও ভিসা গাইড দেখতে পারেন।
BMET প্রশিক্ষণের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?

আবেদনের সময় নিচের ডকুমেন্টগুলো হাতের কাছে রাখুন:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর ফটোকপি ও মূল কপি
- পাসপোর্টের কপি (যদি থাকে), তবে পাসপোর্ট ছাড়াও আবেদন করা যায়
- শিক্ষাগত সনদের ফটোকপি (অন্তত অষ্টম শ্রেণির মার্কশিট)
- ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)
- মোবাইল নাম্বার (সচল) ও ইমেইল আইডি (যদি থাকে)
অনলাইনে আবেদন করলে ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে JPEG/PDF আকারে আপলোড করতে হবে। কোনো ফি লাগবে না, পুরোটাই বিনামূল্যে।
BMET প্রশিক্ষণের সময় ভাতা কত টাকা?
২০২৬ সালে সবচেয়ে আনন্দের খবর হলো, প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রতিটি কর্মী এখন পাবেন মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা। ২০২৫ সালে এই অঙ্ক ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। পাশাপাশি, BMET-এর নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে থাকা ও খাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা ফ্রি। আগে এই সুবিধা ছিল না, ফলে দূরের জেলা থেকে আসা কর্মীদের থাকা-খাওয়ার জন্য বাড়তি টাকা খরচ হতো।
ভাতা পাওয়ার শর্ত:
- প্রশিক্ষণের প্রতিদিন উপস্থিত থাকতে হবে। অনুপস্থিতির জন্য ভাতা কাটা যাবে।
- প্রতি মাস শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ/নগদ) মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়। তাই আবেদনের সময় সঠিক হিসাব নম্বর দিন।
- প্রশিক্ষণ শেষে এককালীন ভাতা নয়, মাস ধরে দেওয়া হয়।
BMET প্রশিক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন কীভাবে করব?
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন এবং খুবই সহজ। ধাপে ধাপে দেখুন:
- রেজিস্ট্রেশন: BMET-এর ওয়েবসাইট থেকে ‘Trainee Registration’ লিংকে ক্লিক করুন।
- আপনার NID নম্বর, জন্ম তারিখ ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। সাথে পছন্দের ট্রেড সিলেক্ট করুন।
- দরকারি তথ্য (ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা) পুরো পুরণ করে জমা দিন। স্ক্যান করা ডকুমেন্ট আপলোড করুন।
- সাবমিট করলে একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। সেটি সংরক্ষণ করুন।
- আপনার আবেদন যাচাইয়ের পর মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে।
সতর্কতা: ব্যাচ ভেদে আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা। সাধারণত প্রতি মাসের শুরুতে নতুন ব্যাচের আবেদন খোলে। তাই নিয়মিত ওয়েবসাইট চেক করুন। কোনো দালাল বা এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; নিজেই আবেদন করুন।
BMET প্রশিক্ষণের সময়সীমা ও ব্যাচের তথ্য
প্রশিক্ষণ ব্যাচ সাধারণত মাসের শুরুতে শুরু হয় এবং আবেদন শেষ হয় তার ১০-১৫ দিন আগে। আপনি যখন আবেদন করবেন, তখন পছন্দের ট্রেড ও কেন্দ্র বাছাই করতে পারবেন। ২০২৬ সালে BMET প্রশিক্ষণ সেন্টারগুলোতে প্রতিটি ব্যাচে সীমিত আসন থাকে, তাই দ্রুত আবেদন করা জরুরি। আপনি একসাথে একাধিক ট্রেডের জন্য আবেদন করতে পারবেন না; একবারে একটি ট্রেড সিলেক্ট করুন। প্রশিক্ষণের সময়সূচি ও ছুটির দিন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনার সিলেক্টেড TTC-র অফিসে ফোন করে জেনে নিন।
BMET প্রশিক্ষণ শেষে করণীয়
প্রশিক্ষণ শেষে আপনার মূল কাজ হলো সনদ সংগ্রহ করা এবং Skill Pass অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেট করা। সনদ পাওয়ার পর তা স্ক্যান করে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করুন। এরপর, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জব পোর্টালে আপনার প্রোফাইল তৈরি করে সনদ আপলোড করুন। এছাড়াও, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কর্মসংস্থান ডেটাবেসেও আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। কোনো বিদেশি নিয়োগকর্তা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে, তাই মোবাইল নম্বর ও ইমেইল সচল রাখুন। চাইলে আপনি সরকারি বৈদেশিক কর্মসংস্থান অফিসেও যোগাযোগ করে চাকরির সহায়তা নিতে পারেন।
BMET প্রশিক্ষণের সনদ কি বিদেশে চাকরির জন্য বৈধ?
অবশ্যই বৈধ। BMET প্রশিক্ষণ শেষে আপনি যে সনদ পাবেন তা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত। মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশে এই সনদ ভিসা প্রসেসিং ও ওয়ার্ক পারমিট পেতে জরুরি। ২০২৬ সালে ‘Skill Pass’ নামের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ায়, এখন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সহজেই আপনার প্রশিক্ষণের সত্যতা অনলাইনে যাচাই করতে পারবে।
সনদ হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে, BMET থেকে ডুপ্লিকেট কপি ওঠানো যায় (নিদিষ্ট ফি প্রযোজ্য হবে)। তাছাড়া, এই সনদ শুধু বিদেশ যাওয়ার সময়ই কাজে লাগে না, দেশেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সময় মূল্যায়িত হয়।
BMET প্রশিক্ষণ শেষে কী কী কাজের সুযোগ আছে?
২০২৬ সালে BMET ১০০-র বেশি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড:
- ইলেকট্রিশিয়ান
- ওয়েল্ডিং (আর্ক, গ্যাস)
- ড্রাইভিং (ভারী যানবাহন)
- নার্সিং ও কেয়ারগিভার
- হাউসকিপিং ও ক্লিনিং
- কম্পিউটার ও আইটি সাপোর্ট
- রেফ্রিজারেশন ও এসি টেকনিশিয়ান
- মেকানিক (প্লাম্বিং, অটোমোবাইল)
- সেলাই ও গার্মেন্টস
- মেরিন টেকনোলজি
প্রশিক্ষণ শেষে আপনার নাম সরকারি কর্মসংস্থান ডেটাবেসে জমা হয়, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার করে। অনেক সময় প্রশিক্ষণ চলাকালীনই বড় কোম্পানিগুলো সরাসরি নিয়োগ দিয়ে থাকে। কাজেই পুরোদমে অংশ নিন।
২০২৬ সালে BMET প্রশিক্ষণের সুবিধা ও সময়কাল: একটি তুলনামূলক চিত্র
নিচের টেবিলে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মূল পার্থক্য দেখানো হলো:
| বিষয় | ২০২৫ | ২০২৬ (নতুন) |
|---|---|---|
| মাসিক ভাতা | ৩০০ টাকা | ৫০০ টাকা |
| আবাসন ও খাবার | নিজ ব্যবস্থাপনা | BMET কর্তৃক বিনামূল্যে |
| প্রশিক্ষণের মেয়াদ | সাধারণত ৩০ দিন | ৩০–৬০ দিন (ট্রেড ভেদে) |
| ডিজিটাল সনদ | শুধু কাগজের সনদ | Skill Pass প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল |
| সরকারি লক্ষ্যমাত্রা | প্রায় ৩.৫ লক্ষ | ৫ লক্ষ কর্মী |
| ট্রেডের সংখ্যা | প্রায় ৭০ | ১০০+ |
সরকারি লক্ষ্যমাত্রা: ৫ লক্ষ কর্মীকে প্রশিক্ষণ — আপনার সুযোগ
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জন্য ৫ লক্ষ কর্মীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর পেছনে মূল লক্ষ্য হলো, দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও জোরদার করা। ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালে ৩০ বিলিয়নে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারলে এই লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে। ইতিমধ্যে সৌদি আরব, ইউএই, মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে BMET সনদধারী কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আপনি যদি এখনও আবেদন না করে থাকেন, তাহলে দ্রুততম সময়ে আবেদন করুন। কারণ:
- প্রতি ব্যাচে আসন সীমিত। আগে আবেদন করলে আপনার পছন্দের ট্রেড ও কেন্দ্র বেছে নেওয়ার সুযোগ বেশি।
- প্রশিক্ষণ শেষে সনদ পেতে ২-৩ মাস সময় লেগে যায়, যা ফরমালিটি ও ডেটাবেস এন্ট্রির জন্য প্রয়োজন।
- ২০২৬ সালের শেষ ছয় মাসে সাধারণত চাপ বেড়ে যায়, তখন আসন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: BMET প্রশিক্ষণের জন্য কি কোনো বয়সসীমা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ১৮–৪০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে ৪৫ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: পাসপোর্ট ছাড়া কি আবেদন করা যায়?
উত্তর: অবশ্যই। পাসপোর্ট ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই হবে।
প্রশ্ন: প্রশিক্ষণের সময় কি কোনো ফি দিতে হয়?
উত্তর: না, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সরকারি উদ্যোগে কোনো ফি নেই।
প্রশ্ন: ভাতা কীভাবে পাবো?
উত্তর: প্রশিক্ষণ শেষে প্রতি মাস শেষে আপনার দেওয়া ব্যাংক বা বিকাশ/নগদ নম্বরে ৫০০ টাকা করে পাঠানো হবে।
প্রশ্ন: Skill Pass অ্যাকাউন্ট কীভাবে অ্যাক্টিভেট করব?
উত্তর: প্রশিক্ষণ শেষে আপনার মোবাইলে একটি লিংক আসবে, সেটি থেকে রেজিস্ট্রেশন করে অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেট করুন।
প্রশ্ন: সনদ হারিয়ে গেলে কী করব?
উত্তর: ডুপ্লিকেট সনদের জন্য BMET অফিসে আবেদন করুন। নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে।
প্রশ্ন: প্রশিক্ষণের মেয়াদ কত দিন?
উত্তর: ট্রেড অনুযায়ী ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
Frequently asked questions
BMET প্রশিক্ষণের জন্য কি কোনো বয়সসীমা আছে?
হ্যাঁ, ১৮–৪০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে ৪৫ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়।
পাসপোর্ট ছাড়া কি আবেদন করা যায়?
অবশ্যই। পাসপোর্ট ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই হবে।
প্রশিক্ষণের সময় কি কোনো ফি দিতে হয়?
না, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সরকারি উদ্যোগে কোনো ফি নেই।
ভাতা কীভাবে পাবো?
প্রশিক্ষণ শেষে প্রতি মাস শেষে আপনার দেওয়া ব্যাংক বা বিকাশ/নগদ নম্বরে ৫০০ টাকা করে পাঠানো হবে।