স্বাধীন তথ্যসেবা — এটি সরকারি ওয়েবসাইট নয়🌍 প্রবাসী বন্ধু✈️ ড্রিম ইন্টারন্যাশনাল
প্রবাসী ইনফো

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫: আবেদন, খরচ ও কাজের অনুমতি

স্পেশাল প্রকাশ: ২ জুন ২০২৬·পড়তে ৪ মিনিট
যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫: আবেদন, খরচ ও কাজের অনুমতি

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন? তাহলে যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি। এই ভিসার মাধ্যমে আপনি যুক্তরাজ্যের স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট শর্তে কাজ করার অনুমতিও পাবেন। এই নিবন্ধে আমরা আবেদন প্রক্রিয়া, খরচ ও কাজের অনুমতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫: যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা (পূর্বে Tier 4) পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। নিচে মূল শর্তাবলী উল্লেখ করা হলো:

📅আপনি কত দিন ধরে প্রবাসে?প্রবাসী বন্ধুতে হিসাব করুন, নিজের ছবিসহ কার্ড বানিয়ে পরিবারকে পাঠান — ফ্রিকার্ড বানান →

শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • যুক্তরাজ্যের একটি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার (CAS) থাকতে হবে।
  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করতে IELTS, TOEFL বা অন্যান্য স্বীকৃত পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হবে। সাধারণত IELTS-এ ৬.০ বা তার বেশি স্কোর প্রয়োজন (প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হতে পারে)।
  • আগের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট) জমা দিতে হবে।

আর্থিক যোগ্যতা

  • প্রথম বছরের টিউশন ফি ও লিভিং কস্টের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল থাকতে হবে। লন্ডনের জন্য প্রতি মাসে £1,334 এবং লন্ডনের বাইরে £1,023 ধরা হয় (অন্তত ৯ মাসের জন্য)।
  • অর্থের উৎস স্বচ্ছ হতে হবে; ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্পন্সরশিপ লেটার ইত্যাদি জমা দিতে হবে।

অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • বৈধ পাসপোর্ট
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • CAS (Confirmation of Acceptance for Studies) নাম্বার
  • স্বাস্থ্যবীমা (IHS) পেমেন্টের রশিদ
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (যদি প্রয়োজন)
  • ভিসা আবেদন ফর্ম (অনলাইনে পূরণ করতে হবে)

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫: আবেদন প্রক্রিয়া

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায়। ধাপগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:

  1. CAS প্রাপ্তি: প্রথমে যুক্তরাজ্যের একটি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে CAS নাম্বার সংগ্রহ করুন।
  2. অনলাইন আবেদন: যুক্তরাজ্য সরকারের ভিসা ও ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন।
  3. ডকুমেন্ট জমা: প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন।
  4. বায়োমেট্রিক্স: নিকটস্থ ভিসা আবেদন কেন্দ্রে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি দিন।
  5. সাক্ষাৎকার: কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হতে পারে।
  6. সিদ্ধান্ত: সাধারণত ৩ সপ্তাহের মধ্যে ভিসার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আপনি যদি ডেনমার্কে পড়তে আগ্রহী হন, তাহলে ডেনমার্ক স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৬ সম্পর্কেও জেনে নিতে পারেন।

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৫: খরচ

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা পেতে মোট খরচ কয়েকটি অংশে বিভক্ত:

ভিসা আবেদন ফি

  • যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আবেদন করলে ফি £490 (প্রায় ৫৫,০০০ টাকা)।
  • যুক্তরাজ্যের ভিতর থেকে আবেদন করলে ফি £490 (একই)।

ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ (IHS)

  • প্রতি বছরে £470 (প্রতি বছর হিসেবে) দিতে হবে। সাধারণত পুরো কোর্সের জন্য এককালীন পেমেন্ট করতে হয়।

টিউশন ফি

  • স্নাতক স্তরে বছরে £10,000-£25,000 (প্রায় ১১-২৮ লাখ টাকা)।
  • স্নাতকোত্তর স্তরে বছরে £12,000-£35,000 (প্রায় ১৪-৩৯ লাখ টাকা)।
  • মেডিকেল বা বিশেষ প্রোগ্রামের ফি আরও বেশি হতে পারে।

লিভিং কস্ট

  • লন্ডনে পড়লে বছরে প্রায় £12,006 (প্রায় ১৩.৫ লাখ টাকা)।
  • লন্ডনের বাইরে পড়লে বছরে প্রায় £9,207 (প্রায় ১০.৪ লাখ টাকা)।

অর্থ সাশ্রয়ের জন্য আপনি ইউরোপের কোন দেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সহজ সেটাও জেনে নিতে পারেন।

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসায় কাজের অনুমতি

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা নির্দিষ্ট শর্তে কাজ করতে পারেন। নিচে কাজের অনুমতির বিস্তারিত দেওয়া হলো:

পার্ট-টাইম কাজ

  • স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন (কোর্স চলাকালীন)।
  • ছুটির সময় (Winter/Summer break) পূর্ণকালীন কাজ করা যাবে।
  • কাজের ধরন সাধারণত রেস্তোরাঁ, ক্যাম্পাসের চাকরি, রিটেইল ইত্যাদি।

ইন্টার্নশিপ ও প্লেসমেন্ট

  • কোর্সের অংশ হিসেবে যদি ইন্টার্নশিপ থাকে, তাহলে সেটি করার অনুমতি আছে।
  • স্টুডেন্ট ভিসায় স্যান্ডউইচ কোর্সের (work placement) জন্যও কাজের অনুমতি দেওয়া হয়।

পড়া শেষে কাজের অনুমতি

  • গ্রাজুয়েট রুট (Graduate Route) ভিসার মাধ্যমে পড়া শেষে ২ বছর (পিএইচডি হলে ৩ বছর) যুক্তরাজ্যে থাকা ও কাজ করা যাবে।
  • এই ভিসার জন্য আলাদা আবেদন করতে হয় এবং কোনো স্পনসরের প্রয়োজন নেই।

কাজের অনুমতি সংক্রান্ত নিয়মকানুন সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সর্বশেষ তথ্য যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিন।

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • ভিসা আবেদনের আগে CAS যাচাই করে নিন এবং নিশ্চিত হন যে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃত।
  • আর্থিক সঞ্চয় পর্যাপ্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন, কারণ ভিসা অফিসার আর্থিক সামর্থ্য যাচাই করে থাকেন।
  • ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণে যথাযথ পরীক্ষার স্কোর জমা দিন।
  • ভিসা পেতে দেরি হলে কোর্স শুরু হওয়ার আগেই আবেদন করুন (সাধারণত ৩ মাস আগে)।

Frequently Asked Questions

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসা পেতে কত সময় লাগে?

সাধারণত ৩ সপ্তাহের মধ্যে ভিসার সিদ্ধান্ত জানানো হয়, তবে আবেদনের সময় ও দেশভেদে সময় কম-বেশি হতে পারে। এক্সপ্রেস সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত প্রক্রিয়াও সম্ভব।

যুক্তরাজ্য স্টুডেন্ট ভিসায় কি পরিবার নিয়ে যাওয়া যায়?

হ্যাঁ, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের (স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান) সাথে নিয়ে যেতে পারেন। তবে তাদের জন্য আলাদা ভিসা আবেদন করতে হবে এবং আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।

ভিসা নবায়ন বা এক্সটেনশন করা যায় কি?

হ্যাঁ, যদি আপনার কোর্সের মেয়াদ শেষ না হয়ে থাকে এবং আপনার CAS থাকে, তাহলে যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে ভিসা এক্সটেনশনের জন্য আবেদন করতে পারেন।

যুক্তরাজ্যে পড়ার পর কি সেটেল হওয়া সম্ভব?

পড়া শেষে গ্রাজুয়েট রুট ভিসা দিয়ে ২-৩ বছর কাজ করার পর স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা বা অন্যান্য ইমিগ্রেশন রুটের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

💬 মন্তব্য (১)

  1. ব
    বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে জেনে নিন: ৫টি দেশে থাকা-খাওয়ার খরচের তুলনা - প্রবাসী ইনফো

    […] বিস্তারিত জানতে যুক্তরাজ্য স্টু&… […]

আপনার মন্তব্য বা প্রশ্ন লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন