Key takeaways
- ন্যূনতম বেতন ৫০০০ SAR, ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট ও স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক।
- ভিসার মেয়াদ ৩ বছর, স্পনসর পরিবর্তন সহজ হয়েছে।
- প্রতারণা এড়াতে সরকারি এজেন্সি ব্যবহার করুন।
- কিছু পেশায় দক্ষতা পরীক্ষা প্রয়োজন।
সৌদি আরবের ওয়ার্ক ভিসা নিয়ম ২০২৬ সালে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা পেতে ন্যূনতম বেতন ৫০০০ সৌদি রিয়াল হতে হবে, স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক, এবং নিয়োগকর্তাকে ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট চালু করতে হবে। আগের বছরের তুলনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল হয়েছে, এবং কিছু পেশায় দক্ষতা পরীক্ষা যোগ করা হয়েছে।
দ্রুত উত্তর: ২০২৬ সালে সৌদি আরবের ওয়ার্ক ভিসার জন্য ন্যূনতম বেতন ৫০০০ SAR, ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট বাধ্যতামূলক, ভিসার মেয়াদ ৩ বছর, এবং স্বাস্থ্য বীমা ও দক্ষতা পরীক্ষা যোগ হয়েছে।
সৌদি আরবের নতুন ওয়ার্ক ভিসা নিয়ম কী কী? (২০২৬)
সৌদি সরকার ২০২৬ সালে কর্মসংস্থান ও ভিসা নীতিতে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নিচে মূল পরিবর্তনগুলো দেওয়া হলো:
- ন্যূনতম বেতন: বৈদেশিক কর্মীদের জন্য ৫০০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) বাধ্যতামূলক। এর কম বেতনে ভিসা দেওয়া হবে না।
- ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট: নিয়োগকর্তাকে ‘কিওয়া’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চুক্তি করতে হবে। কর্মী পৌঁছানোর আগেই তা নিবন্ধিত ও অনুমোদিত হতে হবে।
- স্বাস্থ্য বীমা: প্রতিটি কর্মীর জন্য বীমা বাধ্যতামূলক, খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন।
- দক্ষতা পরীক্ষা: ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ড্রাইভারসহ কিছু পেশায় সৌদি পৌঁছানোর পর পরীক্ষা দিতে হবে।
- ভিসার মেয়াদ: আগের ২ বছর থেকে বেড়ে ৩ বছর হয়েছে, নবায়নযোগ্য।
- স্পনসর পরিবর্তন: এক বছর পর সহজেই নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করা যায়।
নিয়োগকর্তা যদি ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট না করেন, তবে ভিসা ইস্যু হবে না। নতুন নিয়ম কর্মীদের অধিকার রক্ষায় বেশি কার্যকর।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সৌদি ওয়ার্ক ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
২০২৬ সালে নিম্নলিখিত কাগজপত্র জমা দিতে হবে:
- পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস বৈধতা, পর্যাপ্ত খালি পৃষ্ঠা।
- ছবি: ২ কপি পাসপোর্ট আকারের, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, নিরপেক্ষ অভিব্যক্তি।
- শিক্ষাগত সনদ: ইংরেজি অনুবাদ ও নোটারাইজড। অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেটও দরকার।
- স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও টিকা: অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে মেডিকেল। মেনিনজাইটিস, পোলিও, কোভিড-১৯ টিকার প্রমাণ।
- নিয়োগকর্তার অফার লেটার: স্বাক্ষরিত চুক্তি, যাতে বেতন, কাজ, আবাসন ও পরিবহন উল্লেখ।
- ইকামা প্রক্রিয়া: পৌঁছানোর ৯০ দিনের মধ্যে ইকামার আবেদন করতে হবে।

সৌদি আরবের ওয়ার্ক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে
নতুন নিয়মে আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন। ধাপগুলো:
- ধাপ ১: নিয়োগকর্তা ‘কিওয়া’ প্ল্যাটফর্মে কর্মীর প্রোফাইল তৈরি ও পাসপোর্ট আপলোড করবেন।
- ধাপ ২: অনলাইন আবেদনের পর কর্মী ই-মেইলে ভিসা নম্বর পাবেন।
- ধাপ ৩: বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাস বা ভিসা কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক্স ও সাক্ষাৎকারের জন্য যেতে হবে। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
- ধাপ ৪: ভিসা ফি দিতে হবে। সাধারণত ২০০০ SAR (প্রায় ৬৪,০০০ টাকা), নিয়োগকর্তা দেন। প্রক্রিয়াকরণ সময় ২-৪ সপ্তাহ।
- ধাপ ৫: ভিসা অনুমোদিত হলে, কর্মী সৌদি যেতে পারবেন। পৌঁছানোর ৯০ দিনের মধ্যে ইকামা, বীমা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
সতর্কতা: কেউ ভিসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে দূতাবাসে জানান। শুধু নিয়োগকর্তা ও দূতাবাস ভিসা ইস্যু করে।

নতুন নিয়মে বেতন ও কর্মসংস্থানের শর্ত
ন্যূনতম বেতন ৫০০০ SAR, তবে দক্ষতা অনুযায়ী বেশি হয়। কাজের সময় সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা (৮ ঘণ্টা করে ৬ দিন), সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার। রমজানে ৬ ঘণ্টা কাজ। ওভারটাইমের নিয়ম আছে। স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক; নিয়োগকর্তা আবাসন ও পরিবহন দেবেন বা ভাতা দেবেন। পরিবার আনার জন্য স্পনসরশিপ পেতে বেতন ৫০০০ SAR হতে হবে।
পুরনো ও নতুন নিয়মের তুলনা
| বিষয় | পুরনো নিয়ম (২০২৫ পর্যন্ত) | নতুন নিয়ম (২০২৬) |
|---|---|---|
| ভিসার মেয়াদ | ২ বছর (নবায়নযোগ্য) | ৩ বছর (নবায়নযোগ্য) |
| ন্যূনতম বেতন | নির্দিষ্ট ছিল না (অনেক ক্ষেত্রে ৩০০০ SAR) | ৫০০০ SAR বাধ্যতামূলক |
| ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট | ঐচ্ছিক | বাধ্যতামূলক (কিওয়া প্ল্যাটফর্ম) |
| স্বাস্থ্য বীমা | শুধু কিছু কোম্পানির জন্য | সকল কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক |
| দক্ষতা পরীক্ষা | কোনো ব্যবস্থা ছিল না | কিছু পেশায় আবশ্যক |
| স্পনসর পরিবর্তন | ২ বছর পরে (কঠিন শর্ত) | ১ বছর পরে সহজ শর্তে |
সৌদি আরবে বসবাস ও আইনি অধিকার
প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় ‘ওয়াসেল’ অ্যাপ চালু আছে। এতে অভিযোগ, মজুরি সমস্যা ও আইনি পরামর্শ পাওয়া যায়। ইকামা নবায়ন প্রতি ৩ বছর পর। ইকামা ছাড়া থাকা অবৈধ। পরিবারের জন্য ডিপেন্ডেন্ট ভিসা পেতে বেতন ৫০০০ SAR প্রয়োজন। স্ত্রী ও সন্তানের জন্য পৃথক আইডি। সন্তানের শিক্ষার জন্য বেসরকারি স্কুল, ফি নিজেকে দিতে হয়।
সৌদি ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে সাধারণ ভুল ও প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়
প্রতারণা এড়াতে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
- সরকারি সূত্র: শুধু probashi.gov.bd এর তালিকাভুক্ত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করুন। দূতাবাসের mofa.gov.bd থেকে বৈধ তালিকা নিন।
- জাল ভিসা চেনা: ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজের অনুমতি নেই। ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট নম্বর যাচাই করুন।
- অতিরিক্ত ফি: ভিসা ফি নিয়োগকর্তা দেন। বড় অঙ্কের টাকা চাইলে সন্দেহ করুন।
- বৈধ এজেন্সি: জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে লাইসেন্স নম্বর যাচাই করুন।
মূল উপাদেয় (Key Takeaways)
- ন্যূনতম বেতন ৫০০০ SAR, ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট ও স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক।
- ভিসার মেয়াদ ৩ বছর, স্পনসর পরিবর্তন সহজ হয়েছে।
- প্রতারণা এড়াতে সরকারি এজেন্সি ব্যবহার করুন।
- কিছু পেশায় দক্ষতা পরীক্ষা প্রয়োজন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: ২০২৬ সালে সৌদি ওয়ার্ক ভিসার জন্য ন্যূনতম বেতন কত?
উত্তর: ন্যূনতম বেতন ৫০০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে?
উত্তর: সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। অনলাইন আবেদন ও ডকুমেন্ট সম্পূর্ণ থাকলে প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
প্রশ্ন: পুরনো ভিসার মেয়াদ কত ছিল?
উত্তর: আগে ভিসার মেয়াদ ২ বছর ছিল। এখন ৩ বছর করা হয়েছে।
প্রশ্ন: নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করতে চাইলে কী করতে হবে?
উত্তর: এক বছর পর নতুন নিয়মে সহজেই স্পনসর পরিবর্তন করা যায়। পুরনো নিয়োগকর্তার ছাড়পত্র নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন: স্বাস্থ্য বীমা কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ, সকল কর্মীর জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক। কোম্পানি এই বীমার খরচ দেবে।
Frequently asked questions
২০২৬ সালে সৌদি ওয়ার্ক ভিসার জন্য ন্যূনতম বেতন কত?
ন্যূনতম বেতন ৫০০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে?
সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। অনলাইন আবেদন ও ডকুমেন্ট সম্পূর্ণ থাকলে প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
পুরনো ভিসার মেয়াদ কত ছিল?
আগে ভিসার মেয়াদ ২ বছর ছিল। এখন ৩ বছর করা হয়েছে।
নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করতে চাইলে কী করতে হবে?
এক বছর পর নতুন নিয়মে সহজেই স্পনসর পরিবর্তন করা যায়। পুরনো নিয়োগকর্তার ছাড়পত্র নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
স্বাস্থ্য বীমা কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, সকল কর্মীর জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক। কোম্পানি এই বীমার খরচ দেবে।