Key takeaways
- সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতন ৪,০০০ SAR, ওভারটাইম ১.৫ গুণ।
- বার্ষিক ছুটি ২১ দিন (৫ বছর পর ৩০ দিন)।
- কাফালা ব্যবস্থা বিলুপ্ত, চাকরি পরিবর্তন সহজ।
- স্বাস্থ্যবিমা বাধ্যতামূলক, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ১,০০,০০০ SAR পর্যন্ত।
- বেতন না পেলে মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৯৯১১ বা ওয়েবসাইটে অভিযোগ।
সৌদি আরবে কর্মীর অধিকার ২০২৬ সালে নতুন শ্রম আইনে আরও শক্তিশালী হয়েছে। বেতন সময়মতো পরিশোধ, বার্ষিক ২১ দিন ছুটি, ওভারটাইমের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ১.৫ গুণ বেতন, এবং চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ আইনত নিশ্চিত। কাফালা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ায় কর্মীরা এখন নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন।
সৌদি আরবে কর্মীর অধিকার: নতুন আইনে কী কী পরিবর্তন এসেছে?
২০২৬ সালের হালনাগাদ সৌদি শ্রম আইন কর্মীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো কাফালা ব্যবস্থার বিলোপ। এখন কোনো কর্মী তার নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন, শুধু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই হয়। এছাড়া বেতন পরিশোধের জন্য ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেম (WPS) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে বেতন সময়মতো এবং পূর্ণমাত্রায় পরিশোধ হয়।
নতুন আইন অনুযায়ী, কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ৪,০০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ১,০৬৬ মার্কিন ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে কিছু খাতে এর চেয়ে কমও হতে পারে। ওভারটাইমের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টাপ্রতি ১.৫ গুণ, এবং রাতের কাজের জন্য ২ গুণ। ছুটির অধিকারও বাড়ানো হয়েছে: প্রথম ৫ বছরে ২১ দিন বার্ষিক ছুটি, তারপর ৩০ দিন।
এই আইন সব বিদেশি কর্মীর জন্য প্রযোজ্য, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত। তবে গৃহকর্মী (domestic workers) এখনও এই আইনের আওতায় আসেননি, তাদের জন্য পৃথক নিয়ম রয়েছে।

সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতন ও বেতন প্রদানের নিয়ম
সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতন ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৪,০০০ সৌদি রিয়াল (SAR) নির্ধারিত। তবে এটি সব খাতে সমান নয়। নির্মাণ ও কৃষি খাতে অনেক সময় ৩,০০০ SAR-ও দেওয়া হয়। বেতন পরিশোধের জন্য WPS (Wage Protection System) বাধ্যতামূলক, যাতে প্রতিটি কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বেতন জমা হয়। নিয়োগকর্তাকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে হবে।
যদি কোনো নিয়োগকর্তা বেতন না দেন, তাহলে কর্মী প্রথমে কোম্পানির HR-এর সাথে যোগাযোগ করবেন। না পেলে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে https://www.mol.gov.sa-এ অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এছাড়া হটলাইন ১৯৯১১ (সৌদি আরবের মধ্যে) কল করে অভিযোগ জানানো যায়। বাংলাদেশ দূতাবাসও এ ব্যাপারে সহায়তা করে।
ছুটির অধিকার: বার্ষিক ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটি
নতুন আইনে কর্মীদের বার্ষিক ছুটি ২১ দিন বেতনসহ, যা ৫ বছর চাকরির পর ৩০ দিন হয়। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার বাধ্যতামূলক, তবে নিয়োগকর্তা চাইলে শনিবারও ছুটি দিতে পারেন। সরকারি ছুটির মধ্যে রয়েছে ঈদ-উল-ফিতর (৪ দিন), ঈদ-উল-আযহা (৪ দিন), সৌদি জাতীয় দিবস (২৩ সেপ্টেম্বর), এবং অন্যান্য। ছুটির দিনে কাজ করলে ওভারটাইম বেতন প্রযোজ্য।

ওভারটাইমের হিসাব: কখন ও কত টাকা পাবেন?
ওভারটাইমের জন্য ঘণ্টাপ্রতি বেতন ১.৫ গুণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার মাসিক বেতন ৪,০০০ SAR হয় এবং আপনি ২২৬ ঘণ্টা কাজ করেন (সাধারণ ৪৮ ঘণ্টা/সপ্তাহ), তাহলে আপনার প্রতি ঘণ্টার বেতন হবে (৪,০০০ × ১২) / (৫২ × ৪৮) ≈ ১৯.২৩ SAR। ওভারটাইমের প্রতি ঘণ্টায় আপনি পাবেন ১৯.২৩ × ১.৫ = ২৮.৮৫ SAR। রাতের কাজের জন্য (রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা) হার ২ গুণ। ছুটির দিনে ওভারটাইমও ২ গুণ।

চাকরি পরিবর্তন ও কাফালা ব্যবস্থার নতুন নিয়ম
কাফালা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ায় কর্মীরা এখন নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন। তবে কিছু শর্ত আছে: কর্মীকে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে হবে, অথবা নিয়োগকর্তার সাথে সমঝোতা করে চুক্তি বাতিল করতে হবে। ইকামা ট্রান্সফারের জন্য নতুন নিয়োগকর্তাকে আবেদন করতে হবে এবং ফি দিতে হবে (প্রায় ২,০০০ SAR)। এই প্রক্রিয়া অনলাইনে https://www.qiwa.sa-এর মাধ্যমে করা যায়।
স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সুবিধা
নিয়োগকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিমা প্রদান করা। বিমা কভারেজের মধ্যে রয়েছে সাধারণ চিকিৎসা, জরুরি সেবা, এবং কিছু ওষুধ। তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে, যেমন দাঁতের চিকিৎসা সীমিত। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ বহন করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে (মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার জন্য ১০০,০০০ SAR পর্যন্ত)।
কর্মীদের অভিযোগ ও আইনি সহায়তা
অভিযোগ জানানোর সহজ উপায় হলো মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (https://www.mol.gov.sa) অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা। এছাড়া ১৯৯১১ নম্বরে ফোন করেও অভিযোগ জানানো যায়। বাংলাদেশ দূতাবাস (রিয়াদ ও জেদ্দায়) কর্মীদের আইনি সহায়তা দেয়। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে https://www.bdembassyriyadh.org-এ যোগাযোগের তথ্য আছে। অভিযোগের জন্য কোনো ফি লাগে না, তবে মামলা করতে আইনজীবী নিয়োগ করতে হতে পারে।
সৌদি আরবে কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: বেতন না পেলে কী করব?
উত্তর: প্রথমে নিয়োগকর্তার সাথে কথা বলুন। না পেলে মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৯৯১১ বা ওয়েবসাইটে অভিযোগ করুন। বাংলাদেশ দূতাবাসও সহায়তা করে।
প্রশ্ন: ছুটির সময় কি বেতন পাব?
উত্তর: হ্যাঁ, বার্ষিক ছুটির সময় পূর্ণ বেতন পান। সাপ্তাহিক ছুটিতেও বেতন প্রযোজ্য।
প্রশ্ন: ওভারটাইম করতে বাধ্য করা যায় কি?
উত্তর: না, ওভারটাইম স্বেচ্ছাধীন। তবে চুক্তিতে উল্লেখ থাকলে কিছু ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হতে পারে। কিন্তু ওভারটাইমের বেতন দিতে হবে।
প্রশ্ন: চাকরি পরিবর্তন করতে নিয়োগকর্তার অনুমতি লাগে?
উত্তর: না, কাফালা বিলোপের পর অনুমতি লাগে না। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে হবে বা সমঝোতা করতে হবে।
প্রশ্ন: স্বাস্থ্যবিমা না দিলে কী করব?
উত্তর: মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করুন। নিয়োগকর্তাকে জরিমানা হতে পারে।
Frequently asked questions
বেতন না পেলে কী করব?
প্রথমে নিয়োগকর্তার সাথে কথা বলুন। না পেলে মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৯৯১১ বা ওয়েবসাইটে অভিযোগ করুন। বাংলাদেশ দূতাবাসও সহায়তা করে।
ছুটির সময় কি বেতন পাব?
হ্যাঁ, বার্ষিক ছুটির সময় পূর্ণ বেতন পান। সাপ্তাহিক ছুটিতেও বেতন প্রযোজ্য।
ওভারটাইম করতে বাধ্য করা যায় কি?
না, ওভারটাইম স্বেচ্ছাধীন। তবে চুক্তিতে উল্লেখ থাকলে কিছু ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হতে পারে। কিন্তু ওভারটাইমের বেতন দিতে হবে।
চাকরি পরিবর্তন করতে নিয়োগকর্তার অনুমতি লাগে?
না, কাফালা বিলোপের পর অনুমতি লাগে না। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে হবে বা সমঝোতা করতে হবে।
স্বাস্থ্যবিমা না দিলে কী করব?
মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করুন। নিয়োগকর্তাকে জরিমানা হতে পারে।