Key takeaways
- ২০২৬ সালে পোল্যান্ডে টাইপ ডি ভিসার ফি ৮০ ইউরো এবং প্রসেসিং সময় ১৫-৩০ দিন।
- পোল্যান্ডে ন্যূনতম মজুরি ২০২৬ সালে ঘণ্টায় ২৮.১০ জ্লটি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮০০ টাকা।
- ভিসা আবেদনের আগে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ও বৈধ এজেন্সি যাচাই করুন।
- পোল্যান্ডে পৌঁছে ৭ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ও কর নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।
- পরিবারের সদস্যদের আনার জন্য ২ বছরের বেশি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট এবং পর্যাপ্ত আয়ের প্রয়োজন।
পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এ আবেদনের আগে সঠিক তথ্য জানা আপনার সফলতার প্রথম শর্ত। এই গাইডে আমরা পোল্যান্ডে কাজের ভিসার প্রকারভেদ, আবেদন প্রক্রিয়া, খরচ, বেতন, জীবনযাত্রার খরচ এবং নতুন নিয়মাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যা আপনাকে প্রতারণা এড়িয়ে নিরাপদে বিদেশ যেতে সাহায্য করবে।
পোল্যান্ডে কাজের ভিসা কী এবং কেন ২০২৬ সালে জনপ্রিয়?
পোল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, যেখানে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মীর অভাব রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পোল্যান্ড একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য কারণ এখানে বেতন তুলনামূলক ভালো এবং জীবনযাত্রার খরচ পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় কম। ২০২৬ সালে পোল্যান্ড সরকার নতুন কিছু নিয়ম চালু করেছে, যা কর্মীদের জন্য সুবিধাজনক হলেও আবেদনের সময় কিছু জটিলতা তৈরি করতে পারে।
পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসার প্রকারভেদ: টাইপ ডি, টাইপ সি ও অন্যান্য
পোল্যান্ডে কাজ করতে গেলে মূলত দুই ধরনের ভিসা প্রাসঙ্গিক: টাইপ সি (শেনজেন ভিসা) এবং টাইপ ডি (ন্যাশনাল ভিসা)।
- টাইপ সি (শেনজেন ভিসা): স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য (৯০ দিন পর্যন্ত) প্রযোজ্য। সাধারণত মৌসুমি কাজ বা স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়।
- টাইপ ডি (ন্যাশনাল ভিসা): দীর্ঘমেয়াদি কাজের জন্য (৯০ দিনের বেশি) প্রয়োজন। এটি ওয়ার্ক পারমিটের সাথে যুক্ত এবং ১ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে, পরে নবায়নযোগ্য।
এছাড়া কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন আইটি সেক্টরে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য পোল্যান্ড বিজনেস হারবার বা ব্লু কার্ড (উচ্চ দক্ষ কর্মীদের জন্য) প্রযোজ্য হতে পারে।
২০২৬ সালে পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসার নতুন নিয়ম ও পরিবর্তন
২০২৬ সালে পোল্যান্ড সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে:
- ডিজিটাল আবেদন: এখন অনলাইনে আবেদন করা বাধ্যতামূলক, এবং কিছু ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক সাক্ষাৎকার অনলাইনে নেওয়া হয়।
- নিয়োগকর্তার নিবন্ধন: নিয়োগকর্তাকে পোল্যান্ডের শ্রম অফিসে কর্মীর চাকরির প্রস্তাব নিবন্ধন করতে হবে, যা আগের চেয়ে কঠোর হয়েছে।
- বেতন শর্ত: কর্মীর বেতন অবশ্যই পোল্যান্ডের ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম হবে না, যা ২০২৬ সালে ঘণ্টায় প্রায় ২৮.১০ জ্লটি (PLN)।
- ভিসা ফি: টাইপ ডি ভিসার ফি বেড়ে হয়েছে ৮০ ইউরো (আগে ৬০ ইউরো)।
পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসা আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসা পেতে আপনাকে নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে:
- বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ)
- পোল্যান্ডের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব (Job Offer)
- ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit) বা নিয়োগকর্তার আবেদনের প্রমাণ
- সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
- কর্মসংস্থানের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য)
- ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স (৩০,০০০ ইউরো কভারেজ)
- ফ্লাইট ও থাকার বুকিং
- ভিসা ফি প্রদানের রসিদ
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা
| ডকুমেন্ট | বিস্তারিত | নোট |
|---|---|---|
| পাসপোর্ট | কমপক্ষে ২টি খালি পৃষ্ঠা | মেয়াদ ৬ মাসের বেশি |
| চাকরির প্রস্তাব | নিয়োগকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠি | কাজের ধরন ও বেতন উল্লেখ থাকবে |
| ওয়ার্ক পারমিট | নিয়োগকর্তা পোল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করবেন | আবেদনের সময় জমা দিতে হবে |
| শিক্ষাগত সনদ | সর্বোচ্চ ডিগ্রি | ইংরেজি অনুবাদসহ |
| অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট | পূর্ববর্তী চাকরির অভিজ্ঞতা | যেখানে প্রযোজ্য |
| ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স | ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ | পোল্যান্ডে প্রবেশের সময় দেখাতে হবে |
| ফ্লাইট ও থাকার প্রমাণ | রিটার্ন টিকিট ও হোটেল বুকিং | ভিসা ইন্টারভিউতে দেখাতে হবে |
পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ২০২৬: ধাপে ধাপে
- নিয়োগকর্তার সাথে চুক্তি: প্রথমে পোল্যান্ডের কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব নিন।
- ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন: নিয়োগকর্তা পোল্যান্ডের ভয়েভোডশিপ অফিসে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করবেন। এটি পেতে ২-৪ সপ্তাহ সময় লাগে।
- ভিসা আবেদন ফর্ম পূরণ: পোল্যান্ডের দূতাবাস বা ভিসা কেন্দ্রের ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করে সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং: অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন (ঢাকায় পোল্যান্ড দূতাবাস বা ভিএফএস গ্লোবাল)।
- সাক্ষাৎকারে অংশ নিন: নির্ধারিত তারিখে সব ডকুমেন্টসহ সাক্ষাৎকারে যান। বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়া হবে।
- ভিসা ফি পরিশোধ: আবেদনের সময় ৮০ ইউরো ফি দিতে হবে (টাইপ ডি-এর জন্য)।
- ভিসা প্রসেসিং অপেক্ষা: সাধারণত ১৫-৩০ দিন সময় লাগে, তবে জটিল ক্ষেত্রে ৬০ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে।
- ভিসা সংগ্রহ: অনুমোদিত হলে পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্প করে দেওয়া হবে।
ভিসা ফি, প্রসেসিং সময় এবং মোট খরচের হিসাব
পোল্যান্ডে যেতে মোট খরচ নির্ভর করে আপনার অবস্থান, এজেন্টের ফি এবং অন্যান্য খরচের উপর। নিচে একটি আনুমানিক হিসাব দেওয়া হলো:
| খাত | খরচ (বাংলাদেশি টাকায়) | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ভিসা ফি | ৯,০০০ – ১০,০০০ | ৮০ ইউরো (টাইপ ডি) |
| ওয়ার্ক পারমিট প্রসেসিং | ২০,০০০ – ৫০,০০০ | নিয়োগকর্তা বহন করতে পারেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীকে দিতে হয় |
| এজেন্ট ফি | ১,০০,০০০ – ৩,০০,০০০ | বৈধ এজেন্সি হলে নির্দিষ্ট হারে |
| ফ্লাইট টিকিট | ৫০,০০০ – ৮০,০০০ | একমুখী |
| ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স | ৫,০০০ – ১০,০০০ | ৩ মাসের জন্য |
| আবাসন (প্রথম মাস) | ২০,০০০ – ৩০,০০০ | হোস্টেল বা ফ্ল্যাট ভাড়া |
| অন্যান্য খরচ (মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি) | ১০,০০০ – ১৫,০০০ | বিএমইটি ও স্থানীয় খরচ |
পোল্যান্ডে জনপ্রিয় চাকরির খাত ও বেতন কাঠামো (২০২৬)
পোল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে নিম্নলিখিত খাতে:
- উৎপাদন ও কারখানা: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ইলেকট্রনিক্স, গার্মেন্টস
- কৃষি: মৌসুমি ফসল সংগ্রহ, পশুপালন
- নির্মাণ: রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার
- পরিবহন: ট্রাক ড্রাইভার, ডেলিভারি
- আতিথেয়তা: রেস্তোরাঁ, হোটেল
- আইটি: সফটওয়্যার ডেভেলপার, ডেটা এনালিস্ট
২০২৬ সালে পোল্যান্ডে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৮.১০ জ্লটি (প্রায় ৮০০ টাকা) এবং মাসিক প্রায় ৪,৩০০ জ্লটি (প্রায় ১,২০,০০০ টাকা)। তবে অভিজ্ঞতা ও খাতভেদে বেতন অনেক বেশি হতে পারে।
| পেশা | মাসিক বেতন (জ্লটি) | বাংলাদেশি টাকায় (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| কারখানা কর্মী | ৪,৫০০ – ৫,৫০০ | ১,২৫,০০০ – ১,৫০,০০০ |
| নির্মাণ শ্রমিক | ৫,০০০ – ৬,৫০০ | ১,৪০,০০০ – ১,৮০,০০০ |
| ট্রাক ড্রাইভার | ৬,০০০ – ৮,০০০ | ১,৭০,০০০ – ২,২০,০০০ |
| আইটি ডেভেলপার | ১০,০০০ – ১৫,০০০ | ২,৮০,০০০ – ৪,২০,০০০ |
| রেস্তোরাঁ কর্মী | ৪,০০০ – ৫,০০০ | ১,১০,০০০ – ১,৪০,০০০ |
পোল্যান্ডে জীবনযাত্রার খরচ ২০২৬
পোল্যান্ডে জীবনযাত্রার খরচ পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় অনেক কম। একটি একক ব্যক্তির জন্য মাসিক খরচ প্রায় ২,৫০০ – ৩,৫০০ জ্লটি (প্রায় ৭০,০০০ – ৯৮,০০০ টাকা), যা আপনার বেতনের অর্ধেকেরও কম।
| খাত | মাসিক খরচ (জ্লটি) | বাংলাদেশি টাকায় (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| আবাসন (রুম শেয়ার) | ১,০০০ – ১,৫০০ | ২৮,০০০ – ৪২,০০০ |
| খাবার | ৮০০ – ১,২০০ | ২২,০০০ – ৩৪,০০০ |
| পরিবহন | ২০০ – ৩০০ | ৫,৬০০ – ৮,৪০০ |
| ইন্টারনেট ও মোবাইল | ১০০ – ১৫০ | ২,৮০০ – ৪,২০০ |
| বিমা ও অন্যান্য | ২০০ – ৩০০ | ৫,৬০০ – ৮,৪০০ |
ভিসা আবেদনে সাধারণ ভুল ও প্রত্যাখ্যানের কারণ
অনেক আবেদনকারী ছোটখাটো ভুলের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হন। নিচে সাধারণ কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
- অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট: কোনো কাগজপত্র না থাকলে বা ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- ভুল তথ্য: মিথ্যা তথ্য দিলে ভিসা প্রত্যাখ্যান তো হবেই, সাথে ভবিষ্যতের জন্যও ব্ল্যাকলিস্ট হতে পারেন।
- অপর্যাপ্ত ফান্ড: পোল্যান্ডে থাকার সময়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ না থাকলে।
- নিয়োগকর্তার অনিয়ম: নিয়োগকর্তার ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন না থাকলে।
- সাক্ষাৎকারে দুর্বল উপস্থাপনা: প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিতে পারলে।
প্রত্যাখ্যান এড়াতে করণীয়
- সব ডকুমেন্ট চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তুত করুন।
- সাক্ষাৎকারের আগে সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করুন।
- নিয়োগকর্তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রেখে ওয়ার্ক পারমিটের অবস্থা নিশ্চিত করুন।
- বাংলাদেশের বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সাহায্য নিন (বিএমইটি লাইসেন্স যাচাই করুন)।
পোল্যান্ডে যাওয়ার পর করণীয়: রেজিস্ট্রেশন, ওয়ার্ক পারমিট ও কর
পোল্যান্ডে পৌঁছানোর পর নিম্নলিখিত কাজগুলো ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করুন:
- স্থানীয় নিবন্ধন: থাকার ঠিকানায় ৩০ দিনের মধ্যে মিউনিসিপ্যাল অফিসে নিবন্ধন করুন।
- ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিটের মূল কপি নিন।
- পেশক নম্বর (PESEL): সামাজিক নিরাপত্তা ও করের জন্য পোলিশ জাতীয় পরিচয় নম্বর নিন।
- কর নিবন্ধন: ট্যাক্স অফিসে (Urząd Skarbowy) নিবন্ধন করুন এবং ট্যাক্স আইডি (NIP) সংগ্রহ করুন।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন: বেতন ও লেনদেনের জন্য স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন।
বাংলাদেশ থেকে পোল্যান্ডে যেতে বিএমইটি ও ইমিগ্রেশন নিয়ম
বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যেতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বিওইএসএল) বা বিএমইটি (Bureau of Manpower, Employment and Training) থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
- বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন করুন।
- বিএমইটি থেকে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (পুলিশ ভেরিফিকেশন) নিন।
- ইমিগ্রেশন পুলিশের অনুমোদন নিন।
- বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন।
পরিবারের সদস্যদের আনার সুযোগ ও শর্তাবলী
পোল্যান্ডে কর্মরত অবস্থায় আপনি আপনার স্বামী/স্ত্রী ও নাবালক সন্তানদের আনতে পারবেন, তবে কিছু শর্ত আছে:
- আপনার ওয়ার্ক পারমিট কমপক্ষে ২ বছরের জন্য বৈধ হতে হবে।
- আপনার আয় এমন হতে হবে যা পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট (প্রতি মাসে প্রায় ১,২০০ জ্লটি অতিরিক্ত)।
- পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা ভিসা আবেদন করতে হবে (টাইপ ডি)।
- তারা পোল্যান্ডে কাজ করার অনুমতিও পাবেন (নির্দিষ্ট শর্তে)।
পরিবারের সদস্যদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ, তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করুন।
প্রতারণা এড়ানোর কৌশল ও নিরাপদ অভিবাসন টিপস
বিদেশ যাওয়ার পথে অনেকেই প্রতারিত হন। তাই নিচের বিষয়গুলো মেনে চলুন:
- শুধুমাত্র বিএমইটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে কাজ করুন।
- এজেন্সির ফি যাচাই করুন; সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা (বাংলাদেশ থেকে) এর বেশি নয়।
- নিয়োগকর্তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখুন এবং চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ুন।
- কোনো এজেন্টের কাছে পাসপোর্ট জমা দেবেন না।
- ভিসা অনুমোদনের আগে কোনো বড় অগ্রিম অর্থ প্রদান করবেন না।
- পোল্যান্ড দূতাবাস বা ভিসা কেন্দ্রের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো সাইটে আবেদন করবেন না।
সরকারি ও দূতাবাসের অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করুন
নিয়ম ও খরচ সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ তথ্য নিম্নলিখিত অফিসিয়াল সূত্র থেকে যাচাই করুন:
- পোল্যান্ড দূতাবাস, ঢাকা: https://www.gov.pl/web/bangladesh
- বিএমইটি: https://www.bmet.gov.bd
- পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: https://www.gov.pl/web/diplomacy
- ভিএফএস গ্লোবাল (ভিসা আবেদন কেন্দ্র): https://www.vfsglobal.com
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে?
সাধারণত ১৫-৩০ দিন, তবে নিয়োগকর্তার ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে ২-৩ মাসও লাগতে পারে।
পোল্যান্ডে কাজের ভিসার ফি কত?
টাইপ ডি ভিসার ফি ৮০ ইউরো (২০২৬ সালে)। তবে ভিসা কেন্দ্রের সার্ভিস চার্জ আলাদা।
পোল্যান্ডে যাওয়ার পর পরিবারকে নিয়ে যেতে পারব কি?
হ্যাঁ, যদি আপনার ওয়ার্ক পারমিট ২ বছরের বেশি হয় এবং আয় যথেষ্ট হয়। তবে তাদের জন্য আলাদা ভিসা লাগবে।
পোল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন কত?
ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ২৮.১০ জ্লটি, তবে খাতভেদে মাসিক ৪,৫০০ থেকে ৮,০০০ জ্লটি পর্যন্ত হতে পারে।
ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কী করব?
প্রত্যাখ্যানের কারণ জানতে চিঠি পাঠান, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংশোধন করে আবার আবেদন করতে পারেন। তবে আপিলের সময়সীমা ১৪ দিন।
মূল উপসংহার
- পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এ আবেদনের আগে নতুন নিয়ম ও খরচ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
- বৈধ এজেন্সি ও নিয়োগকর্তার সাথে কাজ করুন, প্রতারণা এড়াতে সতর্ক থাকুন।
- প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট সঠিকভাবে প্রস্তুত করুন এবং সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসী হোন।
- পোল্যান্ডে পৌঁছে রেজিস্ট্রেশন ও কর সংক্রান্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করুন।
- পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকে শর্তগুলো যাচাই করুন।
Frequently asked questions
পোল্যান্ড ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে?
সাধারণত ১৫-৩০ দিন, তবে নিয়োগকর্তার ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে ২-৩ মাসও লাগতে পারে।
পোল্যান্ডে কাজের ভিসার ফি কত?
টাইপ ডি ভিসার ফি ৮০ ইউরো (২০২৬ সালে)। তবে ভিসা কেন্দ্রের সার্ভিস চার্জ আলাদা।
পোল্যান্ডে যাওয়ার পর পরিবারকে নিয়ে যেতে পারব কি?
হ্যাঁ, যদি আপনার ওয়ার্ক পারমিট ২ বছরের বেশি হয় এবং আয় যথেষ্ট হয়। তবে তাদের জন্য আলাদা ভিসা লাগবে।
পোল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন কত?
ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ২৮.১০ জ্লটি, তবে খাতভেদে মাসিক ৪,৫০০ থেকে ৮,০০০ জ্লটি পর্যন্ত হতে পারে।
ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কী করব?
প্রত্যাখ্যানের কারণ জানতে চিঠি পাঠান, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংশোধন করে আবার আবেদন করতে পারেন। তবে আপিলের সময়সীমা ১৪ দিন।