Key takeaways
- ২০২৬ সালে পাসপোর্ট নবায়ন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায়, সাথে ডাকযোগে ডেলিভারির সুবিধা।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিল হয়েছে, যদি আপনার আগের পাসপোর্ট ২০১০ সালের পর ইস্যু হয়ে থাকে।
- নিয়মিত নবায়নে ফি ৪৮ পৃষ্ঠার জন্য ৪,০৫০ টাকা ও ৬৪ পৃষ্ঠার জন্য ৫,৭৫০ টাকা; জরুরিতে ১০০ ডলার।
- প্রক্রিয়াকরণ সময় সাধারণত ১৫-২০ কার্যদিবস, জরুরিতে ২-৩ দিন।
- বিএমইটির হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন চালু হয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়ক।
২০২৬ সালে বাংলাদেশি প্রবাসীরা এখন সম্পূর্ণ অনলাইনে e-Passport পোর্টাল বা ‘Bangladesh e-Passport’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারবেন। নবায়ন ফি ৪৮ পৃষ্ঠার জন্য প্রায় ৪,০৫০ টাকা (৩৫ ডলার) এবং ৬৪ পৃষ্ঠার জন্য ৫,৭৫০ টাকা (৫০ ডলার)। প্রক্রিয়াকরণে সাধারণত ১৫-২০ কার্যদিবস লাগে, তবে জরুরি ক্ষেত্রে ২-৩ দিনে এবং নির্দিষ্ট দেশে ডাকযোগে পাসপোর্ট পাওয়া যায়। সরকারের এই পরিবর্তনের ফলে প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিতির ঝামেলা অনেকটাই কমে গেছে।
মূল বিষয়গুলো:
- ২০২৬ সালে সম্পূর্ণ অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়ন চালু হয়েছে।
- ডাকযোগে পাসপোর্ট পাওয়ার সুবিধা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইইউ) নির্দিষ্ট দেশে পাবেন।
- জরুরি নবায়নে ২-৩ দিনেই পাসপোর্ট হাতে পেতে পারেন।
- হালনাগাদ ফি কাঠামো ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে।
- বিএমইটি-র নতুন হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন সেবা চালু হয়েছে।

২০২৬ সালে বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নের নতুন নিয়ম কী?
সরকারি হিসাবে ২০২৫ সালে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ১২ লক্ষেরও বেশি ই-পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫% বেশি। এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের শর্ত বাতিল। আপনার আগের পাসপোর্টটি যদি ২০১০ সালের পরে ইস্যু করা হয় এবং তাতে কোনো প্রতিকূল মন্তব্য না থাকে, তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই সরাসরি নবায়ন করতে পারবেন। এর ফলে যারা বিদেশে থাকেন এবং দেশে ফিরে পুলিশ ভেরিফিকেশন করাতে পারতেন না, তাদের জন্য বিশাল স্বস্তি এসেছে।
এছাড়া ই-পাসপোর্ট পোর্টাল (www.epassport.gov.bd) এবং ‘বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে। আবেদনের পর নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বায়োমেট্রিক জমা দিতে হবে, তবে নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু দেশে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইইউভুক্ত দেশ) ডাকযোগে সরাসরি ঠিকানায় পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। দূতাবাসে যাওয়ার ঝামেলা কমাতে এটা একটি বড় সুবিধা। তবে মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশেই এখনও বায়োমেট্রিকের জন্য দূতাবাসে যেতে হবে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো বিএমইটি (BMET)-র হোয়াটসঅ্যাপ ভিত্তিক হেল্পলাইন, যেখানে ছবি ও ডকুমেন্ট পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ নেওয়া যায়। এই সেবাটি বিশেষ করে সেসব প্রবাসীর জন্য, যারা আরবি বা ইংরেজি পোর্টালে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এবং বাংলায় সরাসরি সাহায্য চান।
তবে সতর্ক থাকবেন— পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে যেন কোনো প্রতারকের খপ্পরে না পড়েন। শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং দূতাবাসের পরামর্শ মেনে চলুন। ফি কাঠামোও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হালনাগাদ করা হয়েছে, যা নিচে বিস্তারিত বলা হয়েছে। মনে রাখবেন, নিয়ম ও খরচ সময়ের সাথে বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে অনলাইনে আবেদন
অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়ন করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন। এই পদ্ধতি ৯০% ক্ষেত্রেই কাজ করে এবং ২০২৬ সালে আরও উন্নত করা হয়েছে।
ধাপ ১: ই-পাসপোর্ট পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন
প্রথমেই epassport.gov.bd-তে গিয়ে বা মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। আপনার বৈধ ই-মেইল ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের পর একটি ভেরিফিকেশন লিংক বা ওটিপি আসবে, তা ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট চালু করুন।
ধাপ ২: আবেদন ফর্ম পূরণ
লগইন করে “Renew Passport” বা “পাসপোর্ট নবায়ন” অপশন নির্বাচন করুন। আপনার পুরাতন পাসপোর্টের তথ্য (পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যুর তারিখ) দিতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ঠিকানা (দেশ ও শহর), পেশা ইত্যাদি পূরণ করুন। প্রতিটি ঘর মনোযোগ দিয়ে সঠিক পূরণ করা জরুরি, কারণ ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
ধাপ ৩: ডকুমেন্ট আপলোড
নির্ধারিত সাইজ ও ফরম্যাটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন। সচরাচর জেপিজি বা পিডিএফ ফাইল চাওয়া হয়। মনে রাখবেন, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হতে হবে এবং ছবিটি যেন ৬ মাসের মধ্যে তোলা হয়। ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার কপি স্পষ্টভাবে আপলোড করুন, যাতে মেয়াদ ও অন্যান্য তথ্য পাঠযোগ্য থাকে।
ধাপ ৪: ফি পরিশোধ
ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড (ভিসা, মাস্টারকার্ড) বা উপলব্ধ মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন bKash, Nagad) ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করুন। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার পাসপোর্টের ধরন অনুযায়ী ফি দেখিয়ে দেবে। পেমেন্ট সাকসেসফুল হলে একটি রসিদ জেনারেট হবে, যা সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৫: বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট
অনেক দেশে অনলাইনেই দূতাবাসে বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। দেশ অনুযায়ী অপশন পাবেন। বুকিং কনফার্মেশন নম্বর ও তারিখ মনে রাখুন। কিছু দেশে নির্দিষ্ট সময় পরে হাঁটাহাঁটি করেও বায়োমেট্রিক দেওয়া যায়, কিন্তু অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে সময় বাঁচে।
ধাপ ৬: বায়োমেট্রিক জমা ও অপেক্ষা
নির্ধারিত তারিখে দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি দিন। এই ধাপের পর আর কোনো ঝামেলা নেই। পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে ই-মেইল বা এসএমএস নোটিফিকেশন পাবেন, এবং ডাকযোগে বা দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিদেশ থেকে পাসপোর্ট নবায়নের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করতে নিচের কাগজগুলো সাধারণত প্রয়োজন হবে। তবে দেশ ও দূতাবাসভেদে চাহিদা সামান্য ভিন্ন হতে পারে।
- বর্তমান পাসপোর্ট: মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরেও আবেদন করা যায়, তবে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
- বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা রেসিডেন্স ভিসা: প্রবাসী কর্মীদের জন্য এটি অপরিহার্য। আবেদনের সময় ভিসার মেয়াদ অন্তত ৬ মাস বাকি থাকা বাঞ্ছনীয়।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ: স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি: অনলাইনে আপলোডের জন্য নির্দিষ্ট সাইজ ও ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি দিতে হবে (সাধারণত সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, ৩০০ ডিপিআই, ৩৫×৪৫ মিমি)। তবে অনেক দূতাবাসে বায়োমেট্রিকের সময় সরাসরি ছবি তুলে নেয়।
- ঠিকানা প্রমাণ: বিদেশের বর্তমান ঠিকানা (ইউটিলিটি বিল, বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র ইত্যাদি) কিছু ক্ষেত্রে দেখাতে বলা হতে পারে।
- পূর্বের পাসপোর্টের ফটোকপি: যদি পূর্বের পাসপোর্ট হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে জিডি (সাধারণ ডায়েরি)-র কপি প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ থাকলে নবায়ন করা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে। নিরাপদ থাকতে হলে পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস আগে থেকেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। তাছাড়া, কিছু দেশে অতিরিক্ত ফর্ম বা মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগতে পারে, সেক্ষেত্রে দূতাবাসের নির্দেশনাই চূড়ান্ত।

পাসপোর্ট নবায়ন খরচ কত? (সারণী সহ)
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে পুনর্নির্ধারিত ফি কাঠামো অনুযায়ী, খরচের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
| পাসপোর্টের ধরন | পৃষ্ঠাসংখ্যা | মেয়াদ | ফি (টাকায়) | ফি (ডলার প্রায়) | প্রক্রিয়াকরণ সময় | ডাকযোগে অতিরিক্ত সময় |
|---|---|---|---|---|---|---|
| সাধারণ ই-পাসপোর্ট | ৪৮ | ৫ বছর | ৪,০৫০ | ৩৫ | ১৫-২০ কার্যদিবস | ৫-৭ কার্যদিবস |
| সাধারণ ই-পাসপোর্ট | ৬৪ | ৫ বছর | ৫,৭৫০ | ৫০ | ১৫-২০ কার্যদিবস | ৫-৭ কার্যদিবস |
| জরুরি নবায়ন (যেকোনো) | – | – | ১০০ ডলার | ১০০ | ২-৩ কার্যদিবস | প্রযোজ্য নয় |
অনলাইনে ফি পরিশোধের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড (ভিসা, মাস্টারকার্ড) এবং কিছু দেশের ক্ষেত্রে স্থানীয় মোবাইল ব্যাংকিং অপশনও চালু আছে। দূতাবাসে সরাসরি জমা দেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রেই কনস্যুলার সার্ভিস চার্জ নামে অতিরিক্ত ১০-২০ ডলার লাগতে পারে, যা দেশ ও মিশনভেদে ভিন্ন। জরুরি পরিষেবার জন্য আলাদা কাউন্টার ও ফি প্রযোজ্য।

জরুরি পাসপোর্ট নবায়ন ও বিশেষ পরিস্থিতি
জরুরি পাসপোর্ট নবায়ন সেবার মাধ্যমে অনেকেই ২-৩ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যান। এটি তাদের জন্য যাদের বিদেশযাত্রার তাৎক্ষণিক প্রয়োজন (যেমন ভিসা রিনিউ, চাকরির ইন্টারভিউ) অথবা পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০০ ডলার ফি প্রযোজ্য এবং সরাসরি দূতাবাস বা নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। অনেক দূতাবাসে ইন্টারনেটে জরুরি আবেদন জমা দেওয়ার পর আলাদা ইমেইলে কাগজপত্র পাঠানোর নিয়ম আছে।
যারা মধ্যপ্রাচ্যে আছেন (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান) তাদের জন্য জরুরি সেবার সময় দূতাবাসভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত উক্ত দেশের শ্রমিকদের প্রয়োজন বেশী থাকে বলে দূতাবাস দ্রুত সেবা দিয়ে থাকে। ইউরোপ-আমেরিকায় ডাকযোগে ডেলিভারি পেতে চাইলে জরুরি তালিকায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে, তবে ৫-৭ কার্যদিবসের মধ্যে পেয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে।
বিভিন্ন দেশে পাসপোর্ট নবায়নের বিশেষ প্রক্রিয়া
আপনি যে দেশেই থাকুন না কেন, মূল প্রক্রিয়া একই, তবুও নিচে কিছু দেশ-সুনির্দিষ্ট টিপস দেয়া হলো:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ডাকযোগে ডেলিভারি সুবিধা সবচেয়ে কার্যকর। আবেদন সম্পন্ন হলে ইউএসপিএস ট্র্যাকিং নম্বর ইমেইলে পাবেন। নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসির মত বড় শহরে ৪-৫ দিনেই পৌঁছায়।
- যুক্তরাজ্য: লন্ডন দূতাবাসে বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে জরুরি সেবার জন্য আলাদা স্লট আছে। ডাক বিভাগের রেকর্ডেড ডেলিভারি ব্যবহার করা হয়।
- কানাডা: অটোয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। টরন্টো অঞ্চলে অনেক প্রবাসী থাকায় মাঝে মাঝে কনস্যুলার ক্যাম্প বসে।
- সৌদি আরব: রিয়াদ, জেদ্দা দূতাবাসে অনলাইন আবেদনের পর বিকালে পাসপোর্ট জমা নেওয়ার সুযোগ আছে। কর্মীদের জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করে দিলে ঝামেলা কম হয়।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবি ও দুবাই দূতাবাসে বায়োমেট্রিকের জন্য আগে থেকে অনলাইনে তারিখ বুক করে নেওয়া ভাল। অনেক সময় ওয়াক-ইন সুযোগ থাকে।
- মালয়েশিয়া: কুয়ালালামপুর দূতাবাসে সেবা গ্রহণে এমজিএস (মাই গ্রান্ড সার্ভিস) পদ্ধতি প্রচলিত। ফি পরিশোধে স্থানীয় ব্যাংক ট্রান্সফারও গ্রহণ করা হয়।
পাসপোর্ট নবায়নের সাধারণ ভুল ও পরামর্শ
অনলাইনে আবেদনরত অবস্থায় কিছু সাধারণ ভুল মানুষ করে থাকেন, যা এড়িয়ে গেলে আপনার পাসপোর্ট নবায়ন সহজ হবে:
- ভুল ছবি আপলোড: অনেকেই পুরনো ছবি বা সেলফি দিয়ে ফেলেন। নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশনের ছবি দিন।
- নাম বা জন্মতারিখে অমিল: পাসপোর্ট ও এনআইডির তথ্য হুবহু মিলতে হবে।
- ভিসার মেয়াদ স্বল্প: ভিসার মেয়াদ ৬ মাসের কম থাকলে বাড়ানোর ব্যবস্থা আগে নিন।
- অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট: আবেদনের সময় সব স্ক্যান কপি স্পষ্ট ও সম্পূর্ণ কি না যাচাই করুণ।
- প্রতারকদের ফাঁদ: ফেসবুক গ্রুপ বা তৃতীয় পক্ষকে বিশ্বাস করবেন না, যারা টাকার বিনিময়ে দ্রুত পাসপোর্ট দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এছাড়া শুরুতেই পুরো প্রক্রিয়াটি নিজে করার চেষ্টা করুন। কোনো জটিলতা মনে হলে দূতাবাসের হেল্পলাইন বা বিএমইটির হোয়াটসঅ্যাপ সেবা ব্যবহার করতে পারেন।
পাসপোর্ট নবায়ন নিয়ে কিছু জরুরি প্রশ্ন (FAQ)
এখানে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো, যা আপনার অনেক দ্বিধা দূর করবে:
প্রশ্ন: পাসপোর্ট নবায়নে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে?
উত্তর: ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে, যদি আপনার পূর্বের পাসপোর্ট ২০১০ সালের পর ইস্যু করা হয় এবং কোনো নেতিবাচক রেকর্ড না থাকে, তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন: জরুরি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আলাদা কী করতে হবে?
উত্তর: অনলাইনে আবেদনের সময় “জরুরি” অপশন সিলেক্ট করে ফি পরিশোধ করুন। এরপর আপনার নিকটস্থ দূতাবাসে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পারবেন।
প্রশ্ন: প্রবাসীরা কি ডাকযোগে পাসপোর্ট পেতে পারেন?
উত্তর: নির্দিষ্ট কিছু দেশে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইইউ) ডাকযোগে সরাসরি বাসায় পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়। অন্যান্য দেশে দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
প্রশ্ন: মোবাইলের মাধ্যমে কীভাবে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করতে পারি?
উত্তর: ‘Bangladesh e-Passport’ অ্যাপটি গুগল প্লে বা অ্যাপল স্টোর থেকে ডাউনলোড করে একই প্রক্রিয়ায় আবেদন করুন। অ্যাপটি ব্যবহারকারী-বান্ধব এবং সব সুবিধা পাবেন।
প্রশ্ন: পুরাতন পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নবায়ন করা যাবে?
উত্তর: হারানো পাসপোর্টের জন্য থানায় জিডি করে তার কপি এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট দিয়ে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগতে পারে বলে কিছুটা সময় বেশি লাগে।
Frequently asked questions
পাসপোর্ট নবায়নে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে?
২০২৬ সালের নতুন নিয়মে, যদি আপনার পূর্বের পাসপোর্ট ২০১০ সালের পর ইস্যু করা হয় এবং কোনো নেতিবাচক রেকর্ড না থাকে, তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন নেই।
জরুরি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আলাদা কী করতে হবে?
অনলাইনে আবেদনের সময় “জরুরি” অপশন সিলেক্ট করে ফি পরিশোধ করুন। এরপর আপনার নিকটস্থ দূতাবাসে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পারবেন।
প্রবাসীরা কি ডাকযোগে পাসপোর্ট পেতে পারেন?
নির্দিষ্ট কিছু দেশে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইইউ) ডাকযোগে সরাসরি বাসায় পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়। অন্যান্য দেশে দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
মোবাইলের মাধ্যমে কীভাবে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করতে পারি?
‘Bangladesh e-Passport’ অ্যাপটি গুগল প্লে বা অ্যাপল স্টোর থেকে ডাউনলোড করে একই প্রক্রিয়ায় আবেদন করুন। অ্যাপটি ব্যবহারকারী-বান্ধব এবং সব সুবিধা পাবেন।
পুরাতন পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নবায়ন করা যাবে?
হারানো পাসপোর্টের জন্য থানায় জিডি করে তার কপি এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট দিয়ে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগতে পারে বলে কিছুটা সময় বেশি লাগে।