ওমান ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬: নতুন নিয়ম ও সম্পূর্ণ গাইড

ওমান ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এর নতুন নিয়ম, খরচ, বেতন, বিএমইটি প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ জানুন। সম্পূর্ণ গাইড।

Key takeaways

  • ২০২৬ সালে ওমান ওয়ার্ক ভিসা সম্পূর্ণ অনলাইনে ই-ভিসা সিস্টেমে আবেদন করতে হবে।
  • ন্যূনতম বেতন ২২৫ ওমানি রিয়াল নির্ধারিত, সাথে স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক।
  • বাংলাদেশ থেকে যেতে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ও ই-চালান রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন।
  • ভিসা ফি ৫০-২০০ রিয়াল, মোট খরচ ৮০,০০০-১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
  • জরুরি প্রয়োজনে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও বিএমইটি হটলাইনে যোগাযোগ করুন।

ওমান ওয়ার্ক ভিসা পেতে ২০২৬ সালে সম্পূর্ণ অনলাইনে ই-ভিসা সিস্টেমে আবেদন করতে হবে। ন্যূনতম বেতন ২২৫ ওমানি রিয়াল (প্রায় ৭২,০০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ থেকে যেতে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ও ই-চালান রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন। ভিসা ফি ৫০ থেকে ২০০ রিয়াল (প্রায় ১৬,০০০-৬৪,০০০ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।

Oman skyline Muscat modern buildings — ওমান ওয়ার্ক ভিসা
Oman skyline Muscat modern buildings

ওমান ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬: নতুন নিয়মে যা জানা জরুরি

২০২৬ সালে ওমান সরকার ওয়ার্ক ভিসা প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। প্রথমত, ই-ভিসা সিস্টেম এখন সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক—কোনো কাগজের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। আপনি বা আপনার নিয়োগকর্তা উভয়েই অনলাইনে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন চালু করা হয়েছে, যা ভিসা আবেদন ও নবায়ন উভয় ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে আপনার আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি তোলা হবে, যা জালিয়াতি রোধে সহায়ক।

ওমান ভিশন ২০৪০-এর আওতায় সরকার বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোটা নির্ধারণ করেছে। তবে নির্মাণ, গার্মেন্টস, হোটেল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে এখনও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ন্যূনতম বেতন ২২৫ রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি। একইসঙ্গে, পরিবার নিয়ে যাওয়ার নিয়ম কিছুটা শিথিল হয়েছে—এখন ১,০০০ রিয়াল বেতনসীমা থাকলেও বিশেষ কিছু শর্ত সহজ করা হয়েছে।

passport and visa documents on table
passport and visa documents on table

ওমানে ওয়ার্ক ভিসা পেতে কী কী ডকুমেন্ট প্রয়োজন?

আবেদনের জন্য নিচের ডকুমেন্টগুলো ঠিকভাবে প্রস্তুত রাখুন:

  • পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস বৈধতা সম্পন্ন মূল পাসপোর্ট এবং অন্তত ২টি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের স্পষ্ট স্ক্যান কপি (তথ্যপূর্ণ পৃষ্ঠা) জমা দিতে হবে।
  • চুক্তিপত্র (এমপ্লয়মেন্ট কন্ট্রাক্ট): ওমানের নিয়োগকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র, যাতে বেতন, কাজের ধরন, মেয়াদ ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে। ইংরেজি বা আরবি ভাষায় হতে হবে।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: সর্বোচ্চ শিক্ষাগত সনদ ও অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। ওমানের শ্রম বাজার অনুযায়ী, সাধারণত মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাস হলেই চলে, তবে দক্ষ পদের জন্য সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট প্রয়োজন।
  • ছবি: পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক ২ কপি রঙিন ছবি (ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা, ৪.৫ x ৩.৫ সেমি)।
  • স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট: ওমান সরকার কর্তৃক স্বীকৃত হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট। সাধারণত বুকের এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা, এইচআইভি ও হেপাটাইটিস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে বিএমইটি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে এই পরীক্ষা করাতে হবে।
  • বায়োমেট্রিক ডেটা: আবেদনের সময় আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ স্ক্যান প্রদান করতে হবে।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে (বিশেষ করে ড্রাইভিং বা নিরাপত্তা কাজের জন্য)।

গুরুত্বপূর্ণ: আপনার রিক্রুটিং এজেন্সি বা নিয়োগকর্তা যেন ডকুমেন্টগুলোর যথার্থতা নিশ্চিত করেন। কোনো ভুল তথ্য দিলে ভিসা সরাসরি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

online visa application form on computer screen
online visa application form on computer screen

ওমানে ওয়ার্ক ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া ও সময় কত?

২০২৬ সালে ওমান ওয়ার্ক ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো:

  1. চাকরির অফার নিশ্চিত করুন: প্রথমে ওমানের কোনো নিয়োগকর্তা আপনার জন্য ভিসা স্পন্সর করবেন। তারা চুক্তিপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ওমানের রয়েল ওমান পুলিশের ভিসা পোর্টাল-এ আবেদন শুরু করবেন।
  2. অনলাইন ফরম পূরণ: নিয়োগকর্তা আপনার বিবরণ (পাসপোর্ট নম্বর, নাম, জাতীয়তা ইত্যাদি) দিয়ে অনলাইন ফরম পূরণ করবেন। এরপর আপনার ইমেইলে একটি রেফারেন্স নম্বর আসবে।
  3. ডকুমেন্ট আপলোড: আপনার পাসপোর্ট, ছবি, চুক্তিপত্র, সনদ ও মেডিকেল রিপোর্টের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। ফাইলের সাইজ ও ফরম্যাট সম্পর্কে নির্দেশনা পোর্টালে দেওয়া থাকে।
  4. ফি প্রদান: অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে ভিসা ফি জমা দিন। ফি প্রদানের পর আবেদন প্রক্রিয়াজাত শুরু হবে।
  5. বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন: বাংলাদেশে অবস্থান করলে, নির্ধারিত ভিসা সেন্টারে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে এ ধরনের কেন্দ্র রয়েছে।
  6. অপেক্ষা ও অনুমোদন: সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ভিসার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। অনুমোদিত হলে ই-ভিসা ইমেইলে পাঠানো হবে।
  7. বিমান টিকিট ও যাত্রা: ভিসা হাতে পেলে বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে বিমান টিকিট কাটুন। ওমানে পৌঁছানোর পর ৩০ দিনের মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষা ও আবাসিক কার্ড (রেসিডেন্সি পারমিট) এর জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

লক্ষ্য করুন: আবেদনের অগ্রগতি আপনি নিজেও ই-ভিসা পোর্টালে রেফারেন্স নম্বর দিয়ে ট্র্যাক করতে পারবেন। কোনো সমস্যায় ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইন (নিচে দেওয়া আছে) অথবা বাংলাদেশে অবস্থিত ওমান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Omani Rial currency notes
Omani Rial currency notes

ওমানে ওয়ার্ক ভিসার খরচ কত?

ওমান ওয়ার্ক ভিসার খরচ কাজের ধরন ও ভিসার মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। নিচে একটি ছক দেওয়া হলো:

খরচের খাত পরিমাণ (ওমানি রিয়াল) বাংলাদেশি টাকায় প্রায়
ওয়ার্ক ভিসা ফি (সাধারণ শ্রমিক) ৫০ – ১০০ ১৬,০০০ – ৩২,০০০
ওয়ার্ক ভিসা ফি (দক্ষ/পেশাদার) ১০০ – ২০০ ৩২,০০০ – ৬৪,০০০
স্বাস্থ্য বীমা (বার্ষিক, নিয়োগকর্তা প্রদেয়) ৩০ – ৭০ ৯,৬০০ – ২২,৪০০
বায়োমেট্রিক ফি ১০ – ২০ ৩,২০০ – ৬,৪০০
মেডিকেল পরীক্ষা (বাংলাদেশে) ২,৫০০ – ৫,০০০ (টাকা)
বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ও ই-চালান ১,০০০ – ২,০০০ (টাকা)
এজেন্সি সার্ভিস চার্জ ৫০,০০০ – ১,২০,০০০ (টাকা)
বিমান ভাড়া (একমুখী) ২৫,০০০ – ৪০,০০০ (টাকা)

মোট আনুমানিক খরচ: একজন বাংলাদেশি কর্মীর ওমানে যেতে ভিসা, এজেন্সি ফি, টিকিটসহ সর্বমোট ৮০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। খরচ কমানোর জন্য সরাসরি বৈধ ওমানি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা অথবা কমিশন ভিত্তিক রিক্রুটিং এজেন্সি এড়িয়ে চলাই ভালো। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ফি চাওয়া হলে তা প্রতারণার লক্ষণ হতে পারে। বিএমইটি-এর ওয়েবসাইটে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারিত আছে, তা জেনে নিন।

বাংলাদেশ থেকে ওমানে যাওয়ার নিয়ম ও বিএমইটি প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ থেকে আইনত ওমানে যেতে চাইলে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। নিচে ধাপগুলো দেওয়া হলো:

  1. বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন: অবশ্যই বায়রা (BAIRA)-এর সদস্য এজেন্সির মাধ্যমে যেতে হবে। বিএমইটি-এর ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত এজেন্সির তালিকা আছে; সেখান থেকে যাচাই করে নিন।
  2. ই-চালান সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন: ২০২৬ সালে বিএমইটি ই-চালান ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করেছে। এজেন্সির মাধ্যমে অথবা নিজে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক-এর পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এতে আপনার তথ্য সংরক্ষিত হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি সহায়তা পেতে সুবিধা হবে।
  3. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা: পাসপোর্ট, ভিসা কপি, চুক্তিপত্র, ছবি, মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ আবেদন ফরম জমা দিন।
  4. বিএমইটি ফি পরিশোধ: নির্ধারিত ফি (বর্তমানে প্রায় ১,০০০ টাকা) জমা দিয়ে স্লিপ সংগ্রহ করুন।
  5. ক্লিয়ারেন্স কার্ড গ্রহণ: সবকিছু ঠিক থাকলে বিএমইটি একটি ক্লিয়ারেন্স কার্ড প্রদান করে, যা বিমানবন্দরে দেখাতে হবে। এই কার্ড ছাড়া ইমিগ্রেশন পাস করবেন না।

সতর্কতা: কোনো এজেন্সি যদি বিএমইটি ছাড়াই আপনাকে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি প্রতারণা। এছাড়া পর্যটন ভিসায় ওমানে গিয়ে সেখানে কাজের ভিসায় পরিবর্তনের প্রলোভনেও পা দেবেন না—এটি বেআইনি এবং ধরা পড়লে জেল-জরিমানা হতে পারে।

ওমানে ওয়ার্ক ভিসা নবায়ন ও চাকরি পরিবর্তনের নিয়ম

ভিসা নবায়ন: ওমানে ওয়ার্ক ভিসা সাধারণত ১ বা ২ বছরের জন্য দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষে নবায়নের জন্য নিয়োগকর্তাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ২০২৬ সালের বড় পরিবর্তন হলো—প্রতিবার নবায়নের সময় বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক। এটি রেসিডেন্সি কার্ড নবায়নের সাথেও যুক্ত। নবায়ন ফি প্রায় ৫০-১০০ রিয়াল, যা নিয়োগকর্তা সাধারণত প্রদান করেন। তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার চুক্তিতে এই খরচ বহনের কথা উল্লেখ আছে কিনা।

চাকরি পরিবর্তন: মূল নিয়ম হলো, নিয়োগকর্তার অনুমতি (NOC) ছাড়া চাকরি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে ২০২৬ সালে কিছু ব্যতিক্রম যোগ হয়েছে: আপনি যদি ন্যূনতম ২ বছর একই নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করে থাকেন, তাহলে কিছু শর্তে চাকরি পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া, নিয়োগকর্তা যদি চুক্তি ভঙ্গ করেন বা বেতন না দেন, তাহলে আপনি ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করে বিশেষ অনুমতি পেতে পারেন। মনে রাখবেন, বিনা অনুমতিতে চাকরি পরিবর্তন করলে ভিসা বাতিল এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তি হতে পারে।

ওমানে প্রবাসী কর্মীদের বেতন ও জীবনযাত্রার খরচ

২০২৬ সালে ওমানে প্রবাসী কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ২২৫ রিয়াল নির্ধারিত। তবে বাস্তবে বিভিন্ন খাতে বেতন ভিন্ন:

কাজের ধরন মাসিক বেতন (রিয়াল) বাংলাদেশি টাকায় প্রায়
নির্মাণ শ্রমিক ২২৫ – ২৮০ ৭২,০০০ – ৯০,০০০
গার্মেন্টস কর্মী ২২৫ – ২৫০ ৭২,০০০ – ৮০,০০০
হোটেল স্টাফ (ক্লিনার, ওয়েটার) ২৫০ – ৩৫০ ৮০,০০০ – ১,১২,০০০
ড্রাইভার ৩০০ – ৪০০ ৯৬,০০০ – ১,২৮,০০০
স্বাস্থ্যসেবা (নার্স, টেকনিশিয়ান) ৫০০ – ৯০০ ১,৬০,০০০ – ২,৮৮,০০০
ইঞ্জিনিয়ার/ম্যানেজার ৮০০ – ২,০০০+ ২,৫৬,০০০ – ৬,৪০,০০০+

জীবনযাত্রার খরচ: একা থাকলে প্রতি মাসে আনুমানিক ১০০-১৫০ রিয়াল খরচ হয়, যার মধ্যে থাকে:

  • বাসা ভাড়া (শেয়ারিং): ৪০-৬০ রিয়াল
  • খাবার: ৩০-৫০ রিয়াল
  • পরিবহন: ১০-২০ রিয়াল
  • অন্যান্য (মোবাইল, বিনোদন): ১০-২০ রিয়াল

অর্থাৎ, ২২৫ রিয়ালে শুরুতেও মাসে ৭০-১২৫ রিয়াল সাশ্রয় করা সম্ভব। রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য ২০২৬ সালে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে—যেমন ওমানের ব্যাংক অ্যাপস, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের নতুন ফিচার, আর বাংলাদেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ) সরাসরি লেনদেন সুবিধা দিচ্ছে। খরচও কমেছে—প্রতি লেনদেনে ফি ৫-১৫ রিয়ালে নেমে এসেছে।

ওমানে ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ ও হটলাইন

যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নিচের ঠিকানাগুলো সংরক্ষণ করুন:

  • ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়: ওয়েবসাইট: mol.gov.om, হটলাইন: ৮০০৭৭০০০ (ওমানের ভেতর থেকে)। অভিযোগ জানাতে ‘সাহেল’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন।
  • রয়েল ওমান পুলিশ (ভিসা ও ইমিগ্রেশন): ই-ভিসা পোর্টাল: evisa.rop.gov.om, জরুরি ফোন: ৯৯৯।
  • বাংলাদেশি দূতাবাস, মাস্কাট: ফোন: +৯৬৮ ২৪৬৯ ৭৭০১, ইমেইল: bdoot.muscat@mofa.gov.bd, জরুরি হটলাইন: +৯৬৮ ৯৩৬১ ২২২২ (২৪/৭)।
  • বিএমইটি, বাংলাদেশ: ওয়েবসাইট: bmet.gov.bd, হেল্পলাইন: ১৬১৩৪।
  • ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি: ওয়েবসাইট: chamberoman.om (নিয়োগকর্তার সত্যতা যাচাইয়ে সহায়ক)।

টিপস: ওমানে অবস্থানকালে পাসপোর্ট ও ভিসার কপি সবসময় কাছে রাখুন। পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হলে ভদ্রভাবে দেখান। কোনো হয়রানি বা বেতন-সংক্রান্ত সমস্যায় সাথে সাথে দূতাবাসে জানান।

Frequently asked questions

ওমান ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত খরচ হয়?

ওমান ওয়ার্ক ভিসার খরচ কাজের ধরন ও ভিসার মেয়াদের উপর নির্ভর করে। সাধারণত ভিসা ফি ৫০-২০০ রিয়াল (১৬,০০০-৬৪,০০০ টাকা), সাথে এজেন্সি ফি, মেডিকেল, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ও বিমান ভাড়া মিলিয়ে মোট ৮০,০০০-১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

ওমানে ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে?

সাধারণত ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ২-৪ সপ্তাহ সময় লাগে। তবে আবেদনের সঠিকতা ও নিয়োগকর্তার দ্রুততার উপর নির্ভর করে সময় কম বা বেশি হতে পারে।

ওমানে ওয়ার্ক ভিসা নবায়ন করা যায়?

হ্যাঁ, ওমানে ওয়ার্ক ভিসা সাধারণত ১-২ বছরের জন্য দেওয়া হয় এবং মেয়াদ শেষে নবায়ন করা যায়। ২০২৬ সাল থেকে নবায়নের সময় বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ থেকে ওমানে যেতে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ, বাংলাদেশ থেকে আইনত ওমানে যেতে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক। এটি ছাড়া ইমিগ্রেশন পাস করা যাবে না।

ওমানে ওয়ার্ক ভিসায় পরিবার নিয়ে যাওয়া যায়?

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট বেতনসীমা (সাধারণত ১,০০০ রিয়াল) পূরণ করলে পরিবার নিয়ে যাওয়া যায়। ২০২৬ সালে কিছু শর্ত সহজ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *