Key takeaways
- সৌদি আরবে নিট সঞ্চয় সাধারণত বেশি, কারণ বেতন বেশি ও জীবনযাত্রার খরচ কম।
- ওমানে কাজের পরিবেশ শান্ত, ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত, কিন্তু খরচ ও রেমিট্যান্স ফি বেশি।
- বিনামূল্যে আবাসন ও খাবার দেওয়া কোম্পানি বেছে নিলে সঞ্চয় নাটকীয়ভাবে বাড়ে।
- রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যাংক ট্রান্সফার বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন, ফি কম পড়ে।
- ভিসা ও চাকরি সংক্রান্ত প্রতারণা এড়াতে সরকারি চ্যানেল ও বিএমইটি যাচাই করুন।
দ্রুত উত্তর: ২০২৬ সালে সৌদি আরব ও ওমান উভয় দেশেই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভালো সুযোগ আছে, তবে নিট সঞ্চয়ের দিক থেকে সৌদি আরব সাধারণত এগিয়ে। এখানে গড় বেতন বেশি (নির্মাণ খাতে ১২০০–১৮০০ সাউদি রিয়াল) এবং জীবনযাত্রার খরচ ওমানের তুলনায় সামান্য কম। ওমানে কাজের পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত ও ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত। আপনার দক্ষতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ভূমিকা: কেন এই তুলনা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতি বছর প্রায় তিন লক্ষের বেশি বাংলাদেশি কর্মী আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে পাড়ি জমান। ওমান বনাম সৌদি আরব— এই দুই দেশই বাংলাদেশি কর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় গন্তব্য। কিন্তু কেউ যখন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কোন দেশে যাবেন, তখন প্রায়ই ভুল তথ্যের কারণে তাঁরা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম সঞ্চয় করতে পারেন। ২০২৬ সালে এসে দুই দেশের শ্রম আইন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ন্যূনতম মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে নানা পরিবর্তন এসেছে। সৌদি আরবে ‘কিউয়া (Qiwa)’ সিস্টেম সম্প্রসারিত হয়েছে, শ্রমিকদের সুরক্ষা বাড়িয়েছে; ওমান নতুন ভিসা সংস্কার এনেছে দক্ষ কর্মী আকর্ষণ করতে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে নতুন প্রণোদনার কারণে, আর ওমান থেকে সামান্য হ্রাস পেয়েছে। এই নিবন্ধে আমরা একেবারে হালনাগাদ (আগস্ট ২০২৬) তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যবহার করে দুই দেশের বেতন, জীবনযাত্রার খরচ, রেমিট্যান্স ফি এবং লুকানো খরচের একটি বাস্তবসম্মত তুলনা করব। মনে রাখবেন, বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিট সঞ্চয়: মাস শেষে হাতে কত টাকা বাঁচে।
ওমান বনাম সৌদি আরব: ২০২৬ সালে কোন দেশে সঞ্চয় বেশি?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিলে বলা যায়— গড়পড়তা একজন বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিকের ক্ষেত্রে সৌদি আরবে মাসিক নিট সঞ্চয় বেশি। একটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া যাক:
- সৌদি আরবে গড় মাসিক বেতন ১,৫০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৪০০ ইউএস ডলার) হলে, বাসস্থান, খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পর ৮০০–১,০০০ রিয়াল (প্রায় ২১৩–২৬৭ ডলার) সঞ্চয় সম্ভব।
- ওমানে অনুরূপ কাজে গড় বেতন ৩০০ ওমানি রিয়াল (প্রায় ৭৮০ ডলার) পেলেও একই মানের জীবনযাত্রার খরচের পর সঞ্চয় দাঁড়ায় মাত্র ১৫০–২০০ ওমানি রিয়াল (৩৯০–৫২০ ডলার)।
মনে রাখবেন, ওমানে কাজের চাপ কম, কর্মঘণ্টা অনেক ক্ষেত্রে কম, এবং জীবনযাত্রার মান একটু ভালো। আবার সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করলে বেতন বাড়ানোর সুযোগ বেশি, কারণ সেখানে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প চলছে (ভিশন ২০৩০-এর আওতায়)। সুতরাং, কে কত সঞ্চয় করবেন তা নির্ভর করে কাজের ধরন, কোম্পানির সুযোগ-সুবিধা ও ব্যক্তিগত খরচের অভ্যাসের উপর।

গড় বেতন: সৌদি আরব বনাম ওমান (২০২৬)
বেতনের পার্থক্য বুঝতে সরকারি ন্যূনতম মজুরি ও বাজারের চলতি হারের দিকে তাকানো যাক। সৌদি আরবে সরকারি ন্যূনতম মাসিক বেতন চলতি ২০২৬ সালে ৭,০০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ১,৮৬৭ ইউএস ডলার)। কিন্তু এই নিয়ম মূলত সৌদি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; বিদেশি কর্মীদের, বিশেষ করে অদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রকৃত বেতন অনেক কম— নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্য সেবা খাতে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ রিয়াল (৩২০–৪৮০ ডলার) পাওয়া স্বাভাবিক। দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার বা গাড়ি চালকদের বেতন ২,৫০০–৪,০০০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
ওমানে কেন্দ্রীয় কোনো ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা নেই বিদেশি শ্রমিকদের জন্য। তবে এন্ট্রি-লেভেল চাকরিতে (নির্মাণ, ক্লিনিং, হোটেল) সাধারণত ২৫০ থেকে ৩৫০ ওমানি রিয়াল (প্রায় ৬৫০–৯১০ ইউএস ডলার) পাওয়া যায়। দক্ষ পেশায় (ওয়েল্ডার, টেকনিশিয়ান) বেতন ৪০০–৫০০ রিয়াল পর্যন্ত উঠতে পারে। উল্লেখ্য, ওমানি রিয়ালের মান সৌদি রিয়ালের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি, তাই নিম্ন আয়েও ডলারে রূপান্তরে বেতন বেশি দেখায়। কিন্তু সঞ্চয়ের তুলনায় খরচও আনুপাতিকভাবে বেশি, যা পরে আলোচনা করা হবে।
নীচের ছকে দুই দেশের গড় বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচের তালিকা দেওয়া হলো:
| বিবরণ | সৌদি আরব (সার) | ওমান (ওমর) | ইউএস ডলার সমতুল্য |
|---|---|---|---|
| গড় মাসিক বেতন (অদক্ষ, নির্মাণ) | ১,২০০–১,৮০০ রিয়াল | ২৫০–৩৫০ রিয়াল | সৌদি: ৩২০–৪৮০$; ওমান: ৬৫০–৯১০$ |
| মাসিক বাসা ভাড়া (১ বেডরুম, রাজধানী) | ২,৫০০–৩,৫০০ রিয়াল | ২০০–৩০০ রিয়াল | সৌদি: ৬৬৭–৯৩৩$; ওমান: ৫২০–৭৮০$ |
| মাসিক খাবার+পরিবহন | ৮০০–১,২০০ রিয়াল | ১০০–১৫০ রিয়াল | সৌদি: ২১৩–৩২০$; ওমান: ২৬০–৩৯০$ |
| আয়কর | ০% | ০% | – |
| মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) | ৫% | ৫% | – |
| রেমিট্যান্স ফি (প্রতি ১০০ ডলার পাঠাতে) | ১–২% | ২–৩% | সৌদি: ১–২$; ওমান: ২–৩$ |
উপরের তথ্যগুলো Numbeo ও সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রকাশনা থেকে নেওয়া হয়েছে। স্পষ্টতই, ডলারের হিসাবে ওমানে বেতন বেশি হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেশি, এবং রেমিট্যান্স ফি বেশি হওয়ায় প্রতি মাসে পাঠানো অর্থে পার্থক্য গিয়ে দাঁড়ায়।

জীবনযাত্রার খরচ: কোন দেশে সস্তা?
জীবনযাত্রার খরচের মধ্যে পড়ে বাসা ভাড়া, খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, ইউটিলিটি (পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস) ও ইন্টারনেট। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সাধারণ এক বেডরুমের ফ্ল্যাট ভাড়া কেন্দ্রস্থলে ২,৫০০–৩,৫০০ সৌদি রিয়াল (৬৬৭–৯৩৩ ডলার) এবং বাইরের এলাকায় ১,৮০০–২,৫০০ রিয়াল। অন্যদিকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে কেন্দ্রীয় এলাকায় এক বেডরুম ভাড়া ২০০–৩০০ ওমানি রিয়াল (৫২০–৭৮০ ডলার), আর একটু দূরে ১৫০–২২০ রিয়াল।
খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের দিক দিয়ে সৌদি আরব অপেক্ষাকৃত সস্তা, কারণ দেশটি খাদ্যশস্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। মাসিক মুদিখানা খরচ (একজন ব্যক্তি) সৌদিতে প্রায় ৪০০–৬০০ রিয়াল, ওমানে ৬০–১০০ রিয়াল। পরিবহন খরচ: সৌদিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২.৩৩ রিয়াল (ওমান ০.২৪৮ রিয়াল/লিটার, কিন্তু ১ ওমর ≈ ১০.২৫ রিয়াল, তাই ওমানেও প্রায় সমান), তবে বাস ও ট্যাক্সি ভাড়া সৌদিতে সস্তা। ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট) এক রকমই— মাসে ৩০০–৫০০ রিয়াল অথবা ৩০–৫০ ওমানি রিয়াল।
অর্থাৎ, নিখুঁত হিসাবে সৌদি আরবে একক ব্যক্তির মাসিক জীবনযাত্রা ব্যয় গড়ে ১,৫০০–২,২০০ রিয়াল (৪০০–৫৮৭ ডলার), যেখানে ওমানে তা ২৫০–৩৫০ রিয়াল (৬৫০–৯১০ ডলার)। আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেখলে, ওমানে বেতন বেশি হলেও অনুপাতে খরচও বেশি, ফলে নিট সঞ্চয় কম হয়।
লুকানো খরচ: বেতন থেকে যা কাটা হয়
অনেক সময় চাকরির চুক্তিতে যে বেতন দেখানো হয়, মাস শেষে হাতে আসার আগেই নানা কাটতি হয়ে যায়। এগুলোকে আমরা লুকানো খরচ বলি, যা সঞ্চয় হিসাবে ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে।
- কর্মী নিয়োগ ও ওয়ার্ক পারমিট ফি: সৌদি আরবে বর্তমানে কিউয়া (Qiwa) প্ল্যাটফর্মে কর্মীদের নিবন্ধন ও কাজের অনুমোদন নিতে কিছু প্রশাসনিক ফি দিতে হয়, যা কখনও কখনও নিয়োগকর্তা বহন করেন, কখনও শ্রমিকের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। ওমানে ই-সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে কাজের অনুমতি নিতে ১০–২০ ওমানি রিয়াল ফি লাগতে পারে।
- চিকিৎসা বীমা: উভয় দেশেই বিদেশি শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক। সৌদি আরবে মাসিক বীমা ফি ১০০–২০০ সৌদি রিয়াল, ওমানে ১০–২০ ওমানি রিয়াল। অনেক কোম্পানি এই খরচ নিজে বহন করে, তবে যদি আপনার উপর চাপানো হয়, তাহলে তা সঞ্চয় কমাবে।
- আবাসন ও খাদ্য ভাতা: কিছু নির্মাণ কোম্পানি শ্রমিকদের বিনামূল্যে আবাসন (শ্রমিক ক্যাম্প) ও খাবার দেয়। এক্ষেত্রে উপরে উল্লিখিত বাসা ভাড়া ও খরচ বাঁচানো যায়, ফলে নিট সঞ্চয় নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু সব কোম্পানিই এই সুবিধা দেয় না। তাই চুক্তি করার সময় ভালো করে জেনে নিন কোম্পানি কী দিচ্ছে।
- অবৈধ এজেন্সি ফি: বাংলাদেশ থেকে ভিসা পেতে কিছু দালাল বা এজেন্সি বিপুল অঙ্কের টাকা নেয়, যা কোনোভাবেই বৈধ নয়। বিএমইটির মাধ্যমে গেলে নিবন্ধন খরচ নিতান্তই কম। এই লুকানো খরচ থেকে বাঁচতে সব সময় সরকারি চ্যানেল ব্যবহার করুন।

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ: সৌদি আরব বনাম ওমান
সঞ্চয়ের একটা বড় অংশ দেশে পাঠানোর খরচের উপর নির্ভর করে। আপনি যত কম ফি দিয়ে টাকা পাঠাবেন, পরিবারের কাছে তত বেশি পৌঁছাবে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে বর্তমানে (২০২৬) সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ব্যাংক ট্রান্সফার (যেমন আল-রাজহী, এনসিবি) ও মোবাইল ওয়ালেট সেবা (স্ট্যাসিস, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন অ্যাপ)। এগুলোর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে ১-২% ফি কাটা হয়। আর ওমান থেকে ব্যাংক (ব্যাংক মাস্কাট, ওমান আরব ব্যাংক) বা এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে পাঠাতে ২-৩% ফি লাগে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদি আরব থেকে ৪.২ বিলিয়ন (৪২০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ওমান থেকে এসেছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার। সৌদি আরবে কর্মীর সংখ্যাও বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেশি, কিন্তু খরচ কম হওয়ায় প্রতি শ্রমিক পিছু পাঠানো অর্থ বেশি হয়।
নিয়মিত টাকা পাঠাতে এই টিপসগুলো মেনে চলুন:
- সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যবহার করুন, ডলার এন্ডোর্সমেন্ট করা পাসপোর্ট থাকলে ফি আরও কম।
- একবারে বেশি টাকা পাঠান (উদাহরণ ৫০০ ডলার), কারণ এককালীন ফি ছোট লেনদেনে বেশি পড়ে।
- বিশ্বস্ত মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন, অজানা এজেন্টের হাতে টাকা দেবেন না।
- বাংলাদেশে প্রাপকের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি জমা পড়ে এমন সেবা বেছে নিন।
ভিসা প্রক্রিয়া ও সময়: কোন দেশে সহজ?
সৌদি আরবের ওয়ার্ক ভিসা প্রক্রিয়া: প্রথমে সৌদি নিয়োগকর্তা শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়) অনুমোদন নেয়। তারপর বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি দূতাবাস ভিসা ইস্যু করে। বাংলাদেশি কর্মীকে বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র (স্মার্ট কার্ড) নিতে হয়। সাধারণত পুরো প্রক্রিয়ায় ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে। পাসপোর্ট, চিকিৎসা পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং দক্ষতার সনদ প্রয়োজন। গৃহকর্মীদের জন্য মুসানেদ (Musaned) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
ওমানে ওয়ার্ক ভিসা পেতে ওমানি নিয়োগকর্তা শ্রম মন্ত্রণালয়ের ই-সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে অনুমোদন আনেন। এতে সময় লাগে ১-২ সপ্তাহ। গতানুগতিক কাগজপত্রের পাশাপাশি ওমানে ইমিগ্রেশন (eMigrate) সিস্টেমে কর্মী নিবন্ধন করতে হয়। তুলনায় ওমানের প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ, তবে উভয় দেশেই একটি বৈধ চাকরির অফার ছাড়া ভিসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
স্মরণ রাখুন: কোনো অবস্থাতেই পর্যটক ভিসায় গিয়ে কাজ করবেন না, এটি অবৈধ এবং জেল-জরিমানার কারণ হতে পারে। বিএমইটির ওয়েবসাইট থেকে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা যাচাই করুন।
শ্রমিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা: সৌদি বনাম ওমান
শ্রমিক হিসেবে আপনার অধিকার জানা থাকলে হয়রানি বা বেতন-বঞ্চনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কম। ২০২৬ সালে সৌদি আরব কিউয়া সিস্টেমের আওতা বাড়িয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের চুক্তি নিবন্ধন, বেতন সুরক্ষা প্রোগ্রাম (Wages Protection System) ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সৌদি আরবে ‘সৌদিকরণ’ বা নিতাকাত নীতি থাকলেও তা নির্দিষ্ট কিছু খাতের চাকরিতে বিদেশিদের সুযোগ সীমিত করেছে। তবে নির্মাণ ও সেবা খাতে বাংলাদেশিদের চাহিদা এখনও তুঙ্গে।
ওমানে ‘ওমানিকরণ’ নীতির কারণে প্রশাসনিক ও কিছু কারিগরি পেশায় স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, কিন্তু শিল্প ও নির্মাণ খাতে বিদেশি শ্রমিকরা এখনও মূল চালিকা শক্তি। ওমান সরকার ই-মাইগ্রেট প্ল্যাটফর্মে কর্মীদের চুক্তি ও বেতনের স্বচ্ছতা এনেছে। উভয় দেশেই অবৈধভাবে চাকরি পরিবর্তন (ফ্রি ভিসা) বড় অপরাধ, তাই নিজের ভিসার মেয়াদ ও কাফিলের (স্পনসর) অনুমতি মেনে চলা জরুরি।
সঞ্চয় বাড়ানোর কৌশল ও সতর্কতা
শেষ পর্যন্ত আপনি যে দেশেই যান না কেন, কিছু অভ্যাস ও কৌশল আপনার সঞ্চয় দ্বিগুণ করতে পারে:
- বিনামূল্যে আবাসন ও খাবার দেওয়া কোম্পানি বেছে নিন — এটি এককভাবে সবচেয়ে বড় সঞ্চয়।
- প্রথম কয়েক মাস বাড়তি খরচ করবেন না — দেশে টাকা পাঠানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- কাজের সময় দক্ষতা বাড়ান — উচ্চতর স্কিল পেলে বেতন বাড়ে, সেটা সৌদি বা ওমান দুই জায়গাতেই সত্য।
- প্রতারণা থেকে সাবধান — ভুয়া চাকরির অফার, আকাশ-কুসুম বেতনের প্রতিশ্রুতি, বা অগ্রিম টাকা চাওয়া এজেন্সি এড়িয়ে চলুন।
- দূতাবাসের সহায়তা — বিপদে পড়লে নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করুন, তারা আইনি পরামর্শ দিতে পারে।
পরিশেষে বলতে পারি, ওমান বনাম সৌদি আরব— এই তুলনা আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করে। সংখ্যার বিচারে সৌদি আরব বেশি সঞ্চয়ের সুযোগ দিলেও, ওমানে কাজের পরিবেশ অনেকের কাছে কম চাপের মনে হয়। তাই নিজের শারীরিক সক্ষমতা, কাজের ধরন ও পরিবারের প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। সবশেষে, যেকোনো তথ্য যাচাই করতে সরকারি সূত্র ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সাথে পরামর্শ করুন।
Frequently asked questions
ওমান বনাম সৌদি আরব ২০২৬ সালে কোন দেশে সঞ্চয় বেশি?
সাধারণত সৌদি আরবে নিট সঞ্চয় বেশি, কারণ গড় বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি এবং জীবনযাত্রার খরচ কম। তবে ওমানে কাজের পরিবেশ শান্ত এবং ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের গড় বেতন কত?
অদক্ষ নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য গড় মাসিক বেতন ১,২০০–১,৮০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩২০–৪৮০ ডলার)। দক্ষ কর্মীদের বেতন ২,৫০০–৪,০০০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
ওমানে বাংলাদেশি কর্মীদের গড় বেতন কত?
এন্ট্রি-লেভেল চাকরিতে ২৫০–৩৫০ ওমানি রিয়াল (প্রায় ৬৫০–৯১০ ডলার), দক্ষ পেশায় ৪০০–৫০০ রিয়াল পর্যন্ত।
সৌদি আরব ও ওমানের জীবনযাত্রার খরচের পার্থক্য কী?
সৌদি আরবে একক ব্যক্তির মাসিক খরচ গড়ে ১,৫০০–২,২০০ রিয়াল (৪০০–৫৮৭ ডলার), ওমানে ২৫০–৩৫০ রিয়াল (৬৫০–৯১০ ডলার)। ওমানে বেতন বেশি কিন্তু খরচও বেশি।
কোন দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কম?
সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে ১-২% ফি লাগে, ওমান থেকে ২-৩%। তাই সৌদি আরব থেকে টাকা পাঠানো তুলনামূলকভাবে সস্তা।