Key takeaways
- ২০২৬ সালে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া নতুন MoU-তে একক-চ্যানেল নিয়োগ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
- এজেন্সি ফি সর্বোচ্চ BDT ১,৫০,০০০ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেক কম।
- মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি RM ১,৭০০, যা বিদেশি কর্মীদের বেতন নির্ধারণে মানদণ্ড।
- ESD-এর নতুন অনলাইন পোর্টালে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
- কর্মীদের জন্য বিএমইটি প্রশিক্ষণ ও প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন বাধ্যতামূলক।
২০২৬ সালে মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা পেতে চাইলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন নিয়ম, খরচ ও বেতন কাঠামো জানা অত্যন্ত জরুরি। মালয়েশিয়া সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাকে ইমিগ্রেশন বিভাগের ESD-এর মাধ্যমে Employment Pass বা Temporary Employment Visit Pass (PLKS)-এর আবেদন করতে হবে।
প্রধান বিষয়গুলো
- নতুন MoU অনুযায়ী শুধুমাত্র সরকার-অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমেই মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে।
- মোট খরচ BDT ২,০০,০০০–২,৫০,০০০, যা আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেক।
- নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে মাসিক বেতন RM ১,৫০০–২,০০০ (BDT ৪৫,০০০–৬০,০০০) পর্যন্ত।
- আবেদনের আগে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ও প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন বাধ্যতামূলক।
- প্রতারণা এড়াতে সবসময় নিয়োগকর্তার সরাসরি তথ্য যাচাই করুন এবং প্রবাসী কল্যাণ হটলাইন (16261) ব্যবহার করুন।
মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬: নতুন নিয়ম ও পরিবর্তন
২০২৬ সাল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসায় বড় পরিবর্তনের বছর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে নতুন একটি MoU (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষর, যা আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে কার্যকর হয়েছে। এই MoU-তে একক-চ্যানেল নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার অর্থ এখন থেকে শুধুমাত্র সরকার-অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমেই কর্মী পাঠানো হবে। আগের দ্বৈত-চ্যানেল ব্যবস্থায় বহু দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী ছিল, যা খরচ বাড়িয়ে দিত এবং প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি করত। নতুন ব্যবস্থায় এজেন্সি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ BDT ১,৫০,০০০ (প্রায় RM ৬,০০০), যা কর্মীদের বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি দেবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, গত বছরের তুলনায় এতে গড়ে BDT ১,৫০,০০০ পর্যন্ত সাশ্রয় হচ্ছে।
আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মাসিক বেতন RM ১,৭০০ করা হয়েছে। যদিও এই নিয়মটি মূলত স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য, তবুও অনেক নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক বেতন নির্ধারণে এটিকে ন্যূনতম মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। আমাদের পরিচিত একটি এনজিও সূত্র বলছে, এখন অধিকাংশ বৈধ নিয়োগকারী নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কমপক্ষে RM ১,৫০০–১,৮০০ দিচ্ছে। কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে বেতন কিছুটা কম হতে পারে, তবে আবাসন ও খাবার সুবিধা যুক্ত করলে কার্যকর আয় অনেকাংশে বেড়ে যায়।
মালয়েশিয়ার এক্সপ্যাট্রিয়েট সার্ভিসেস ডিভিশন (ESD) ২০২৬ সালে একটি নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে, যা Employment Pass আবেদন প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও দ্রুত করেছে। এখন নিয়োগকর্তারা দ্রুত ডকুমেন্ট জমা দিতে পারেন এবং আবেদনের অবস্থা ট্র্যাক করতে পারেন। একইসাথে, Act 446 (Foreign Workers Accommodation Act) আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে—বিদেশি কর্মীদের থাকার জায়গা অবশ্যই সরকারি মান (পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল, পরিষ্কার পানি, পর্যাপ্ত জায়গা) মেনে চলতে হবে। কোন নিয়োগকর্তা এই আইন ভঙ্গ করলে জরিমানা বা কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন। তাই চুক্তি করার আগে আবাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার ধরন ও আবেদন প্রক্রিয়া
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গেলে মূলত দুই ধরনের ভিসা প্রাসঙ্গিক: Employment Pass (EP) এবং Temporary Employment Visit Pass (PLKS)। EP সাধারণত দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের জন্য, যেখানে PLKS আধা-দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের জন্য। বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ কর্মী PLKS-এর মাধ্যমে যান, বিশেষত নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি ও গৃহস্থালি খাতে। EP-এর জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন RM ৫,০০০ হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন, আর PLKS-এর ক্ষেত্রে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় নিয়োগকর্তার মাধ্যমে। নিয়োগকর্তাকে প্রথমে ESD পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। ডকুমেন্টের মধ্যে রয়েছে: বৈধ পাসপোর্ট (অন্তত ১৮ মাস মেয়াদ), পাসপোর্ট সাইজের ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট (প্রয়োজন অনুযায়ী), মেডিকেল রিপোর্ট (সাধারণত VDRL, Hepatitis B, HIV, যক্ষা পরীক্ষা), এবং কর্মসংস্থান চুক্তি (ইংরেজি ও বাংলায়)। আবেদন জমা দেওয়ার পর ইমিগ্রেশন বিভাগ সাধারণত ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানায়। অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মীকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা স্ট্যাম্প (Entry Visa) করতে হবে, যা বাংলাদেশের কুয়ালালামপুর হাইকমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিএমইটি (Bureau of Manpower, Employment and Training)-এর মাধ্যমে নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। প্রথমে অনলাইনে বিএমইটি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন করতে হবে, তারপর ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান করে একটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বাধ্যতামূলক ৭ দিনের প্রশিক্ষণ নিতে হবে, যেখানে বাংলা, ইংরেজি ও গাণিতিক দক্ষতা এবং দেশটির সংস্কৃতি ও আইন শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে একটি ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, যা ছাড়া মালয়েশিয়ায় যাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া, নতুন MoU অনুযায়ী, কর্মীদের একটি প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন করতে হবে, যেখানে স্থানীয় ভাষা, কাজের পরিবেশ ও জরুরি যোগাযোগের তথ্য দেওয়া হয়।
ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া
- নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ESD পোর্টালে Employment Pass বা PLKS-এর জন্য আবেদন জমা দিন।
- প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট (পাসপোর্ট, ছবি, শিক্ষাগত সনদ, অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট, মেডিকেল রিপোর্ট, চুক্তি) আপলোড করুন।
- ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে অনুমোদন প্রাপ্তির পর নিয়োগকর্তাকে অবহিত করা হবে।
- বিএমইটি থেকে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন (অনলাইন নিবন্ধন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, প্রশিক্ষণ)।
- প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন করুন।
- মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর হাইকমিশন থেকে ভিসা স্ট্যাম্প করান।
- সর্বশেষে, বিমানের টিকিট কেটে মালয়েশিয়ায় গমন করুন।
মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা খরচ ২০২৬
মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার খরচ নির্ভর করে ভিসার ধরন, এজেন্সি ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের উপর। নতুন নিয়মে এজেন্সি ফি সর্বোচ্চ BDT ১,৫০,০০০ (প্রায় RM ৬,০০০) নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এছাড়াও আরও কিছু খরচ আছে, যেমন:
- পাসপোর্ট ও ভিসা ফি: প্রায় BDT ৫,০০০-১০,০০০
- মেডিকেল পরীক্ষা: BDT ৩,০০০-৫,০০০ (সরকারি মেডিকেল সেন্টারে)
- বিমান টিকিট: BDT ৩০,০০০-৫০,০০০ (এয়ারলাইনস অনুযায়ী)
- বিএমইটি প্রশিক্ষণ ফি: BDT ২,০০০-৩,০০০ (সরকারি ফি)
- ওরিয়েন্টেশন কোর্স: BDT ১,০০০-২,০০০
- ইনস্যুরেন্স: BDT ২,৫০০-৫,০০০ (এক বছরের জন্য)
- অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ (যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট, অনুবাদ, নোটারি): BDT ১০,০০০-২০,০০০
মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় BDT ২,০০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ পর্যন্ত। তবে এজেন্সি ফি কমিয়ে আনার কারণে আগের তুলনায় খরচ অনেক কমেছে। আগে এজেন্সি ফি BDT ৩,০০,০০০-৪,০০,০০০ পর্যন্ত হতো, যা এখন অনেক সাশ্রয়ী। অনেক এজেন্সি এখন ‘নো ভিসা, নো ফি’ নীতিতে কাজ করে, অর্থাৎ ভিসা না পাওয়া গেলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। চুক্তি করার সময় এ বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
| খরচের খাত | আনুমানিক খরচ (BDT) |
|---|---|
| এজেন্সি ফি | ১,৫০,০০০ |
| পাসপোর্ট ও ভিসা ফি | ৫,০০০-১০,০০০ |
| মেডিকেল পরীক্ষা | ৩,০০০-৫,০০০ |
| বিমান টিকিট | ৩০,০০০-৫০,০০০ |
| বিএমইটি প্রশিক্ষণ | ২,০০০-৩,০০০ |
| ওরিয়েন্টেশন কোর্স | ১,০০০-২,০০০ |
| ইনস্যুরেন্স | ২,৫০০-৫,০০০ |
| অন্যান্য | ১০,০০০-২০,০০০ |
| মোট | ২,০০,০০০-২,৫০,০০০ |
গুরুত্বপূর্ণ: কোনো এজেন্সি যদি নির্ধারিত ফি-র চেয়ে বেশি দাবি করে, তবে তা অবশ্যই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হটলাইনে (16261) জানান।
মালয়েশিয়ায় বেতন ও সুবিধা ২০২৬
মালয়েশিয়ায় কর্মীদের বেতন খাতভেদে ভিন্ন হয়। তবে ২০২৬ সালে ন্যূনতম বেতন RM ১,৭০০ নির্ধারিত। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সাধারণত নির্মাণ খাতে RM ১,৫০০-১,৮০০, উৎপাদন খাতে RM ১,৬০০-২,০০০, কৃষি খাতে RM ১,৪০০-১,৭০০ এবং গৃহস্থালি খাতে RM ১,২০০-১,৫০০ পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়। ওভারটাইম কাজ করলে ঘণ্টা
Frequently asked questions
মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার পর ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে ভিসা অনুমোদন হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট জটিলতা বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে সময় বেশি লাগতে পারে।
মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য কি IELTS প্রয়োজন?
না, মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য IELTS স্কোর প্রয়োজন হয় না। তবে কিছু দক্ষ কর্মীর জন্য ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।
মালয়েশিয়ায় কাজ করার ন্যূনতম বয়স কত?
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে। তবে কিছু খাতে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রয়োজন হতে পারে।
মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা কি নবায়নযোগ্য?
হ্যাঁ, মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা সাধারণত ১-২ বছরের জন্য দেওয়া হয়, যা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে নবায়ন করা যায়। তবে মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে আবার আবেদন করতে হতে পারে।