মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬: নতুন নিয়মে খরচ ও বেতন

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এ নিয়োগকর্তা খরচ বহন করায় কর্মীর খরচ কমেছে। জেনে নিন নতুন নিয়ম, বেতন, প্রসেসিং ও স্ক্যাম এড়ানোর উপায়।

Key takeaways

  • ২০২৬ সালে মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার খরচ ১.৫-২.৫ লাখ টাকা, নিয়োগকর্তা বহন করেন।
  • ন্যূনতম মজুরি RM ১,৭০০, খাতভেদে বেতন ১,৫০০-২,৫০০ রিঙ্গিত।
  • ভিসা প্রসেসিং টাইম ৪-৮ সপ্তাহ, ডিজিটাল সিস্টেমে দ্রুত হয়।
  • বৈধ এজেন্ট চার্জ ২০,০০০-৫০,০০০ টাকা, এর বেশি চাইলে স্ক্যাম।
  • ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ ও রেমিট্যান্স নিয়ম জানা জরুরি।

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো—নিয়োগকর্তাকেই এখন সব রিক্রুটমেন্ট খরচ বহন করতে হবে, তাই কর্মীর পকেট থেকে খরচ অনেক কমেছে। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসা পেতে মোট খরচ প্রায় ১.৫ থেকে ২.৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারি ফি মাত্র ২,০০০-৩,০০০ রিঙ্গিত। বেতন সাধারণত ১,৫০০-২,৫০০ রিঙ্গিত, আর ভিসা প্রসেসিং সময় ৪-৮ সপ্তাহ।

২০২৬ সালে মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা: এক নজরে

২০২৬ সালেও মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শীর্ষ গন্তব্য। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি প্লান্টেশন, ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ ও সেবা খাতে কাজ করছেন। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি নতুন সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই MoU-এর আওতায় মালয়েশিয়া সরকার ডিজিটাল ভিসা ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করেছে এবং সকল নিয়োগকর্তার জন্য কর্মী নিয়োগের খরচ বহন বাধ্যতামূলক করেছে।

Malaysia work visa documents — মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা
Malaysian flag and Bangladeshi construction workers

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ফরেন ওয়ার্কার রিক্রুটমেন্ট রিফর্মস-এর মাধ্যমে। এখন থেকে নিয়োগকর্তাকেই সমস্ত রিক্রুটমেন্ট ফি, ভিসা ফি ও লেভি বহন করতে হবে। ফলে কর্মীর পকেট থেকে আগের মতো মোটা অঙ্কের টাকা চলে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া মালয়েশিয়া সরকার ডিজিটাল ভিসা সিস্টেম চালু করেছে, যার মাধ্যমে আবেদনকারী অনলাইনে নিজের ভিসার অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন। শ্রমিকদের জন্য আরেকটি বড় সংবাদ হলো—ন্যূনতম মজুরি এখন RM ১,৭০০, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কঠোরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে। ২০২৬ সাল নাগাদ এই মজুরি কিছু সেক্টরে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

মনে রাখবেন: মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার নিয়ম-কানুন প্রায়ই হালনাগাদ হয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিএমইটি এবং মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন। এছাড়া আমাদের বিএমইটি অনুমোদিত এজেন্ট তালিকা নিবন্ধটিও পড়তে পারেন।

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে গেলে প্রথমেই কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। বয়স সাধারণত ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে, তবে কোনো কোনো খাতে ৫০ বছর পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা সাধারণত এসএসসি বা সমমান। কিন্তু প্লান্টেশন বা নির্মাণ কাজের জন্য শিক্ষার চেয়ে শারীরিক ফিটনেস ও অভিজ্ঞতাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ভাষাগত দক্ষতা: যেহেতু মালয়েশিয়ায় কাজের পরিবেশে ইংরেজি বা মালয় ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান প্রয়োজন হয়, তাই অনেক নিয়োগকর্তা কর্মীদের কাছ থেকে কমপক্ষে ইংরেজি বলতে বোঝাতে পারা আশা করেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রেনিং দেওয়া হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেডিকেল ফিটনেস—আবেদনকারীকে কোনো ধরনের সংক্রামক রোগ যেমন টিবি, এইচআইভি বা হেপাটাইটিস মুক্ত হতে হবে। এই মেডিকেল টেস্ট করেন মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট হাসপাতালগুলোতে। সম্প্রতি মেডিকেল টেস্টের তালিকায় কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেটও যুক্ত হয়েছে, তবে তা অস্থায়ী হতে পারে।

অভিজ্ঞতা: গার্মেন্টস, নির্মাণ বা কৃষি খাতে যাদের কমপক্ষে ২-৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে নতুন কর্মীদের জন্যও কিছু এন্ট্রি লেভেল চাকরি থাকে। সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা পেতে চাইলে যোগ্যতার পাশাপাশি সঠিক কাগজপত্র ও ধৈর্য ধরে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার প্রকারভেদ: কোনটি আপনার জন্য?

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে এবং আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী সঠিক ভিসা বেছে নেওয়া জরুরি। প্রধানত নিচের কয়েকটি ক্যাটাগরি রয়েছে:

  • এমপ্লয়মেন্ট পাস (ক্যাটাগরি I, II, III): দক্ষ কর্মী, প্রফেশনাল ও ম্যানেজার পদের জন্য। কমপক্ষে RM ৩,০০০-১০,০০০ বেতন হতে হয়।
  • টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট পাস (TEP): অদক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকদের জন্য, যেমন প্লান্টেশন, কনস্ট্রাকশন, ম্যানুফ্যাকচারিং। ন্যূনতম বেতন RM ১,৭০০। বাংলাদেশি কর্মীরা সাধারণত এই ক্যাটাগরিতেই ভিসা পান।
  • প্রফেশনাল ভিজিট পাস: স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কাজের জন্য, যেমন কনসালটেন্ট বা টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ। মেয়াদ ৬ মাস থেকে ১ বছর।

মনে রাখবেন, ভিসার ধরন অনুযায়ী আপনার অধিকার ও দায়িত্ব ভিন্ন হতে পারে। তাই জব অফার পাওয়ার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি কোন ক্যাটাগরিতে আবেদন করছেন। ভুল ভিসায় গেলে পরে জটিলতায় পড়তে পারেন।

২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন কত?

মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মূল আকর্ষণ এখানকার তুলনামূলক ভালো বেতন। তবে খাতভেদে মাসিক আয়ের পার্থক্য রয়েছে। নতুন ন্যূনতম মজুরি RM ১,৭০০ হলেও অনেক সেক্টরে হাতেনাতে টাকা কিছুটা কম। নিচে একটি টেবিলে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

খাত ন্যূনতম বেতন (রিঙ্গিত) ওভারটাইমসহ গড় বেতন (রিঙ্গিত)
প্লান্টেশন ১,৫০০ ১,৮০০
ম্যানুফ্যাকচারিং ১,৭০০ ২,২০০
নির্মাণ (কনস্ট্রাকশন) ১,৬০০ ২,০০০
সেবা (সার্ভিস) ১,৫০০ ১,৯০০
Malaysian ringgit banknotes with salary payment slip
Malaysian ringgit banknotes with salary payment slip

ওভারটাইমের হার সাধারণত মূল বেতনের ১.৫ থেকে ২ গুণ। তাই কঠোর পরিশ্রম করলে আয় বাড়ানো সম্ভব। কিছু নিয়োগকর্তা আবাসন ও খাওয়ার ব্যবস্থাও করে থাকেন, যা কর্মীর মাসিক খরচ কমাতে সাহায্য করে। তাই ওভারটাইম বাদ দিলেও ন্যূনতম মজুরি RM ১,৭০০ (প্রায় ৪৫,০০০ টাকা) দিয়ে মালয়েশিয়ায় একজন কর্মী স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন এবং পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারেন। মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ফ্রি হেলথ কেয়ার সুবিধাও দিয়ে থাকে, যা কর্মীদের জন্য বড় সুরক্ষা।

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার খরচ কত? (২০২৬ হালনাগাদ)

নতুন নিয়মে মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার খরচ বহন করে নিয়োগকর্তা। তবে কর্মীকে কিছু খরচ নিজে বহন করতে হয়, যেমন মেডিকেল টেস্ট, পাসপোর্ট ও ভিসা স্ট্যাম্পিং ফি। সাধারণত মোট খরচ ১.৫ থেকে ২.৫ লাখ টাকার মধ্যে থাকে। কোনো এজেন্ট যদি ১ লাখ টাকার বেশি দাবি করে, সেটি অবৈধ।

  • সরকারি ভিসা ফি: RM ২,০০০-৩,০০০ (প্রায় ৫০,০০০-৭৫,০০০ টাকা)
  • মেডিকেল টেস্ট: ৩,০০০-৫,০০০ টাকা
  • পাসপোর্ট ও অন্যান্য: ৫,০০০-১০,০০০ টাকা
  • এজেন্ট সার্ভিস চার্জ (আইনি): ২০,০০০-৫০,০০০ টাকা

খরচের এই হিসাবটি ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রযোজ্য। নিয়ম পরিবর্তন হলে খরচও বদলাতে পারে। আরও জানতে চাইলে নিচের টেবিলটি দেখুন, যেখানে বিভিন্ন ধাপের খরচ একত্রে তুলে ধরা হলো:

খরচের ধাপ আনুমানিক খরচ (টাকা) কে বহন করে
পাসপোর্ট ফি ৫,০০০-১০,০০০ কর্মী
ভিসা ফি (সরকারি) ৫০,০০০-৭৫,০০০ নিয়োগকর্তা
লেভি পেমেন্ট RM ১,২৫০-২,৫০০ নিয়োগকর্তা
মেডিকেল টেস্ট ৩,০০০-৫,০০০ কর্মী
প্রশিক্ষণ ফি (বিএমইটি) ২,০০০-৫,০০০ কর্মী
এজেন্ট সার্ভিস চার্জ (আইনি) ২০,০০০-৫০,০০০ কর্মী (প্রায়ই নিয়োগকর্তা বহন করে)

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন:

  1. বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ১৮ মাস মেয়াদ)
  2. নিয়োগকর্তার চুক্তিপত্র (Offer Letter)
  3. মেডিকেল রিপোর্ট (অনুমোদিত হাসপাতাল থেকে)
  4. পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)
  5. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  6. বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন (কিছু ক্ষেত্রে)
Passport and visa documents on a table
Passport and visa documents on a table

এছাড়া কিছু নিয়োগকর্তা অতিরিক্ত কাগজ যেমন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বা পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতার সনদ চাইতে পারেন। তাই আবেদনের আগে সব কাগজপত্র স্ক্যান কপি সহ সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখুন। সম্প্রতি ইমিগ্রেশন বিভাগ ফটোকপির পরিবর্তে ডকুমেন্টের ডিজিটাল কপি জমা দেওয়ার সুবিধা চালু করেছে, যা প্রক্রিয়াকে দ্রুত করেছে।

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে গাইড

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল মনে হলেও সঠিক নিয়ম জানা থাকলে কাজটি সহজ। নিচে ধাপগুলো দেওয়া হলো:

  1. চাকরি খোঁজা ও চুক্তি স্বাক্ষর: প্রথমেই কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বৈধ জব অফার পেতে হবে। বিএমইটি বা অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
  2. মেডিকেল টেস্ট: মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। রিপোর্ট নিয়োগকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
  3. নিয়োগকর্তার আবেদন: নিয়োগকর্তা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগে আপনার হয়ে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করেন। এই ধাপে লেভি পেমেন্ট ও অন্যান্য ফি জমা দিতে হয়।
  4. ভিসা অ্যাপ্রুভাল: ইমিগ্রেশন অনুমোদন দিলে একটি ভিসা অ্যাপ্রুভাল লেটার ইস্যু করে। এটি আপনার কাছে বা এজেন্টের কাছে পাঠানো হয়।
  5. ভিসা স্ট্যাম্পিং: এই চিঠি নিয়ে পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্প করাতে হবে। ঢাকার মালয়েশিয়া দূতাবাস বা ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে এটি করা যায়।
  6. বাংলাদেশ বিমানবন্দর ছাড়পত্র: পাসপোর্টে স্ট্যাম্প হওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন। এই ধাপে কর্মীকে একটি সংক্ষিপ্ত ওরিয়েন্টেশন ক্লাস নিতে হতে পারে।
  7. মালয়েশিয়া প্রবেশ: সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে আপনি মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। সেখানে পৌঁছানোর পর নিয়োগকর্তা ওয়ার্ক পারমিট কার্ড ইস্যু করতে আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লাগে ৪-৮ সপ্তাহ, তবে ডিজিটাল ভিসা সিস্টেম চালুর পর অনেক ক্ষেত্রেই ২-৩ সপ্তাহেই হয়ে যাচ্ছে। এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আমাদের মালয়েশিয়া ভিসা প্রসেসিং টাইম পোস্টে পড়তে পারেন।

মালয়েশিয়া ভিসা প্রসেসিং টাইম কত দিন?

সাধারণত মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা প্রসেস হতে ৪-৮ সপ্তাহ সময় লাগে। তবে ডিজিটাল সিস্টেম চালুর পর কিছু ক্ষেত্রে ২-৩ সপ্তাহেও হয়ে যায়। নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে আবেদন জমা দেওয়ার পর ইমিগ্রেশন অনুমোদন, লেভি পেমেন্ট ও ভিসা স্ট্যাম্পিং—এই ধাপগুলো মিলিয়ে মোট সময় নির্ধারিত হয়। পিক সিজন বা বিশেষ কোনো কারণে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। তাই আবেদনের পর নিয়মিত ট্র্যাক করতে থাকুন।

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ: নিয়ম ও খরচ

মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট সাধারণত ১-২ বছরের জন্য দেওয়া হয়। রিনিউ করতে হলে নিয়োগকর্তাকে আবার আবেদন করতে হয়। রিনিউ ফি প্রায় RM ১,০০০-২,০০০, যা নিয়োগকর্তা বহন করেন। কর্মীকে শুধু মেডিকেল টেস্ট আবার করতে হয়। রিনিউয়ের সময় কর্মীর পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ১২ মাস থাকতে হবে।

মনে রাখবেন, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিনিউর আবেদন করতে হবে, না হলে জরিমানা বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন। সাধারণত মেয়াদ শেষের অন্তত ৩ মাস আগেই প্রক্রিয়া শুরু করা ভালো। রিনিউ প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা দেখা দিলে আইনজীবী বা বিএমইটির সহায়তা নিন। বিস্তারিত জানতে আমাদের মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ গাইডটি পড়ুন।

মালয়েশিয়া ভিসা এজেন্ট চার্জ: কতটা যুক্তিসঙ্গত?

আইনত এজেন্ট চার্জ নিয়োগকর্তা বহন করেন, কিন্তু বাস্তবে অনেক এজেন্ট কর্মীর কাছ থেকে টাকা নেয়। ২০২৬ সালে বৈধ এজেন্ট চার্জ ২০,০০০-৫০,০০০ টাকার মধ্যে। এর বেশি চাইলে সেটি স্ক্যাম হওয়ার সম্ভাবনা। বিএমইটি অনুমোদিত এজেন্টের তালিকা বিএমইটি ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। কোনো এজেন্টের কাছে টাকা দেওয়ার আগে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করুন।

মালয়েশিয়া ভিসা স্ক্যাম থেকে বাঁচার উপায়

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার নামে প্রতারণার ঘটনা এখনও ঘটে। তাই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:

  • জব অফার ভেরিফাই করুন: নিয়োগকর্তার নাম ও ঠিকানা অনলাইনে সার্চ দিন। ফেক কোম্পানি চিহ্নিত করতে গুগল ম্যাপস বা মালয়েশিয়া সরকারের এসএসএম (SSM) পোর্টাল ব্যবহার করুন।
  • কখনো অগ্রিম ফি দেবেন না: “ভিসা প্রসেসিং ফি” বা “ওয়ার্ক পারমিট ফি” বলে টাকা চাইলে সতর্ক হোন। নিয়োগকর্তাই সব ফি দেবে।
  • বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া যাবেন না: অনুমোদিত এজেন্ট ছাড়া সরাসরি ভিসা পেয়ে গেলেও বিএমইটি ছাড়া যাওয়া বেআইনি।
  • সামাজিক মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপনে ভুলবেন না: ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা লোভনীয় বেতনের অফার এড়িয়ে চলুন।
  • অনলাইন রিভিউ দেখুন: যেকোনো এজেন্সির গুগল রিভিউ ও ফেসবুক পেজ ঘুরে দেখুন। অভিযোগ থাকলে দূরে থাকুন।
  • \

    Frequently asked questions

    মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত খরচ হয়?

    ২০২৬ সালে মোট খরচ ১.৫ থেকে ২.৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারি ফি মাত্র ২,০০০-৩,০০০ রিঙ্গিত। বাকি খরচ নিয়োগকর্তা বহন করেন।

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন কত?

    ন্যূনতম মজুরি RM ১,৭০০ (প্রায় ৪৫,০০০ টাকা), যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর।

    মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা প্রসেস করতে কত দিন লাগে?

    সাধারণত ৪-৮ সপ্তাহ, তবে ডিজিটাল সিস্টেমে কিছু ক্ষেত্রে ২-৩ সপ্তাহও লাগে।

    মালয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র দরকার?

    বৈধ পাসপোর্ট, নিয়োগকর্তার চুক্তিপত্র, মেডিকেল রিপোর্ট, ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

    এজেন্ট চার্জ কতটা যুক্তিসঙ্গত?

    বৈধ এজেন্ট চার্জ ২০,০০০-৫০,০০০ টাকা। এর বেশি চাইলে সেটি অবৈধ।

    মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করতে কী লাগে?

    নিয়োগকর্তাকে নতুন আবেদন করতে হয়, কর্মীকে মেডিকেল টেস্ট আবার করতে হয়। রিনিউ ফি RM ১,০০০-২,০০০।

    মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর সেরা উপায় কী?

    ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (নগদ, বিকাশ) মাধ্যমে পাঠানো যায়। প্রতি মাসে গড়ে ৩০,০০০-৫০,০০০ টাকা পাঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *