Key takeaways
- কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল, ৫ কার্যদিবসেই পাওয়া যায়।
- ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ কুয়েতি দিনার (২৫,০০০ টাকা) হয়েছে।
- ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে স্পনসর ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন।
- ভিসার জন্য গামকা মেডিকেল টেস্ট ও বিএমইটি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমেই আবেদন জরুরি।
- প্রতারণা এড়াতে চুক্তিপত্র ভালো করে পড়ুন এবং পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখুন।
দ্রুত উত্তর: ২০২৬ সালে কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা নিতে চাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দারুণ খবর— নতুন ডিজিটাল ভিসা সিস্টেম চালু হওয়ায় এখন মাত্র ৫ কার্যদিবসে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ন্যূনতম মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ কুয়েতি দিনার (প্রায় ২৫,০০০ টাকা), আর ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক পারমিটের ফলে স্পনসর বদলানোও এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। তবে আবেদনের আগে জেনে নিতে হবে সঠিক খরচ, মেডিকেল টেস্টের নিয়ম, আর প্রতারণা এড়ানোর উপায়— এই গাইডে সব ধাপ সহজ বাংলায় বুঝিয়ে বলা হলো।

কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬: নতুন নিয়ম ও সুযোগ
বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ২০২৬ সাল শুরু হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে। কুয়েতের Public Authority for Manpower (PAM) ওয়ার্ক ভিসা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করেছে। এখন আর কাগজপত্রের স্তূপ নিয়ে দৌড়াতে হবে না; অনলাইনেই আবেদন, ডকুমেন্ট আপলোড, ফি জমা ও ভিসা অনুমোদন মেলে। প্রক্রিয়াকরণের সময় কমে আগের ২-৩ সপ্তাহ থেকে ৫ কার্যদিবসে নেমে এসেছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১০% বাড়িয়ে ৭৫ কুয়েতি দিনার (প্রায় ২৫,০০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত জানুয়ারি থেকেই কার্যকর।
আরো বড় সুবিধা হলো ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক পারমিট। ২০২৪ সালে চালু হওয়া এই পারমিটের আওতায় ২০২৬ সাল নাগাদ ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রবাসী শ্রমিক স্পনসরের অনুমতি ছাড়াই চাকরি বদলাতে পেরেছেন। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও এটি বিশাল এক দরজা খুলে দিয়েছে। তবে সাবধান— কুয়েতে ‘ফ্রি ভিসা’ (আসল চাকরি ছাড়া শুধু দেশে প্রবেশের ভিসা) এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেকোনো চুক্তি অবশ্যই পিএএম-এ নিবন্ধিত ও বৈধ হতে হবে।
প্রতারণা এড়াতে সব সময় বিএমইটি-র অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেই কুয়েতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়লে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নিন।

কুয়েতে বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন ২০২৬: খাতভিত্তিক তুলনা
কুয়েতে বিভিন্ন খাতে বেতনের পার্থক্য অনেক। অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভর করে বেতন কম-বেশি হয়। নিচের সারণিতে ২০২৬ সালের গড় বেতন তুলে ধরা হলো (১ কুয়েতি দিনার = প্রায় ৩৩৫ টাকা ধরে হিসাব):
| খাত | গড় মাসিক বেতন (কেডি) | প্রায় টাকায় (বিডিটি) |
|---|---|---|
| নির্মাণ শ্রমিক | ১২০ – ১৫০ | ৪০,০০০ – ৫০,০০০ |
| ড্রাইভার | ১০০ – ১৩০ | ৩৩,০০০ – ৪৩,০০০ |
| গৃহকর্মী (ডোমেস্টিক) | ৬০ – ৮০ | ২০,০০০ – ২৭,০০০ |
| নার্স | ২৫০ – ৩৫০ | ৮২,০০০ – ১১৫,০০০ |
| রেস্টুরেন্ট কর্মী | ৮০ – ১২০ | ২৭,০০০ – ৪০,০০০ |
মনে রাখবেন, ওভারটাইম, খাবার ও আবাসন সুবিধা আলাদাভাবে পাওয়া গেলে মাসিক আয় আরো বাড়তে পারে। বিশেষ করে নির্মাণ খাতে ওভারটাইমের চাহিদা অনেক। তবে চুক্তিপত্রে এগুলো পরিষ্কার করে লেখা আছে কিনা দেখে নিন। কুয়েতে ২০২৬ সালে গৃহকর্মী ও ড্রাইভারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তবে বেতন তুলনামূলক কম। অন্যদিকে অভিজ্ঞ নার্সরা পাবেন সবচেয়ে ভালো বেতন।
কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা পেতে খরচ কত? ২০২৬-এর সম্পূর্ণ খরচের তালিকা
বাংলাদেশ থেকে কুয়েত ভিসা পেতে মোট কত টাকা গুনতে হবে, সেটাই অনেকের প্রথম প্রশ্ন। নিচের টেবিলে আনুমানিক খরচ দেখানো হলো (বিএমইটি নির্দেশিকা অনুযায়ী):
| খরচের খাত | পরিমাণ (বাংলাদেশি টাকা) |
|---|---|
| রিক্রুটমেন্ট ফি (এজেন্সি খরচ) | ১,৫০,০০০ – ২,৫০,০০০ |
| মেডিকেল টেস্ট (শারীরিক পরীক্ষা) | ৩,০০০ – ৫,০০০ |
| ভিসা ফি (দুই বছরের পারমিট) | ২০ কেডি (প্রায় ৬,৬০০ টাকা) |
| জামানত (নিরাপত্তা জমা, ফেরতযোগ্য) | ৫০ কেডি (প্রায় ১৬,৫০০ টাকা) |
| বিমান টিকিট (একমুখী) | ৩০,০০০ – ৪০,০০০ |
| পাসপোর্ট, বিএমইটি অনুমোদন ও অন্যান্য | ৫,০০০ – ১০,০০০ |
মোট খরচ দাঁড়ায় ২,৫০,০০০ – ৪,৫০,০০০ টাকা। কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি পুরো প্যাকেজ নেয়, কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা টিকিট বা ভিসা ফি বহন করেন। তাই চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ে বুঝে তবেই টাকা দিন। কোনোভাবেই নিবন্ধনবিহীন দালাল বা ব্যক্তির হাতে টাকা দেবেন না। বিএমইটি অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা বিএমইটি ওয়েবসাইটে পাবেন।

কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা প্রসেসিং টাইম: পুরনো বনাম নতুন সিস্টেম
সময়ই টাকা— বিশেষ করে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায়। নিচের ছক দেখলে স্পষ্ট বোঝা যাবে ডিজিটাল সিস্টেম কতটা গতি এনে দিয়েছে:
| পদক্ষেপ | পুরনো পদ্ধতি (২০২৫ পর্যন্ত) | নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি (২০২৬) |
|---|---|---|
| ভিসা আবেদন ও ফি জমা | কাগজপত্র জমা, ৩-৭ দিন অপেক্ষা | অনলাইনেই ১ ঘণ্টায় আবেদন শেষ |
| নিয়োগকর্তার অনুমোদন (PAM) | ম্যানুয়াল যাচাই, ৫-১০ দিন | স্বয়ংক্রিয় ভেরিফিকেশন, ১-২ দিন |
| নিরাপত্তা তদন্ত ও ভিসা ইস্যু | আরো ৩-৫ দিন | ২-৩ দিন |
| মোট সময় (কাজের দিন) | ২-৩ সপ্তাহ | ৫ কার্যদিবস |
তবে দ্রুত পেতে চাইলে আবেদনপত্রে কোনো ভুল যেন না থাকে, আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা শিক্ষাগত সনদের স্ক্যান কপি পরিষ্কার ও সঠিক হতে হবে। অনেক সময় নিয়োগকর্তার বিলম্বেও দেরি হয়, তাই আগেভাগেই সব গোছানো উচিত।

কুয়েতে ন্যূনতম মজুরি ও নতুন আইন ২০২৬
জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বেসরকারি খাতের ন্যূনতম বেতন ৭৫ কুয়েতি দিনার, যা আগের ৬৮ কেডি থেকে ১০% বেশি। শুধু বেতনই নয়, নতুন নিয়মে প্রতিটি বিদেশি কর্মীকে স্বাস্থ্য বীমা ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন দিতে নিয়োগকর্তা বাধ্য। পিএএম-এ নিবন্ধিত বৈধ চুক্তি ছাড়া কাউকে কাজে নেওয়া যাবে না। ‘ফ্রি ভিসা’ পাওয়া এখন অসম্ভব, ধরাও পড়লে নিয়োগকর্তা ও কর্মী উভয়েরই জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে।
কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে কর্মঘণ্টা ৪৮, ওভারটাইম বেতন আলাদা, আর প্রতি বছর ৩০ দিনের ছুটি মেলে। অসুস্থ হলে চিকিৎসা ছুটি এবং ইকামা (আবাসিক কার্ড) নবায়নের খরচও কোম্পানি বহন করবে। আপনার অধিকার জানতে পিএএম-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।
ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক পারমিট: স্পনসর পরিবর্তনের নতুন সুযোগ
আগে কুয়েতে একবার ভিসা হলে নির্দিষ্ট স্পনসরের অধীনেই থাকতে হতো; চাকরি বদলাতে গেলে স্পনসরের ছাড়পত্র (রিলিজ) না পেলে দেশে ফিরতে হতো। কিন্তু ২০২৪ সালে চালু হওয়া ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক পারমিট সেই বাধা অনেকটাই দূর করেছে। ২০২৬ সাল নাগাদ দেড় লাখের বেশি প্রবাসী এই পারমিট নিয়ে নিজের ইচ্ছায় চাকরি পরিবর্তন করেছেন।
এই পারমিট পেতে গেলে কিছু শর্ত আছে: বৈধ ইকামা, গত দুই বছরের চাকরির রেকর্ড, নির্দিষ্ট বেতনের প্রমাণ এবং কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা। আবেদন অনলাইনে পিএএম-এর ওয়েবসাইটে করা যায়, ফি ৫০ কেডি। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক পারমিট গাইড পড়ুন।
কুয়েত ভিসার জন্য মেডিকেল টেস্ট ও অন্যান্য শর্ত
বাংলাদেশে নিযুক্ত কুয়েত দূতাবাসের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে গামকা (GAMCA) মেডিকেল টেস্ট করাতে হয়। রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার পাশাপাশি বুকের এক্স-রে, হেপাটাইটিস বি-সি, এইচআইভি, যক্ষ্মা (টিবি) ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। সংক্রামক রোগ ধরা পড়লে ভিসা বাতিল হয়। মেডিকেল রিপোর্টের বৈধতা ৩ মাস, তাই ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে সময় বুঝে টেস্ট করুন।
বয়সের ঊর্ধ্বসীমা সাধারণত ৬০ বছর, তবে প্রকৌশলী, চিকিৎসক বা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর থাকতে হবে। কোনো ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করলে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার ধাপসমূহ (অনলাইন আবেদন)
২০২৬ সালের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিসা পেতে ধাপগুলো সহজ হয়ে গেছে। নিচে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:
- নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পিএএম-অনুমোদিত জব অফার নিন: চুক্তিপত্রটি পিএএম কর্তৃক রেজিস্টার্ড হতে হবে। এতে বেতন, থাকা-খাওয়া, ছুটির বিবরণ লিখিত থাকতে হবে।
- পিএএম পোর্টালে আবেদন: নিয়োগকর্তা অথবা আপনার পক্ষ থেকে পিএএমের অনলাইন সিস্টেমে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে (পাসপোর্ট, ছবি, চুক্তিপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স)।
- ফি পরিশোধ: ই-ভিসা ফি ২০ কেডি (প্রায় ৬,৬০০ টাকা) অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। সাথে নিরাপত্তা জামানত জমা দিতে হবে ৫০ কেডি, যা চাকরি শেষে ফেরত পাওয়া যায়।
- নিরাপত্তা যাচাই: কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদন যাচাই করে। সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যে অনুমোদন মেলে।
- ভিসা ইস্যু ও ডাউনলোড: অনুমোদনের পর ই-ভিসা পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে পারবেন।
- মেডিকেল ও ট্রাভেল: ভিসা পাওয়ার পর গামকা মেডিকেল করুন, রিপোর্ট পজিটিভ হলে বিমানের টিকিট কাটুন।
মনে রাখবেন, পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তার সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। কোনো ধাপে সমস্যা হলে পিএএমের হেল্পলাইন +৯৬৫-২২৪২-০০০০ এ যোগাযোগ করতে পারেন।
কুয়েতে থাকা-খাওয়ার খরচ ও সঞ্চয়ের কৌশল
কুয়েতে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। একজন কর্মী মাসে গড়ে ৪০-৬০ কেডি খরচ করে থাকা-খাওয়ায়। নিচে আনুমানিক মাসিক খরচ:
- আবাসন (শেয়ারিং): ১৫-২৫ কেডি
- খাবার: ১০-১৫ কেডি (নিজে রান্না করলে কম)
- পরিবহন: ৫-১০ কেডি
- মোবাইল ও ইন্টারনেট: ৩-৫ কেডি
- অন্যান্য: ৫ কেডি
মোটামুটি ৩০-৫০ কেডি প্রতি মাসে সঞ্চয় করা সম্ভব, যা বছরে প্রায় ১.৫-২ লাখ টাকা। টাকা পাঠানোর সময় ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জের রেট তুলনা করুন। কুয়েতে থাকার প্রথম কয়েক মাস কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হয়।
কুয়েতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য করণীয় ও বাঁচার উপায়
কুয়েতে গিয়ে সমস্যায় পড়া প্রবাসী ভাইদের গল্প আমরা প্রায়ই শুনি। কিছু সাধারণ সতর্কতাই পারে বড় বিপদ এড়াতে:
- শুধু বিএমইটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেই যান। এজেন্সির রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করুন।
- কাজের চুক্তি বাংলা ও ইংরেজিতে লিখিত নিন, তাতে বেতন, ওভারটাইম, ছুটি, আবাসন পরিষ্কার লেখা থাকবে।
- কুয়েতে পৌঁছেই কোম্পানিকে দিয়ে ইকামা (সিভিল আইডি) করে নিন, সেটাই আপনার বৈধতার প্রমাণ।
- পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখুন, কোনো অবস্থাতেই নিয়োগকর্তাকে জিম্মা করবেন না।
- জরুরি অবস্থায় কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেল্পলাইন: +৯৬৫-৫৫০৩৮১১৫ (২৪ ঘণ্টা)।
কুয়েতের আইন সম্পর্কে জানতে ও নিজের অধিকার বুঝতে স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়ন বা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হন। সৎ ও পরিশ্রমী হলে কুয়েতে জীবনের মান উন্নত করা কঠিন নয়।
কুয়েত থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সহজ উপায়
কুয়েত বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম রেমিট্যান্স উৎস: ২০২৫ সালে পাঠানো হয়েছিল ২.১ বিলিয়ন ডলার, ২০২৬-এ তা ৫% বাড়ার আশা। নিয়মিত টাকা পাঠাতে চাইলে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম বেছে নিন:
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার: কুয়েতে গালফ ব্যাংক, আহলি ইউনাইটেড ব্যাংক, বুরগান ব্যাংক-এ অ্যাকাউন্ট খুলে সরাসরি বাংলাদেশি ব্যাংকে পাঠাতে পারেন। ফি কিছুটা বেশি, কিন্তু নিরাপদ।
- মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ: আল-মুল্লা, আল-রাজি, ইউএই এক্সচেঞ্জের মত প্রতিষ্ঠানের রেট ভালো, ফিও কম।
- মোবাইল অ্যাপস: এমটিসিএন, মানি গ্রাম, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের অ্যাপ দিয়ে ঘরে বসেই টাকা পাঠানো যায়।
সবচেয়ে ভালো রেট ও কম ফি পেতে একাধিক মাধ্যম যাচাই করুন। বৈধ চ্যানেলেই পাঠান, বেশি টাকা নগদে কখনো কারও হাতে দেবেন না।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত দিন লাগে?
উত্তর: ২০২৬ সালের নতুন ডিজিটাল সিস্টেমে সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলে মাত্র ৫ কার্যদিবসে ভিসা ইস্যু হয়।
প্রশ্ন: কুয়েতে ন্যূনতম বেতন কত?
উত্তর: বেসরকারি খাতে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ন্যূনতম মজুরি ৭৫ কুয়েতি দিনার (প্রায় ২৫,০০০ টাকা)।
প্রশ্ন: স্পনসর পরিবর্তন করা যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে স্পনসরের অনুমতি ছাড়াই চাকরি বদলানো যায়। শর্ত সাপেক্ষে আবেদন করতে হয়।
প্রশ্ন: মেডিকেল টেস্টে কী কী চেক করা হয়?
উত্তর: মূলত সংক্রামক রোগ— হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি, যক্ষ্মা; এছাড়া রক্ত ও মূত্রের রুটিন পরীক্ষা হয়।
প্রশ্ন: কুয়েত থেকে কত টাকা পাঠানো যায়?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, তবে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালে ১০,০০০ কেডি পর্যন্ত সহজে পাঠানো যায়। বেশি পরিমাণে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে।
প্রশ্ন: কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন আছে কি?
উত্তর: সাধারণ শ্রমিক, নির্মাণ কর্মী বা ড্রাইভারের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়, তবে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকলে সুবিধা হয়। উচ্চ পদের জন্য স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি চাওয়া হতে পারে। নিয়োগকর্তা যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেন।
প্রশ্ন: কুয়েতে গিয়ে পাসপোর্ট জব্দ করলে কী করব?
উত্তর: পাসপোর্ট জব্দ করা কুয়েতের আইনে অপরাধ। এমন হলে সরাসরি পুলিশে রিপোর্ট করুন এবং কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে (হেল্পলাইন: +৯৬৫-৫৫০৩৮১১৫) যোগাযোগ করুন। দূতাবাস দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
Frequently asked questions
কুয়েত ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত দিন লাগে?
২০২৬ সালের নতুন ডিজিটাল সিস্টেমে সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলে মাত্র ৫ কার্যদিবসে ভিসা ইস্যু হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বেশি সময় নিতে পারে।
কুয়েতে ন্যূনতম বেতন কত?
বেসরকারি খাতে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ন্যূনতম মজুরি ৭৫ কুয়েতি দিনার (প্রায় ২৫,০০০ টাকা)। তবে খাতভেদে বেতন বেশি হতে পারে।
স্পনসর পরিবর্তন করা যাবে কি?
হ্যাঁ, ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে স্পনসরের অনুমতি ছাড়াই চাকরি বদলানো যায়। শর্ত সাপেক্ষে আবেদন করতে হয়, যেমন নূন্যতম বেতন ও বৈধ ইকামা থাকা।
মেডিকেল টেস্টে কী কী চেক করা হয়?
মূলত সংক্রামক রোগ— হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি, যক্ষ্মা (টিবি); এছাড়া রক্ত ও মূত্রের রুটিন পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে করা হয়।
কুয়েত থেকে কত টাকা পাঠানো যায়?
কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, তবে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালে ১০,০০০ কেডি পর্যন্ত সহজে পাঠানো যায়। বেশি পরিমাণে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে।
কুয়েত ওয়ার্ক ভিসার জন্য কী কী ডকুমেন্ট লাগে?
পাসপোর্ট (মেয়াদ ২ বছর), একাডেমিক সার্টিফিকেট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, গামকা মেডিকেল রিপোর্ট, বিএমইটি অনুমোদন, পিএএম অনুমোদিত চুক্তিপত্র, ছবি।