Key takeaways
- দুবাই ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এ মোট খরচ ২.৫-৪.৫ লক্ষ টাকা, যার মধ্যে সরকারি ফি মাত্র ৯০,০০০ টাকা।
- ন্যূনতম বেতন ৩,০০০ দিরহাম, পরিবারের জন্য ৪,০০০ দিরহাম।
- প্রসেসিং টাইম ২-৪ সপ্তাহ, ফাস্ট-ট্র্যাকে ১-২ সপ্তাহ।
- নতুন নিয়ম: গ্রিন ভিসা, ফ্রিল্যান্স ভিসা, জব লস ইন্স্যুরেন্স, বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বিমা।
- প্রতারণা এড়াতে BMET/BAIRA লাইসেন্স ও GDRFA-তে ভিসা যাচাই করুন।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পেতে মোট খরচ সাধারণত ২,৫০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ টাকার মধ্যে পড়ে, যা নিয়োগকারী এজেন্সি ও চাকরির ধরনের উপর নির্ভর করে। সরকারি ফি প্রায় ৩,০০০ দিরহাম (প্রায় ৯০,০০০ টাকা), কিন্তু এজেন্সিগুলো প্রসেসিং, রিক্রুটমেন্ট ও অন্যান্য সেবার জন্য অতিরিক্ত চার্জ নেয়। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩,০০০ দিরহাম (প্রায় ৯০,০০০ টাকা) হতে হবে, তবে পরিবারের ভিসা আনতে চাইলে বেতন ৪,০০০ দিরহাম (প্রায় ১,২০,০০০ টাকা) হওয়া জরুরি।
দুবাই ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬: সম্পূর্ণ খরচ ও প্রক্রিয়া
দুবাই যাওয়ার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া প্রথম ধাপ। ২০২৬ সালে এই ভিসার সঙ্গে জড়িত খরচ ও প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। আসুন, বিস্তারিত জেনে নিই।
মোট খরচের মধ্যে রয়েছে সরকারি ফি, মেডিকেল টেস্ট, প্রশিক্ষণ ফি, এবং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ। নিচে একটি ধারণা দেওয়া হলো:
| খরচের খাত | আনুমানিক পরিমাণ (টাকা) | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| সরকারি ভিসা ফি | ৮০,০০০ – ৯০,০০০ | ২ বছরের ওয়ার্ক ভিসার জন্য UAE সরকার নির্ধারিত ফি |
| মেডিকেল ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট | ৫,০০০ – ৮,০০০ | বাংলাদেশে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা |
| বিএমইটি ও প্রশিক্ষণ | ১০,০০০ – ২০,০০০ | বাংলাদেশ সরকারি ফি ও ভোকেশনাল ট্রেনিং |
| এজেন্সি সার্ভিস চার্জ | ১,০০,০০০ – ৩,০০,০০০ | রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব ফি (কাজের ধরন অনুযায়ী কমবেশি) |
| বিমা (স্বাস্থ্য ও চাকরি হারানো) | ৩০,০০০ – ৬০,০০০ | বার্ষিক স্বাস্থ্য বিমা (বাধ্যতামূলক) এবং জব লস ইন্স্যুরেন্স |
| মোট আনুমানিক খরচ | ২,৫০,০০০ – ৪,৫০,০০০ |
সরকারি ফি বনাম এজেন্সি ফি: অনেকেই ভাবেন পুরো টাকাই সরকার নিয়ে নেয়, কিন্তু বাস্তবে UAE সরকারের নির্ধারিত ফি খুবই সীমিত (প্রায় ৩,০০০ দিরহাম)। বাকি টাকা এজেন্সির নানা ‘সার্ভিস চার্জ’ হিসেবে চলে যায়। তাই কোনো এজেন্সি যদি বলে যে ‘সরকারকে দিতে হবে’, তাহলে সতর্ক হোন।
খরচ কমানোর একটি উপায় হলো সরাসরি নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের একটি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেই যেতে হয়। কোনো এজেন্সি বাছাইয়ের আগে BMET (bmet.gov.bd) এবং BAIRA (baira.org.bd) থেকে তাদের লাইসেন্স নম্বর যাচাই করে নিন।
অনেক এজেন্সি চুক্তির সময় পুরো টাকা দাবি করে—এটি বিশাল লাল পতাকা। নির্ভরযোগ্য এজেন্সিরা সাধারণত কিস্তিতে পেমেন্ট নেয়: প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন ফি (৫,০০০-১৫,০০০ টাকা), ভিসা এপ্রুভালের পর বড় অংশ, এবং চূড়ান্ত যাওয়ার আগে বাকি। পুরো টাকা একবারে দিলে জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ে।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
দুবাই ওয়ার্ক ভিসা আবেদনের জন্য নিচের ডকুমেন্টগুলো আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন। কোনো ঘাটতি থাকলে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে।
- পাসপোর্ট (মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস, কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পাতা)
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, সাম্প্রতিক)
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও মার্কশিট (আরবি বা ইংরেজি অনূদিত এবং নোটারি বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত)
- কাজের অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে)
- মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট (GAMCA বা GCC অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে)
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (ভালো আচরণের সনদ)
- অফার লেটার বা চুক্তিপত্র (যাতে বেতন, পদবি, কাজের সময় বিস্তারিত থাকবে)
- বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে করতে হবে)
সব কাগজ স্ক্যান কপি ও মূল কপি সংরক্ষণ করুন। অনুবাদের সময় ভুল থাকলে সেটি বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে, তাই পেশাদার অনুবাদকের সাহায্য নিন।
দুবাই ওয়ার্ক ভিসার জন্য ন্যূনতম বেতন কত?
২০২৬ সালে দুবাইতে বৈধভাবে কাজ করার জন্য আপনার মাসিক বেতন কমপক্ষে ৩,০০০ দিরহাম (প্রায় ৯০,০০০ টাকা) হতে হবে। তবে এই বেতন মূলত ভিসা ইস্যুর ন্যূনতম চাহিদা মাত্র; বাস্তবে বেতন নির্ভর করবে আপনার কাজের ধরন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপর।
নিচে বিভিন্ন পেশার জন্য সাধারণ বেতন পরিসীমা দেওয়া হলো:
| পেশার ধরন | মাসিক বেতন (AED) | মাসিক বেতন (প্রায় টাকা) |
|---|---|---|
| নির্মাণ শ্রমিক | ১,৫০০ – ২,৫০০ | ৪৫,০০০ – ৭৫,০০০ |
| পরিচ্ছন্নতাকর্মী | ১,৫০০ – ২,০০০ | ৪৫,০০০ – ৬০,০০০ |
| ড্রাইভার | ২,০০০ – ৩,০০০ | ৬০,০০০ – ৯০,০০০ |
| সেলসম্যান | ২,৫০০ – ৪,০০০ | ৭৫,০০০ – ১,২০,০০০ |
| ইলেকট্রিশিয়ান/প্লাম্বার | ৩,০০০ – ৫,০০০ | ৯০,০০০ – ১,৫০,০০০ |
| আইটি প্রফেশনাল | ৬,০০০ – ১৫,০০০ | ১,৮০,০০০ – ৪,৫০,০০০ |
| হোটেল/রেস্টুরেন্ট স্টাফ | ২,০০০ – ৩,০০০ | ৬০,০০০ – ৯০,০০০ |
খেয়াল রাখবেন: এজেন্সি বা নিয়োগকর্তা চুক্তিপত্রে যে বেতন দেখাবেন, তা যেন আপনার আসল বেতন হয়। অনেক সময় ভিসার জন্য বেশি বেতন দেখিয়ে পরে কম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়—এটা বড় প্রতারণা। আপনার কাজের চুক্তি Tas’heel বা Musaned সিস্টেমে নিবন্ধিত হলে তবেই সেটি বৈধ হবে।
পরিবারের ভিসা (স্ত্রী/সন্তান) আনতে চাইলে আপনার ন্যূনতম বেতন ৪,০০০ দিরহাম হতে হবে এবং আবাসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ২০২৬ সালে এই নিয়ম অপরিবর্তিত আছে।
চুক্তির বাইরেও অনেক নিয়োগকর্তা আবাসন, চিকিৎসা বিমা, যাতায়াত ভাতা ও ওভারটাইম সুবিধা দেন। ওভারটাইম সাধারণত মৌলিক বেতনের ২৫% বেশি হয় এবং রাতে হলে ৫০% পর্যন্ত বাড়ে। এই শর্তগুলো চুক্তিতে স্পষ্ট দেখে নিন। কোনো অস্পষ্টতা থাকলে এগিয়ে যাবেন না।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
সাধারণভাবে, বাংলাদেশ থেকে দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পেতে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। তবে জরুরি ভিত্তিতে বা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ সার্ভিসের মাধ্যমে এটি ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া সম্ভব। প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
- নিয়োগকর্তা কর্তৃক UAE-তে ভিসা কোটা অনুমোদন (১-২ দিন)
- এন্ট্রি পারমিট ইস্যু (২-৩ দিন)
- বাংলাদেশে মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (৩-৫ দিন)
- বিএমইটি’র অনুমতি ও প্রশিক্ষণ (২-৪ দিন)
- ভিসা স্ট্যাম্পিং (১-২ দিন)
বিলম্বের প্রধান কারণগুলো হলো: কাগজপত্রে ত্রুটি, UAE সরকারের অতিরিক্ত যাচাই, কিংবা নিয়োগকর্তার ধীরগতি। তাই আবেদনের সময় সব ডকুমেন্ট নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখুন। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে, এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ আরবি বা ইংরেজিতে অনূদিত হতে হবে।
মনে রাখবেন, ভিসা পেলেই যে কাজ শুরু করা যাবে, এমন নয়। দুবাই পৌঁছে ওয়ার্ক পারমিট, এমিরেটস আইডি ও মেডিকেল চেকআপ শেষ করতে আরও কিছুদিন লাগতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া সহজ করতে আমাদের ‘দুবাই ভিসা রিনিউয়াল গাইড’ দেখে নিতে পারেন।

২০২৬ সালে দুবাইয়ের নতুন ভিসা নিয়ম কী কী?
২০২৬ সালে দুবাই (ও সমগ্র UAE) কর্মী-বান্ধব বেশ কিছু নতুন নীতি চালু করেছে যা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ:
- গ্রিন ভিসা: ৫ বছর মেয়াদের এই ভিসা ফ্রিল্যান্সার, বিনিয়োগকারী ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য। এর জন্য স্পন্সর লাগে না, এবং পরিবারের ভিসা নেওয়াও সহজ। ন্যূনতম বেতন ১৫,০০০ দিরহাম হতে হবে।
- ফ্রিল্যান্স ভিসা: ২ বছর মেয়াদের এই ভিসা নির্দিষ্ট পেশার (যেমন কন্টেন্ট রাইটার, ডিজাইনার, ডেভেলপার) জন্য। খরচ কিছুটা কম, এবং এটি আপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়।
- বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বিমা: এখন সব কর্মীকেই বার্ষিক স্বাস্থ্য বিমা কিনতে হবে। সাধারণত খরচ ১,০০০-২,০০০ দিরহাম (৩০,০০০-৬০,০০০ টাকা) যা নিয়োগকর্তা বা কর্মী বহন করবেন। চুক্তি করার সময় এ নিয়ে পরিষ্কার হোন।
- জব লস ইন্স্যুরেন্স (চাকরি হারানোর বীমা): এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি স্কিম। প্রতি মাসে মাত্র ৫-১০ দিরহাম (১৫০-৩০০ টাকা) প্রিমিয়াম দিলে, যদি কোনো কারণে চাকরি চলে যায়, তাহলে পরবর্তী ৩ মাস পর্যন্ত মৌলিক বেতনের ৬০% পর্যন্ত সাহায্য পাওয়া যায়। নিয়োগকর্তা নয়, কর্মী নিজেই এই বীমা করবেন। বিস্তারিত: MOHRE ওয়েবসাইট।
- ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেম (WPS): এটি পূর্ব থেকেই আছে, কিন্তু ২০২৬ সালে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে। এখন সব বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে হবে। বেতন আটকে গেলে আপনি MOHRE অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন।
এসব নিয়ম জানা থাকলে আপনি জেনেশুনে চুক্তি করতে পারবেন এবং ঠকবেন না।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসায় পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, দুবাই ওয়ার্ক ভিসায় স্ত্রী ও সন্তানদের নেওয়া যায়, তবে কিছু শর্ত আছে। মূল শর্ত হলো:
- আপনার মাসিক বেতন কমপক্ষে ৪,০০০ দিরহাম (প্রায় ১,২০,০০০ টাকা) হতে হবে, অথবা বেতন ৩,৫০০+ দিরহাম হলে সঙ্গে কোম্পানির দেওয়া আবাসন ভাতা থাকতে হবে।
- আপনার থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা (টেন্যান্সি কন্ট্রাক্ট) থাকতে হবে।
- পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা করে স্পন্সর ভিসা করতে হবে, যার খরচ জনপ্রতি প্রায় ৫,০০০-৮,০০০ দিরহাম (১,৫০,০০০-২,৪০,০০০ টাকা)।
- সন্তানদের স্কুলের খরচ দুবাইতে বেশ চড়া (বার্ষিক ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ দিরহাম পর্যন্ত) – আগেই হিসাব করে নিন।
পরিবার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জীবনযাত্রার খরচ ভালোভাবে বুঝে নিন। দুবাইতে একজন একক ব্যক্তির মাসিক খরচ (আহার, বাসা ভাড়া, যাতায়াত) গড়ে ২,০০০-৩,০০০ দিরহাম, পরিবারের জন্য তা আরও বেশি।
দুবাইয়ের জীবনযাত্রার প্রকৃত খরচ
বেতনের প্রলোভনে অনেকেই বাস্তবতা উপেক্ষা করেন। দুবাইতে টিকে থাকতে নিচের খরচগুলো মাথায় রাখুন:
- বাসা ভাড়া: স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য মাসিক ১,৫০০–৩,০০০ দিরহাম (শেয়ারিং করলে অর্ধেক)।
- খাবার: নিজে রান্না করলে মাসে ৫০০–৮০০ দিরহাম, বাইরে খেলে ১,০০০–১,৫০০ দিরহাম।
- যাতায়াত: পাবলিক বাস/মেট্রোতে মাসিক প্রায় ২০০–৪০০ দিরহাম; ট্যাক্সি/বাইক চালাতে বেশি।
- মোবাইল/ইন্টারনেট: ২০০–৩৫০ দিরহাম।
- অন্যান্য: পোশাক, প্রসাধনী, বিনোদন ইত্যাদি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন।
সুতরাং, ন্যূনতম বেতন ৩,০০০ দিরহাম পেলে সেখান থেকে ২,০০০–২,৫০০ দিরহাম খরচ করে হাতে তেমন সঞ্চয় থাকে না। সেজন্য দক্ষতা বাড়িয়ে ও ভালো বেতনের চাকরি নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দুবাইয়ে কর্মীর অধিকার ও সুরক্ষা
দুবাইতে গিয়ে যেন কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য আপনার অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন:
- কাজের চুক্তি: সব কর্মীর একটি লিখিত চুক্তি থাকতে হবে, যা Tas’heel বা Musaned-এ নিবন্ধিত। এতে বেতন, কাজের সময়, ওভারটাইম, বাসস্থান নীতি স্পষ্ট লেখা থাকবে।
- বেতন প্রদান: WPS-এর মাধ্যমে ব্যাংকে বেতন জমা হয়। কোনো কারণে বেতন না পেলে বা কম পেলে MOHRE অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ করুন। এই অ্যাপটি বাংলাসহ একাধিক ভাষায় উপলব্ধ।
- কাজের পরিবেশ: UAE আইনে কাজের সময় সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি নয়, এবং প্রতিদিন বিশ্রামের নিয়ম আছে। গরমের সময় (জুন-সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বাইরে কাজ নিষিদ্ধ।
- চাকরি হারালে: জব লস ইন্স্যুরেন্স থাকলে আপনি কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এছাড়া, অবৈধভাবে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হলে দুবাই লেবার কোর্টে অভিযোগ করতে পারেন।
- পাসপোর্ট জব্দ: নিয়োগকর্তা আপনার পাসপোর্ট জব্দ করতে পারবেন না। এটি UAE আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
- গ্র্যাচুইটি: এক বছর চাকরি করলে আইনগতভাবে আপনি গ্র্যাচুইটি পাওয়ার অধিকারী। এটি চাকরির মেয়াদ শেষে এককালীন দেওয়া হয় এবং আপনার মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে।
এসব তথ্য আপনি ইউএই সরকারি পোর্টাল থেকেও পাবেন। নিয়োগকর্তার কোনো অনিয়ম দেখলে MOHRE-
Frequently asked questions
দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পেতে খরচ কত?
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পেতে মোট খরচ ২,৫০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ টাকার মধ্যে। সরকারি ফি প্রায় ৩,০০০ দিরহাম (৯০,০০০ টাকা), বাকি এজেন্সি সার্ভিস চার্জ।
দুবাই ওয়ার্ক ভিসার জন্য ন্যূনতম বেতন কত?
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩,০০০ দিরহাম (প্রায় ৯০,০০০ টাকা) হতে হবে। পরিবারের ভিসা আনতে চাইলে বেতন ৪,০০০ দিরহাম (১,২০,০০০ টাকা) হওয়া জরুরি।
দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে। ফাস্ট-ট্র্যাক সার্ভিসে ১-২ সপ্তাহে সম্ভব।
দুবাই ওয়ার্ক ভিসায় পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, শর্তসাপেক্ষে। মাসিক বেতন ৪,০০০ দিরহাম এবং থাকার ব্যবস্থা থাকতে হবে। স্পন্সর ভিসার খরচ জনপ্রতি ৫,০০০-৮,০০০ দিরহাম।
দুবাই ওয়ার্ক ভিসার নতুন নিয়ম কী?
২০২৬ সালে গ্রিন ভিসা, ফ্রিল্যান্স ভিসা, বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বিমা, জব লস ইন্স্যুরেন্স এবং কঠোর WPS প্রয়োগ হচ্ছে।