দুবাই ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬: বেতন, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ গাইড

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এর খরচ, বেতন, নতুন নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া জানুন। বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স, গ্রিন ভিসা ও ওয়ার্ক বান্ডল সম্পর্কে বিস্তারিত।

Key takeaways

  • দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পেতে ন্যূনতম বেতন AED ৪,০০০ (আবাসনসহ) বা AED ৩,০০০ (আবাসন ও খাবারসহ) হতে হবে।
  • ২০২৬ সালে ওয়ার্ক বান্ডল প্ল্যাটফর্মে মাত্র ৫ দিনে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়।
  • গ্রিন ভিসা সেলফ-স্পনসরড, ৫ বছরের জন্য বৈধ, এবং বেতন থ্রেশহোল্ড AED ১৫,০০০।
  • ভিসার মোট খরচ প্রায় BDT ৪৫,০০০–৭৫,০০০, তবে এজেন্সি চার্জ আলাদা।
  • প্রতারণা এড়াতে শুধুমাত্র বিএমইটি অনুমোদিত এজেন্সির সাথে কাজ করুন এবং UAE সরকারি পোর্টালে ভিসা যাচাই করুন।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এ পেতে হলে আপনার একজন UAE নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ প্রয়োজন। এটি মূলত ২ বছরের জন্য বৈধ একটি কর্মসংস্থান ভিসা, যা নবায়নযোগ্য। এই ভিসার জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন হতে হবে AED ৪,০০০ (বা আবাসন ও খাবারসহ AED ৩,০০০) এবং পুরো প্রক্রিয়ায় আপনার খরচ পড়বে প্রায় BDT ৪৫,০০০–৭৫,০০০। ২০২৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার নতুন ওয়ার্ক বান্ডল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যার মাধ্যমে মাত্র ৫ দিনে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়। দক্ষ ও উচ্চ বেতনের চাকরিজীবীদের জন্য ৫ বছরের গ্রিন ভিসা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। এই গাইডে আমরা ধাপে ধাপে খরচ, যোগ্যতা, নিয়ম এবং প্রতারণা এড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করব।

Dubai skyline with modern buildings and Bangladeshi worker in foreground — দুবাই ওয়ার্ক ভিসা
Dubai skyline with modern buildings and Bangladeshi worker in foreground

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা কী এবং কেন ২০২৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ?

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা, যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমপ্লয়মেন্ট ভিসা বলা হয়, বিদেশি নাগরিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি দেয়। এটি একটি নিয়োগকর্তা-স্পনসরড ভিসা, যার মেয়াদ সাধারণত ২ বছর। নবায়নও করা যায়। ২০২৬ সালে এই ভিসা প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এসেছে যা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনতে পারে।

নতুন ওয়ার্ক বান্ডল প্ল্যাটফর্ম ভিসা প্রসেসিংয়ের ধাপ ৮ থেকে কমিয়ে ৫-এ এনেছে এবং সময় নেমেছে মাত্র ৫ দিনে। পাশাপাশি, গ্রিন ভিসা এখন আরও দক্ষ পেশায় (যেমন আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্যসেবা) পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বেতন থ্রেশহোল্ড AED ১৫,০০০। গ্রিন ভিসার বড় সুবিধা হলো এটি সেলফ-স্পনসরড, মানে নিয়োগকর্তা বদলালেও ভিসা নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দুবাই এখনও আকর্ষণীয় গন্তব্য। নির্মাণ খাতে গড় বেতন AED ১,৫০০ থেকে শুরু করে রিটেইল বা আইটি সেক্টরে AED ৫,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। প্রবাসী আয়ও বাড়ছে। তবে এবার সরকারি তদারকি ও নিয়মকানুন অনেক কঠোর, তাই সঠিক তথ্য জানা জরুরি।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার খরচ ২০২৬: সম্পূর্ণ হিসাব (বিডিটিতে)

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার জন্য মোট খরচ কয়েকটি ধাপে ভাগ করা। নিচের সারণীতে ২০২৬ সালের আনুমানিক খরচ দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, এজেন্সি চার্জ ও ব্যক্তিগত খরচ আলাদা হবে।

আইটেম খরচ (AED) প্রায় বিডিটি (১ AED ≈ ৩০ টাকা)
ভিসা আবেদন ফি ২৫০ ৭,৫০০
মেডিকেল টেস্ট ৩০০–৫০০ ৯,০০০–১৫,০০০
ইমিরেটস আইডি ৩৭০ ১১,১০০
ভিসা স্ট্যাম্পিং ৫০০–১,০০০ ১৫,০০০–৩০,০০০
মোট আনুমানিক ১,৫০০–২,৫০০ ৪৫,০০০–৭৫,০০০

খরচ আরও বেশি হতে পারে যদি আপনি ফাস্ট-ট্র্যাক সার্ভিস নেন বা কোনো অননুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যান। বিএমইটি-র অনুমোদিত এজেন্সি ছাড়া কারও সঙ্গে লেনদেন করবেন না।

passport and visa documents on a wooden table with calculator and pen
passport and visa documents on a wooden table with calculator and pen

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার জন্য ন্যূনতম বেতন কত?

UAE-র বর্তমান শ্রম আইন (ফেডারেল ডিক্রি-ল নং ৩৩, ২০২১) অনুযায়ী, দুবাই ওয়ার্ক ভিসার জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন হতে হবে AED ৪,০০০, যদি নিয়োগকর্তা আবাসন দেন। আর যদি আবাসন ও খাবার দুই-ই দেন, তাহলে বেতন কমপক্ষে AED ৩,০০০ হতে হবে। এই নিয়মটি অদক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য।

তবে ২০২৬ সালে চালু হওয়া গ্রিন ভিসার জন্য বেতন থ্রেশহোল্ড অনেক বেশি—AED ১৫,০০০। এটি দক্ষ পেশাজীবী, ফ্রিল্যান্সার এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য। বাংলাদেশি কর্মীরা সাধারণত নির্মাণ, ক্লিনিং, ড্রাইভিং, হাউসকিপিং ইত্যাদি খাতে কাজ করেন, যেখানে গড় বেতন AED ১,২০০ থেকে AED ৩,০০০-এর মধ্যে। নিচে বিভিন্ন খাতে গড় বেতনের একটি তালিকা দেওয়া হলো:

  • নির্মাণ শ্রমিক: AED ১,২০০–২,০০০
  • গৃহকর্মী: AED ১,৫০০–২,৫০০ (বাসস্থান ও খাবারসহ)
  • রিটেইল সেলসম্যান: AED ২,০০০–৩,০০০
  • ড্রাইভার: AED ২,৫০০–৪,০০০
  • আইটি টেকনিশিয়ান: AED ৪,০০০–৭,০০০
  • সুপারভাইজার: AED ৪,০০০–৬,০০০

মনে রাখবেন, ওভারটাইম, বোনাস ইত্যাদি বেতনের বাইরে। চুক্তিতে সব শর্ত পরিষ্কার থাকা চাই।

construction workers at Dubai construction site
construction workers at Dubai construction site

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পেতে কত সময় লাগে?

২০২৬ সালে ভিসা প্রসেসিং সময় নির্ভর করে আপনি কোন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়ায় সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। এতে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে প্রাথমিক অনুমোদন, মেডিকেল, ইমিরেটস আইডি, ভিসা স্ট্যাম্পিং ইত্যাদি ধাপ থাকে। তবে ওয়ার্ক বান্ডল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই নতুন ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু হয়। এটি ব্যবহার করতে নিয়োগকর্তাকে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার বা টাইপিং সেন্টারে আবেদন করতে হবে।

জরুরি ভিত্তিতে ফাস্ট-ট্র্যাক সার্ভিসও আছে, যার জন্য বাড়তি ফি দিতে হয়। নিচে সময়ের তুলনা দেওয়া হলো:

  1. স্ট্যান্ডার্ড প্রসেসিং: ১০–১৫ কার্যদিবস
  2. ফাস্ট-ট্র্যাক: ৩–৫ কার্যদিবস (বাড়তি AED ৫০০-১,০০০)
  3. ওয়ার্ক বান্ডল: ৫ কার্যদিবস (নতুন আবেদনের জন্য, কোনো বাড়তি খরচ নেই)

তবে ভিসা ইস্যুর পরও আসল পাসপোর্টে স্ট্যাম্পিং ও এন্ট্রি পারমিট পেতে আরও কিছু দিন লাগতে পারে।

Dubai airport departure hall with passengers
Dubai airport departure hall with passengers

২০২৬ সালে দুবাই ওয়ার্ক ভিসার নতুন নিয়ম কী কী?

২০২৬ সাল দুবাই ওয়ার্ক ভিসায় বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। নিচে বড় তিনটি আপডেট তুলে ধরা হলো:

১. ওয়ার্ক বান্ডল প্ল্যাটফর্ম

এটি একটি ডিজিটাল পোর্টাল, যা মোহরের (MOHRE) ও জিডিআরএফএ (GDRFA)-এর মতো সংস্থাগুলোর কাজ একীভূত করেছে। ফলে ভিসা প্রসেসিং ধাপ ৮ থেকে ৫-এ নেমেছে এবং সময় লাগছে মাত্র ৫ দিন। আবেদনকারীকে আর বিভিন্ন অফিসে দৌড়াতে হয় না। নিয়োগকর্তাই অনলাইনে সব কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।

২. গ্রিন ভিসার সম্প্রসারণ

গ্রিন ভিসা এখন আরও অনেক পেশায় উন্মুক্ত। এটি সেলফ-স্পনসরড হওয়ায় চাকরি বদলানো সহজ। ৫ বছর মেয়াদী এই ভিসার জন্য বেতন কমপক্ষে AED ১৫,০০০ হতে হবে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বা বিশেষ দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এটি পরিবারের সদস্যদের জন্যও স্পনসরশিপ সহজ করেছে।

৩. শ্রমিক সুরক্ষা জোরদার

২০২৬ সালে পাসপোর্ট জব্দ করা, বেতন দেরিতে দেওয়া বা ঠিকমতো বীমা না করলে নিয়োগকর্তার জরিমানা অনেক বাড়ানো হয়েছে। ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম (WPS)-এর আওতায় এখন সব বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ বাধ্যতামূলক। সব কর্মীর জন্য ন্যূনতম AED ৫০,০০০ কভারেজের স্বাস্থ্য বীমাও চালু হয়েছে।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসায় চাকরি পরিবর্তন করা যাবে কি?

হ্যাঁ, আপনি দুবাই ওয়ার্ক ভিসায় থাকা অবস্থায় চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন, তবে কিছু শর্ত আছে। সাধারণ নিয়মে, আপনাকে পুরনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) নিতে হবে। নিয়োগকর্তা যদি ছাড়পত্র না দেন, তাহলে আপনি লেবার আদালতের মাধ্যমে চেষ্টা করতে পারেন। তবে বাস্তবে অনেক নিয়োগকর্তা সহজে ছাড়পত্র দেন না।

কিন্তু যদি আপনার কাছে গ্রিন ভিসা থেকে থাকে, তাহলে চাকরি পরিবর্তন সম্পূর্ণ স্বাধীন—কোনো NOC লাগবে না। আপনি যেকোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন, এমনকি ফ্রিল্যান্সও করতে পারবেন।

কিছু ক্ষেত্রে, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর আপনি ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পাবেন নতুন চাকরি খুঁজতে। এই সময়ের মধ্যে নতুন ভিসার আবেদন করতে হবে, নয়তো জরিমানা বা ডিপোর্ট হতে পারে। চাকরি পরিবর্তনের সময় সব কাগজপত্র ঠিকমতো হস্তান্তর করা জরুরি।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার জন্য মেডিকেল টেস্ট কী কী?

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার জন্য মেডিকেল টেস্ট বাধ্যতামূলক। UAE-তে প্রবেশের আগে বা পরে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরে) অনুমোদিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টেস্ট করাতে হবে। যে টেস্টগুলো হবে:

  • বুকের এক্স-রে: যক্ষ্মা (টিবি) শনাক্ত করতে।
  • রক্ত পরীক্ষা: এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, সিফিলিস ইত্যাদি।
  • শারীরিক পরীক্ষা: সাধারণ শারীরিক ফিটনেস ও সংক্রামক রোগ পরীক্ষা।

মেডিকেল টেস্টের খরচ সাধারণত AED ৩০০ থেকে ৫০০-এর মধ্যে, যা ভিসার মোট খরচের অন্তর্ভুক্ত। টেস্টের ফলাফল ৩-৫ কার্যদিবসের মধ্যে অনলাইনে চলে আসে। কোনো মারাত্মক সংক্রামক রোগ ধরা পড়লে ভিসা বাতিল হতে পারে। তাই আগে থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসায় পরিবার নিয়ে যাওয়া যাবে কি?

পরিবার নিয়ে দুবাই যেতে চাইলে আপনার মাসিক বেতন কমপক্ষে AED ৪,০০০ হতে হবে এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া আবাসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে (অথবা বেতন আরও বেশি হতে হবে)। সাধারণ শ্রমিকভিসায় এ সুযোগ নেই বললেই চলে। তবে গ্রিন ভিসা বা ম্যানেজার/সুপারভাইজর ভিসা থাকলে আপনি স্ত্রী, সন্তানদের স্পনসর করতে পারবেন।

পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা করে ভিসা ফি, মেডিকেল ও ইমিরেটস আইডি খরচ হবে—প্রায় AED ২,০০০-৩,০০০ জনপ্রতি। এছাড়া, বসবাসের খরচও বেড়ে যাবে অনেক। তাই পরিবার আনার আগে আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে নিন।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার অফার যাচাই করবেন যেভাবে (সতর্কতা)

প্রতারণা একটি বড় সমস্যা। অনেক বাংলাদেশি এজেন্ট মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণা করে। তাই নিচের ধাপগুলো অবশ্যই মেনে চলুন:

  1. BMET-এর অনলাইন যাচাই: বাংলাদেশের বিএমইটি এখন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে আপনি আপনার ভিসা ও নিয়োগকর্তার তথ্য যাচাই করতে পারবেন। তাদের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক-এ যোগাযোগ করুন।
  2. UAE সরকারি পোর্টাল: ভিসার সত্যতা যাচাই করতে UAE-র ভিসা ও ইমিরেটস আইডি পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন। ভিসা নম্বর ও পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে চেক করুন।
  3. মোহরে অ্যাপ: মোহরে (MOHRE) অ্যাপ ডাউনলোড করে আপনার লেবার কন্ট্রাক্ট ও অনুমোদন দেখতে পারেন।
  4. অনুমোদিত এজেন্সি: কোনো টাকা দেওয়ার আগে দেখে নিন এজেন্সিটি বিএমইটি অনুমোদিত কিনা। লাইসেন্স ছাড়া কাউকে টাকা দেবেন না।
  5. নিয়োগকর্তার সরাসরি যোগাযোগ: সম্ভব হলে নিয়োগকর্তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে নিন। নিয়োগকর্তার ঠিকানা ও লাইসেন্স যাচাই করুন।

সবচেয়ে নিরাপদ হলো বিএমইটি-এর মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া। লোভনীয় বেতনের প্রলোভনে অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন না।

দুবাইতে জীবনযাত্রার খরচ (২০২৬)

দুবাইতে একা থাকলে মাসিক খরচ কেমন হতে পারে, তার একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো। খরচ আপনার জীবনযাপনের মান ও এলাকা অনুযায়ী কমবেশি হতে পারে।

খাত মাসিক খরচ (AED) বিডিটি (প্রায়)
শেয়ারিং আবাসন (বিছানা) ৮০০–১,২০০ ২৪,০০০–৩৬,০০০
খাবার ৬০০–১,০০০ ১৮,০০০–৩০,০০০
পরিবহন (মেট্রো/বাস) ৩০০–৫০০ ৯,০০০–১৫,০০০
মোবাইল ও ইন্টারনেট ১৫০–২৫০ ৪,৫০০–৭,৫০০
বিবিধ (কাপড়, ওষুধ) ২০০–৪০০ ৬,০০০–১২,০০০
মোট ২,০৫০–৩,৩৫০ ৬১,৫০০–১,০০,৫০০

উপরের হিসাব মিতব্যয়ী জীবনযাপনের জন্য। আপনি যদি গড় AED ২,৫০০ বেতন পান, তাহলে হাতে বাড়তি তেমন কিছু থাকবে না। কিন্তু ওভারটাইম ও অভিজ্ঞতার সাথে বেতন বাড়লে সঞ্চয় করা সম্ভব। পরিবার থাকলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এ কী কী ডকুমেন্ট লাগে?

সাধারণত যা লাগে: পাসপোর্টের কপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, শিক্ষাগত সনদ (সত্যায়িত), পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, স্বাস্থ্য বীমা, BMET ছাড়পত্র এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া চুক্তিপত্র ও অফার লেটার। তবে ওয়ার্ক বান্ডল প্ল্যাটফর্মে অনেক কিছু ডিজিটালি আপলোড করা যায়।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা কি অনলাইনে আবেদন করা যায়?

প্রথমবার ভিসা মূলত নিয়োগকর্তাই আবেদন করেন। তবে পুনর্নবীকরণ, এন্ট্রি পারমিট চেক বা কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আপনি আইসিপি (ICP) বা জিডিআরএফএ-র ওয়েবসাইটে নিজেও আবেদন করতে পারেন। ওয়ার্ক বান্ডল সম্পূর্ণ অনলাইন বেসড।

ভিসা ছাড়া দুবাইতে কাজ করলে কী শাস্তি?

এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভিসা ছাড়া কাজ করলে আবিষ্কৃত হলে বড় অঙ্কের জরিমানা (AED ১০,০০০–৫০,০০০), জেল, এবং পরবর্তীতে UAE-তে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। কোনোভাবেই টুরিস্ট ভিসায় কাজ করতে যাবেন না।

বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কি দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া যায়?

আইনগতভাবে, বাংলাদেশি কর্মী হিসেবে আপনার বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এটি ছাড়া ইমিগ্রেশন দিয়ে বের হওয়া যাবে না। তাই বিমানবন্দরে সমস্যায় পড়তে পারেন। BMET অনুমোদন না থাকা মানে ভিসাটি জাল হতে পারে।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ শেষ হলে কী করবেন?

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে থেকেই নবায়নের আবেদন করা যায়। নিয়োগকর্তা আবার স্পনসর করবেন। যদি চাকরি ছেড়ে দেন, তাহলে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে নতুন ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে, নয়তো জরিমানা (প্রথম দিন AED ১২৫, পরবর্তী প্রতিদিন AED ২৫) গুনতে হবে।

Frequently asked questions

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা ২০২৬-এ কী কী ডকুমেন্ট লাগে?

সাধারণত যা লাগে: পাসপোর্টের কপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, শিক্ষাগত সনদ (সত্যায়িত), পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, স্বাস্থ্য বীমা, BMET ছাড়পত্র এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া চুক্তিপত্র ও অফার লেটার। তবে ওয়ার্ক বান্ডল প্ল্যাটফর্মে অনেক কিছু ডিজিটালি আপলোড করা যায়।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসা কি অনলাইনে আবেদন করা যায়?

প্রথমবার ভিসা মূলত নিয়োগকর্তাই আবেদন করেন। তবে পুনর্নবীকরণ, এন্ট্রি পারমিট চেক বা কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আপনি আইসিপি (ICP) বা জিডিআরএফএ-র ওয়েবসাইটে নিজেও আবেদন করতে পারেন। ওয়ার্ক বান্ডল সম্পূর্ণ অনলাইন বেসড।

ভিসা ছাড়া দুবাইতে কাজ করলে কী শাস্তি?

এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভিসা ছাড়া কাজ করলে আবিষ্কৃত হলে বড় অঙ্কের জরিমানা (AED ১০,০০০–৫০,০০০), জেল, এবং পরবর্তীতে UAE-তে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। কোনোভাবেই টুরিস্ট ভিসায় কাজ করতে যাবেন না।

বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কি দুবাই ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া যায়?

আইনগতভাবে, বাংলাদেশি কর্মী হিসেবে আপনার বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এটি ছাড়া ইমিগ্রেশন দিয়ে বের হওয়া যাবে না। তাই বিমানবন্দরে সমস্যায় পড়তে পারেন। BMET অনুমোদন না থাকা মানে ভিসাটি জাল হতে পারে।

দুবাই ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ শেষ হলে কী করবেন?

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে থেকেই নবায়নের আবেদন করা যায়। নিয়োগকর্তা আবার স্পনসর করবেন। যদি চাকরি ছেড়ে দেন, তাহলে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে নতুন ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে, নয়তো জরিমানা (প্রথম দিন AED ১২৫, পরবর্তী প্রতিদিন AED ২৫) গুনতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *