Key takeaways
- ২০২৬ সালে EPS-TOPIK পাস নম্বর ৪০ করা হয়েছে এবং আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন।
- ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৯,৮৬০ ওয়ান; মাসিক আয় ২.৫-৪.০ মিলিয়ন ওয়ান পর্যন্ত।
- আবেদন প্রক্রিয়া: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন → ভাষা পরীক্ষা → নিয়োগপত্র → ভিসা আবেদন।
- মোট খরচ আনুমানিক ২২,৫০০ টাকা, তবে সরকারি ওয়েবসাইট যাচাই করুন।
- প্রতারণা এড়াতে শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট eps.gov.bd ব্যবহার করুন।
দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএস ভিসা কী?
দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএস (Employment Permit System) ভিসা হলো কোরিয়ান সরকারের একটি ওয়ার্ক ভিসা প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা কোরিয়ায় বৈধভাবে কাজ করতে পারেন। এই ভিসার আওতায় মূলত উৎপাদন, কৃষি, মৎস্য ও নির্মাণ খাতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, কারণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ হওয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি কম এবং বেতন ও সুবিধা নিশ্চিত।

ইপিএস ভিসার মাধ্যমে আপনি কোরিয়ায় আইনিভাবে কাজ করতে পারবেন, যা আপনার আয় ও ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সুযোগ। ২০২৬ সালে এই ভিসার নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এসেছে, যা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
২০২৬ সালে ইপিএস ভিসার নতুন নিয়ম ও আপডেট
২০২৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএস ভিসার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এসেছে। প্রথমত, ভাষা পরীক্ষার স্কোর কাটঅফ পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন EPS-TOPIK পরীক্ষায় ন্যূনতম ৮০ নম্বরের মধ্যে ৪০ নম্বর পেতে হবে, আগে যা ছিল ৩৬। দ্বিতীয়ত, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আপনি www.eps.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই সব কাজ করতে পারবেন। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে—যক্ষ্মা ও হেপাটাইটিস বি-এর পাশাপাশি এইচআইভি পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক। কর্মী নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়াতে এখন লটারি পদ্ধতি আর নেই; বরং ভাষা পরীক্ষার স্কোরের ভিত্তিতে সরাসরি নির্বাচন করা হয়।
ইপিএস ভিসার বেতন ও সুবিধা (২০২৬)
২০২৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৯,৮৬০ কোরিয়ান ওয়ান (প্রায় ৬৫০ টাকা)। একজন ইপিএস কর্মী সাধারণত মাসে ২০৯ ঘণ্টা কাজ করেন, ফলে মাসিক বেতন দাঁড়ায় প্রায় ২.০৬ মিলিয়ন ওয়ান (প্রায় ১.৩৭ লাখ টাকা)। তবে ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতা যোগ করলে মোট আয় ২.৫-৩.৫ মিলিয়ন ওয়ান (২-৩ লাখ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।

বেতনের পাশাপাশি কোম্পানি আবাসন (বাসস্থান) বা ভাড়া ভাতা, খাদ্য ভাতা ও চিকিৎসা বীমা প্রদান করে। চিকিৎসা বীমার আওতায় আপনি স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। নিচের টেবিলে বেতন ও সুবিধার একটি ধারণা দেওয়া হলো:
| খাত | মাসিক বেতন (ওয়ান) | বাংলাদেশি টাকায় (প্রায়) |
|---|---|---|
| উৎপাদন | ২.৫-৩.৫ মিলিয়ন | ১.৬৫-২.৩১ লাখ টাকা |
| কৃষি | ২.২-৩.০ মিলিয়ন | ১.৪৫-১.৯৮ লাখ টাকা |
| মৎস্য | ২.৮-৩.৮ মিলিয়ন | ১.৮৫-২.৫১ লাখ টাকা |
| নির্মাণ | ৩.০-৪.০ মিলিয়ন | ১.৯৮-২.৬৪ লাখ টাকা |
ইপিএস ভিসার জন্য যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএস ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে আপনার বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস প্রয়োজন। ভাষা পরীক্ষা (EPS-TOPIK) পাস করা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের মধ্যে রয়েছে:
- ভalid পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ)
- জন্মসনদ
- শিক্ষাগত সনদপত্র
- চারিত্রিক সনদ
- মেডিকেল সার্টিফিকেট
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি

সকল ডকুমেন্ট স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করতে হবে।
ইপিএস ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে
২০২৬ সালে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে। নিচে ধাপগুলো দেওয়া হলো:
ধাপ ১: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন – www.eps.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও ডকুমেন্ট আপলোড করুন।
ধাপ ২: ভাষা পরীক্ষার জন্য আবেদন – EPS-TOPIK পরীক্ষার জন্য অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে ফি জমা দিন। পরীক্ষার তারিখ ও কেন্দ্র সম্পর্কে জানুন।
ধাপ ৩: পরীক্ষার প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ – কোরিয়ান ভাষা শিখে পরীক্ষায় অংশ নিন। পরীক্ষায় পাস করলে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।
ধাপ ৪: ফলাফল ও নিয়োগপত্র – পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আপনার স্কোর অনুযায়ী নিয়োগকর্তা নির্বাচন করবেন। নিয়োগপত্র ইস্যু হবে ইলেকট্রনিকভাবে।
ধাপ ৫: ভিসা আবেদন ও সাক্ষাৎকার – নিয়োগপত্র পাওয়ার পর কোরিয়ান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করুন। সাক্ষাৎকারে অংশ নিন।

সব ধাপ শেষে ভিসা পেলে আপনি কোরিয়া যেতে পারবেন।
ইপিএস ভাষা পরীক্ষা (EPS-TOPIK) ২০২৬
EPS-TOPIK পরীক্ষা কোরিয়ান ভাষার দক্ষতা যাচাই করে। পরীক্ষায় তিনটি অংশ থাকে: শোনা (Listening), পড়া (Reading) ও লেখা (Writing)। মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে পাস করতে হলে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে। পরীক্ষার সময় ১২০ মিনিট। প্রস্তুতির জন্য আপনি “Korean Language for EPS-TOPIK” বইটি ব্যবহার করতে পারেন। অনলাইনে নমুনা প্রশ্ন ও মক টেস্ট পাওয়া যায়।
নিয়মিত অনুশীলন ও কোরিয়ান ড্রামা দেখা ভাষা শেখার কার্যকর উপায়।
ইপিএস ভিসার খরচ ও ফি
দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএস ভিসার জন্য মোট খরচ নির্ভর করে বিভিন্ন ফি-র উপর। নিচে একটি ধারণা দেওয়া হলো:
| খরচের ধরণ | পরিমাণ (বাংলাদেশি টাকা) |
|---|---|
| অনলাইন আবেদন ফি | ৫০০ |
| ভাষা পরীক্ষা ফি | ২,০০০ |
| মেডিকেল পরীক্ষা ফি | ৩,০০০ |
| ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি | ১৫,০০০ |
| অন্যান্য (ছবি, ডকুমেন্ট ইত্যাদি) | ২,০০০ |
| মোট আনুমানিক | ২২,৫০০ |
খরচ পরিবর্তন হতে পারে, তাই সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ ও সংস্কৃতি
কোরিয়ায় মাসিক জীবনযাত্রার খরচ প্রায় ৫০০,০০০-৮০০,০০০ ওয়ান (৩৩,০০০-৫৩,০০০ টাকা)। এর মধ্যে ভাড়া (যদি কোম্পানি না দেয়), খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত। ইপিএস কর্মীদের জন্য সাধারণত কোম্পানি আবাসন দেয়, যা খরচ কমায়। কোরিয়ান সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন—তাদের কাজের শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও সম্মান প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ। কোরিয়ান ভাষা শিখলে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
কোরিয়ায় থাকাকালীন স্থানীয় আইন মেনে চলুন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
ইপিএস ভিসা নিয়ে সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
প্রতারণা থেকে বাঁচতে কখনো ভুয়া এজেন্টের কাছে যাবেন না। ইপিএস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সরকারি, তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিয়ে কাজ করানোর প্রয়োজন নেই। কাজের পরিবেশে আপনার অধিকার সম্পর্কে জানুন—ন্যূনতম মজুরি, ওভারটাইম বেতন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। ভিসা নবায়নের নিয়ম জানুন এবং পরিবার নিয়ে যেতে চাইলে আলাদা ভিসার প্রয়োজন।
ইপিএস ভিসা সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: ইপিএস ভিসার মেয়াদ কত?
উত্তর: ইপিএস ভিসার মেয়াদ সাধারণত ৩ বছর। পরে নবায়ন করা যায়, সর্বোচ্চ ৯ বছর ৮ মাস পর্যন্ত থাকা যায়।
প্রশ্ন: পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় কি?
উত্তর: ইপিএস ভিসায় পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় না। পরিবার নিয়ে যেতে হলে আলাদা ভিসার প্রয়োজন।
প্রশ্ন: চাকরি পরিবর্তন করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে নির্দিষ্ট শর্তে। প্রথম ২ বছর পর নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু নতুন নিয়োগকর্তার অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রশ্ন: কোরিয়ায় কত টাকা সঞ্চয় করা যায়?
উত্তর: জীবনযাত্রার খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ১-২ লাখ টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব, যা আপনার খরচের উপর নির্ভর করে।
বিস্তারিত জানতে সরকারি ইপিএস ওয়েবসাইট দেখুন।
Frequently asked questions
ইপিএস ভিসার মেয়াদ কত?
ইপিএস ভিসার মেয়াদ সাধারণত ৩ বছর। পরে নবায়ন করা যায়, সর্বোচ্চ ৯ বছর ৮ মাস পর্যন্ত থাকা যায়।
পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় কি?
ইপিএস ভিসায় পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় না। পরিবার নিয়ে যেতে হলে আলাদা ভিসার প্রয়োজন।
চাকরি পরিবর্তন করা যায়?
হ্যাঁ, তবে নির্দিষ্ট শর্তে। প্রথম ২ বছর পর নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু নতুন নিয়োগকর্তার অনুমোদন প্রয়োজন।
কোরিয়ায় কত টাকা সঞ্চয় করা যায়?
জীবনযাত্রার খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ১-২ লাখ টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব, যা আপনার খরচের উপর নির্ভর করে।