স্বাধীন তথ্যসেবা — এটি সরকারি ওয়েবসাইট নয়🌍 প্রবাসী বন্ধু✈️ ড্রিম ইন্টারন্যাশনাল
প্রবাসী ইনফো

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ২০২৬ খরচ ও বেতন

স্পেশাল প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬·পড়তে ৬ মিনিট
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ২০২৬ খরচ ও বেতন

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ২০২৬ সালে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতন অকুশল শ্রেণিতে SGD ১,৬০০ (প্রায় ১,৪০,০০০ টাকা), আধা-দক্ষে SGD ২,৩০০ এবং দক্ষ শ্রেণিতে SGD ৩,০০০ নির্ধারিত। সরকারি ফি, সিকিউরিটি বন্ড, মেডিকেল ও এজেন্সি চার্জ মিলিয়ে বাস্তব খরচ BDT ১,২০,০০০–১,৫০,০০০। মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (MOM) বাংলাদেশিদের জন্য ৫,০০০ কোটা বরাদ্দ করেছে এবং অনলাইন পোর্টালে ৭–১০ কর্মদিবসে IPA লেটার পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ থেকে যারা সিঙ্গাপুরে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান, তাদের জন্য ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে নিয়মকানুন কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (MOM) থেকে জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্মীদের বৈধ প্রক্রিয়া এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমেই কেবল আবেদন সম্পন্ন করা উচিত। এই নিবন্ধে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব কীভাবে আপনি কোনো রকম প্রতারণা ছাড়া সঠিক উপায়ে সিঙ্গাপুরে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। আরও জানতে ভিজিট করুন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল পোর্টাল।

প্রবাসী বন্ধু অ্যাপ
প্রবাসী বন্ধু অ্যাপ এখন প্লে স্টোরেনামাজ, টাকার রেট, সোনার দাম, দূতাবাস, সব এক অ্যাপে, ফ্রি
⬇ ডাউনলোড
সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ২০২৬ খরচ ও বেতন

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট ২০২৬: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী নতুন?

এই বছরে MOM তিনটি বড় পরিবর্তন আনেছে: (১) বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য আলাদা ৫,০০০ স্লট, (২) WPOL মোবাইল অ্যাপে কর্মী নিজেই IPA ও পারমিট স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন, (৩) দক্ষতা সনদ (BTEB/NSDA) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে আধা-দক্ষ ও দক্ষ ক্যাটাগরির জন্য। নিচের টেবিলে ক্যাটাগরি-ভিত্তিক শর্তাবলি একনজরে দেখুন।

এছাড়াও, কাজের পরিবেশ এবং কর্মীর অধিকার সুরক্ষায় সিঙ্গাপুর সরকার বেশ কিছু নতুন ধারা যুক্ত করেছে। নিয়োগকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কর্মীদের স্বাস্থ্য বীমা নিশ্চিত করা। বিগত বছরগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বেশি থাকলেও, এখন সরকারি নজরদারি কঠোর হওয়ায় সরাসরি অনলাইন পোর্টালে যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। কর্মীদের উচিত যেকোনো লেনদেনের পূর্বে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা।

ক্যাটাগরি ন্যূনতম বেতন (SGD / BDT) সর্বোচ্চ বয়স সিকিউরিটি বন্ড (SGD) পারমিট মেয়াদ
অকুশল (Unskilled) SGD ১,৬০০ (~ ১,৪০,০০০ টাকা) ৫৮ বছর SGD ৩০০ সর্বোচ্চ ২ বছর
আধা-দক্ষ (Semi-skilled) SGD ২,৩০০ (~ ২,০১,০০০ টাকা) ৫৫ বছর SGD ৫০০ ২–৩ বছর
দক্ষ (Skilled / SEC-R) SGD ৩,০০০ (~ ২,৬২,০০০ টাকা) ৫০ বছর SGD ৮০০ সর্বোচ্চ ৫ বছর

যোগ্যতা ও শর্তাবলি: কে পেতে পারেন সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট?

যেকোনো বিদেশি কর্মীর জন্য সিঙ্গাপুরে কাজ করার নির্দিষ্ট কিছু মাপকাঠি পূরণ করা বাধ্যতামূলক। নিচে প্রধান শর্তগুলো তুলে ধরা হলো যা একজন আবেদনকারীকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে:

  • বয়স: ক্যাটাগরি অনুযায়ী ৫০–৫৮ বছর পর্যন্ত।
  • পাসপোর্ট: আবেদনের সময় কমপক্ষে ৭ মাস মেয়াদ বাকি থাকতে হবে।
  • দক্ষতা সনদ: BTEB বা NSDA স্বীকৃত ট্রেনিং সেন্টারের সার্টিফিকেট আধা-দক্ষ ও দক্ষ ক্যাটাগরির জন্য বাধ্যতামূলক।
  • মেডিকেল: টিবি, হেপাটাইটিস, এইচআইভি-মুক্ত থাকার সনদ MOM-অনুমোদিত ক্লিনিক থেকে।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: বাংলাদেশ পুলিশ থেকে অপরাধমুক্ত রেকর্ডের সার্টিফিকেট।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেকের পাসপোর্টের মেয়াদের কারণে শেষ মুহূর্তে ভিসা প্রসেসিং আটকে যায়। তাই আবেদন করার আগেই পাসপোর্টের মেয়াদ চেক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো গোপন রোগ থাকলে তা পরবর্তীতে বিপাকে ফেলতে পারে। তাই শতভাগ সুস্থতা নিশ্চিত করেই মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন করুন।

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপ গাইড ২০২৬

কর্মী সরাসরি আবেদন করতে পারেন না; অনুমোদিত সিঙ্গাপুরি নিয়োগকর্তা বা তাদের নিবন্ধিত এজেন্সি WPOL পোর্টাল-এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা হয়।

  1. চাকরির অফার ও কাগজপত্র: নিয়োগপত্র, পাসপোর্ট কপি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি, শিক্ষাগত ও কারিগরি সনদ নিয়োগকর্তার কাছে জমা দিন।
  2. WPOL-এ অনলাইন আবেদন: নিয়োগকর্তা লগইন করে কর্মীর তথ্য ও স্ক্যান কপি আপলোড করবেন।
  3. প্রক্রিয়াকরণ সময়: ২০২৬ সালে গড়ে ৭–১০ কর্মদিবস (২০২৪ সালে ছিল ১২–১৫ দিন)।
  4. IPA লেটার: মঞ্জুর হলে In-Principle Approval (IPA) ইস্যু হয় — এটি অস্থায়ী এন্ট্রি পারমিট।
  5. সিঙ্গাপুরে মেডিকেল ও বায়োমেট্রিক: MediCheck বা অন্য অনুমোদিত ক্লিনিকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল, তারপর MOM সার্ভিস সেন্টারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি।
  6. গ্রিন কার্ড / ই-পারমিট: সব পরীক্ষা পাস করলে প্লাস্টিক কার্ড বা ডিজিটাল ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু হয়।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে কাগজপত্রে কোনো ভুল থাকলে বা অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে সময় বাড়তে পারে। তাই শুরু থেকেই সকল ডকুমেন্ট নিখুঁতভাবে তৈরি রাখা অত্যন্ত জরুরি।

খরচ ব্রেকডাউন ২০২৬: সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট কত টাকা লাগে?

সরকারি ফি নির্দিষ্ট, কিন্তু এজেন্সি চার্জ ভিন্ন হতে পারে। নিচের টেবিলে প্রতিটি খরচের হিসাব দেওয়া হলো (১ SGD ≈ ৮৭.৫০ BDT, নভেম্বর ২০২৬ অনুমান)। দালালদের ফাঁদে পা না দিয়ে সঠিক খরচের হিসাব জেনে রাখা ভালো।

খরচের খাত SGD প্রায় BDT দায়ী
MOM আবেদন ফি ১০৫ ৯,২০০ নিয়োগকর্তা
সিকিউরিটি বন্ড (ব্যাংক গ্যারান্টি) ৩০০–৮০০ ২৬,০০০–৭০,০০০ নিয়োগকর্তা (রিফান্ডেবল)
মেডিকেল টেস্ট ৮০–১২০ ৭,০০০–১০,৫০০ কর্মী/নিয়োগকর্তা
স্বাস্থ্য বীমা (বার্ষিক ৬০,০০০ SGD কভারেজ) প্রিমিয়াম ভিন্ন নিয়োগকর্তা বহন নিয়োগকর্তা
এজেন্সি সার্ভিস চার্জ (সরকারি হার) — ৫০,০০০–৮০,০০০ কর্মী
মোট আনুমানিক খরচ (কর্মী) — ১,২০,০০০–১,৫০,০০০ —

সতর্কতা: কোনো এজেন্সি ৩–৫ লাখ টাকা দাবি করলে সেটি অবৈধ। সিঙ্গাপুর আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত রিক্রুটমেন্ট ফি নেওয়া শাস্তিযোগ্য। বি এম ই টি (BMET) ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার আগে এজেন্সির লাইসেন্স Probashi.gov.bd-এ যাচাই করুন। অতিরিক্ত টাকা লেনদেন করলে তার কোনো আইনি সুরক্ষা আপনি পাবেন না।

কোটা সিস্টেম ২০২৬: ৫,০০০ স্লট কীভাবে বিতরণ হচ্ছে?

MOM সেক্টর-ভিত্তিক Dependency Ratio Ceiling (DRC) মেনে কোটা বিতরণ করে। নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানে খালি স্লট না থাকলে আবেদন সম্ভব নয়। কোন খাতে কত কোটা বরাদ্দ রয়েছে তা নিচের তালিকা থেকে দেখে নিন:

কাজের খাত (Sector) কোটা অনুপাত মোট স্লট প্রধান পদবী
নির্মাণ (Construction) ৬০% ৩,০০০ ম্যাসন, স্টিল ফিক্সার, স্ক্যাফোল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান
উৎপাদন (Manufacturing) ৩০% ১,৫০০ মেশিন অপারেটর, অ্যাসেম্বলার, ওয়েল্ডার
সার্ভিস ও অন্যান্য (Services) ১০% ৫০০ লজিস্টিকস ওয়ার্কার, ক্লিনার, ফুড প্রসেসিং

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিট স্ট্যাটাস ও আইপিএ যাচাইয়ের সঠিক নিয়ম

প্রতারণা এড়াতে নিজেই যাচাই করুন: WPOL বা MOM-এর অফিসিয়াল অ্যাপে ‘Check Work Permit Status’ এ ক্লিক করুন, পাসপোর্ট নম্বর ও জন্মতারিখ দিন। স্ট্যাটাসে ‘Approved’ থাকলে এবং কোম্পানির নাম অফার লেটারের সাথে মিলে গেলে কাগজপত্র সঠিক। PDF ফাইলের ওপর আস্থা না করে লাইভ পোর্টাল যাচাই করুন। বিদেশে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও BMET ক্লিয়ারেন্স অবশ্যই নিন।

অনেকেই দালালদের দেওয়া প্রিন্ট করা কাগজকে আসল মনে করেন, যা এক ধরণের বড় ভুল। ডিজিটাল যুগে সিঙ্গাপুর সরকারের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো ডকুমেন্টের সত্যতা যাচাই করা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। তাই নিজে যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।

প্রতারণা এড়াতে যাচাই করুন এই ৫টি বিষয় (চেকলিস্ট)

  • এজেন্সির BMET লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ Probashi.gov.bd-এ মিলানো।
  • নিয়োগকর্তার কোম্পানির নাম MOM-এ রেজিস্টर्ड আছে কি (WPOL-এ সার্চ করুন)।
  • চাকরির অফার লেটারে বেতন, ডিউটি আওয়ার, ওভারটাইম হার স্পষ্ট লেখা আছে কি।
  • সিকিউরিটি বন্ডের টাকা এজেন্সি নিচ্ছে কিনা — নিয়মে এটি নিয়োগকর্তা ব্যাংক গ্যারান্টি দেন।
  • ভিসা স্ট্যাম্পিং-এর আগে পাসপোর্টের মেয়াদ ৭ মাসের বেশি আছে কি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিটের জন্য কত বয়স পর্যন্ত আবেদন করা যায়?
উত্তর: অকুশল ৫৮ বছর, আধা-দক্ষ ৫৫ বছর, দক্ষ ৫০ বছর পর্যন্ত।
প্রশ্ন: IPA লেটার পাওয়ার পর কত দিনের মধ্যে সিঙ্গাপুরে যেতে হয়?
উত্তর: IPA-তে উল্লিখিত মেয়াদ (সাধারণত ৬০ দিন) এর মধ্যে প্রবেশ করতে হয়।
প্রশ্ন: কি আমি নিজে WPOL-এ আবেদন করতে পারি?
উত্তর: না, শুধু অনুমোদিত সিঙ্গাপুরি নিয়োগকর্তা বা তাদের নিবন্ধিত এজেন্সি আবেদন করতে পারে।
প্রশ্ন: ওয়ার্ক পারমিট রিনিউয়ালের নিয়ম কী?
উত্তর: মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬–৮ সপ্তাহ আগে নিয়োগকর্তা WPOL-এ রিনিউয়াল আবেদন করে; মেডিকেল রিপোর্ট আপডেট করতে হয়।
প্রশ্ন: এজেন্সি ফি ১ লাখের বেশি দাবি করলে কী করব?
উত্তর: BMET-এ অভিযোগ করুন; সরকারি হার ৫০,০০০–৮০,০০০ টাকার বেশি নেওয়া অবৈধ।

Frequently asked questions

সিঙ্গাপুর ওয়ার্ক পারমিটের জন্য কত বয়স পর্যন্ত আবেদন করা যায়?

অকুশল ৫৮ বছর, আধা-দক্ষ ৫৫ বছর, দক্ষ ৫০ বছর পর্যন্ত।

IPA লেটার পাওয়ার পর কত দিনের মধ্যে সিঙ্গাপুরে যেতে হয়?

IPA-তে উল্লিখিত মেয়াদ (সাধারণত ৬০ দিন) এর মধ্যে প্রবেশ করতে হয়।

কি আমি নিজে WPOL-এ আবেদন করতে পারি?

না, শুধু অনুমোদিত সিঙ্গাপুরি নিয়োগকর্তা বা তাদের নিবন্ধিত এজেন্সি আবেদন করতে পারে।

ওয়ার্ক পারমিট রিনিউয়ালের নিয়ম কী?

মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬–৮ সপ্তাহ আগে নিয়োগকর্তা WPOL-এ রিনিউয়াল আবেদন করে; মেডিকেল রিপোর্ট আপডেট করতে হয়।

এজেন্সি ফি ১ লাখের বেশি দাবি করলে কী করব?

BMET-এ অভিযোগ করুন; সরকারি হার ৫০,০০০–৮০,০০০ টাকার বেশি নেওয়া অবৈধ।

ছবি: Merlion444 / Wikimedia Commons, Public domain; RL0919 / Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0

💬 মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রশ্ন বা অভিজ্ঞতা লিখে প্রথম মন্তব্যটি করুন।

আপনার মন্তব্য বা প্রশ্ন লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন