দুবাই থেকে ইউরোপ যাওয়ার জন্য ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সবচেয়ে সহজ ৭টি দেশ হলো রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল ও ইতালি। ইউএই রেসিডেন্স ভিসা, বৈধ এমিরেটস আইডি, দুবাই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC) এবং ৬ মাসের সচল ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকলে বৈধভাবে ওয়ার্ক পারমিট ও টাইপ-ডি ন্যাশনাল ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় গড়ে ১২,০০০ থেকে ২২,০০০ এইডি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪.২ থেকে ৭.৮ লাখ টাকা) খরচ হয় এবং দেশভেদে সময় লাগে ৪ থেকে ৮ মাস।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বহু প্রবাসী শ্রমিক ও পেশাজীবী উন্নত জীবনযাত্রা, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শ্রম অধিকারের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমাতে চান। সঠিকভাবে আবেদন না করলে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হতে পারে। এজন্য সঠিক নিয়মকানুন জানা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথগুলো সম্পর্কে আগ্রহী হন, তবে আমাদের ইউরোপ স্কলারশিপ গাইড পড়ে দেখতে পারেন।
দুবাই থেকে ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়: সহজ ৭ দেশের তালিকা
২০২৬ সালে দুবাই থেকে ইউরোপে কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ ৭টি দেশ নিচে দেওয়া হলো। এই দেশগুলো শেঞ্জেন এলাকার সদস্য, শ্রম বাজারে চাহিদা বেশি এবং UAE-এর সাথে সহজ রেজিডেন্স শেয়ারিং নীতি রয়েছে।
- রোমানিয়া – আংশিক শেঞ্জেন সদস্য হওয়ার পর কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভিং, ওয়েয়ারহাউজ ও কৃষি সেক্টরে বিশাল কর্মী কোটা বরাদ্দ রেখেছে।
- ক্রোয়েশিয়া – ট্যুরিজম, হসপিটালিটি, ফুড ডেলিভারি ও নির্মাণ খাতে কর্মীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং আবেদন প্রক্রিয়া অপেক্ষাকৃত দ্রুত।
- পোল্যান্ড – প্রোডাকশন প্ল্যান্ট, লজিস্টিক্স, ফুড প্যাকেজিং ও আইটি সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কাজের বড় বাজার।
- হাঙ্গেরি – ম্যানুফ্যাকচারিং, অ্যাসেম্বলি লাইন ও অটোমোটিভ পার্টস কারখানায় কর্মী সংকট মেটাতে সহজ ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করছে।
- লিথুয়ানিয়া – আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্স ও কার্গো ট্রান্সপোর্ট খাতে ব্যাপক কর্মী নিচ্ছে, যেখানে ইংরেজি বা প্রাথমিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই সুবিধা মেলে।
- পর্তুগাল – এগ্রিকালচার, ক্লিনিং সার্ভিস ও আতিথ্য খাতে নিয়মিত কর্মী নিয়োগ দেয়, পাশাপাশি ইউরোপে দীর্ঘমেয়াদে বৈধ হওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখে।
- ইতালি – সরকারি ডেক্রেতো ফ্লুসি (Decreto Flussi) কোটায় কৃষি ও সেবা খাতে কর্মী নেয়, যেখানে প্রারম্ভিক বেতন তুলনামূলক বেশি।

রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়া ২০২৪ সালে আংশিক শেঞ্জেনভুক্ত হওয়ার পর ২০২৬ সালে বায়োমেট্রিক চেক ও পটভূমি যাচাই কঠোর করা হয়েছে, তবে আবেদন প্রক্রিয়া এখনও তুলনামূলকভাবে দ্রুত।
দুবাই থেকে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া সবচেয়ে সহজ?
সফলতার হার ও ওয়ার্ক পারমিট প্রসেসিংয়ের গতি বিবেচনা করলে বর্তমানে রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়া শীর্ষে অবস্থান করছে। ইউএই-তে বৈধ রেসিডেন্স ভিসাধারী প্রবাসীদের জন্য এই দুই দেশের কোম্পানিগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৫ মাসের মধ্যে অনুমোদিত কাজের অনুমতিপত্র পাঠাতে পারে। এছাড়া সরকারি কোটায় বাংলাদেশি কর্মীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মধ্য ইউরোপের হাঙ্গেরি ও বাল্টিক অঞ্চলের লিথুয়ানিয়ায় লজিস্টিক ও ফ্যাক্টরি সেক্টরে প্রচুর লোক নেওয়া হচ্ছে। এসব দেশে সরাসরি চাকরির নিয়োগপত্র পেলে ভিএফএস গ্লোবাল দুবাইয়ের মাধ্যমে টাইপ-ডি রেসিডেন্স ভিসার সাক্ষাৎকার ও ফাইল জমা দেওয়া বেশ সহজ। মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে ইউরোপে স্থায়ী হওয়ার আগে সঠিক আইনি পরামর্শ বা কাজের সন্ধান পেতে গাল্ফ প্রবাসীদের ইউরোপ যাত্রা প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিশ্লেষণ দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
দুবাই থেকে ইউরোপ যেতে কত টাকা খরচ হয় ২০২৬ সালে?
ইউরোপীয় ইউনিয়নে চাকরির ভিসা পেতে খরচের অঙ্ক নির্ভর করে কাঙ্ক্ষিত দেশ, কাজের ধরন এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর। তবে সাধারণ ব্যয়ের একটি বাস্তবসম্মত বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
- ওয়ার্ক পারমিট ও লিগ্যাল প্রসেসিং ফি: ১২,০০০–২২,০০০ AED (এজেন্সি ও সরকারি ফি বাবদ)
- শেঞ্জেন টাইপ-ডি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফি: ৯০ ইউরো (প্রায় ৩৬০–৩৮০ AED)
- মেডিকেল ফিটনেস ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (PCC): ৩০০–৫০০ AED
- ডকুমেন্ট নোটারি ও MoFA সত্যায়ন খরচ: ৪০০–৭০০ AED
- ৬ মাসের ব্যাংক ব্যালেন্স প্রমাণ: অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ৮,০০০–১৫,০০০ AED থাকা বাঞ্ছনীয়
- একমুখী বিমান টিকিট ও প্রাথমিক সেটেলমেন্ট: প্রায় ৩,০০০–৪,৫০০ AED
নিচে দেশভিত্তিক আনুমানিক খরচ, ভিসা ইস্যুর সময় এবং মাসিক প্রারম্ভিক বেতনের তুলনা সারণি দেওয়া হলো (উৎস: European Commission – Migration & Home Affairs ও VFS Global UAE):
| দেশ | প্রসেসিং সময় | এজেন্সি/সরকারি খরচ (AED) | শেঞ্জেন ভিসা ফি (AED) | প্রারম্ভিক বেতন (ইউরো/মাস) |
|---|---|---|---|---|
| রোমানিয়া | ৩–৫ মাস | ১২,০০০–২০,০০০ | ৩৬০–৩৮০ | ৬০০–৯০০ |
| ক্রোয়েশিয়া | ৪–৬ মাস | ১৪,০০০–২২,০০০ | ৩৬০–৩৮০ | ৬৫০–৯৫০ |
| পোল্যান্ড | ৫–৮ মাস | ১৫,০০০–২২,০০০ | ৩৬০–৩৮০ | ৮০০–১,১০০ |
| পর্তুগাল | ৬–৯ মাস | ১৬,০০০–২৪,০০০ | ৩৬০–৩৮০ | ৮৫০–১,২০০ |
| হাঙ্গেরি | ৪–৭ মাস | ১৩,০০০–২১,০০০ | ৩৬০–৩৮০ | ৭৫০–১,০৫০ |
| লিথুয়ানিয়া | ৫–৭ মাস | ১৪,০০০–২২,০০০ | ৩৬০–৩৮০ | ৬৫০–৯৫০ |
| ইতালি | ৬–৯ মাস | ১৮,০০০–২৫,০০০ | ৩৬০–৩৮০ | ৯৫০–১,৪০০ |
দুবাই থেকে ইউরোপের ওয়ার্ক পারমিট পেতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
নথিপত্র প্রস্তুত করার সময় কোনো অসঙ্গতি থাকলে ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকাকালীন সব নথির কপি পরিষ্কার এবং নির্দেশিত উপায়ে সত্যায়িত করতে হবে।
📅আপনি কত দিন ধরে প্রবাসে?প্রবাসী বন্ধুতে হিসাব করুন, নিজের ছবিসহ কার্ড বানিয়ে পরিবারকে পাঠান — ফ্রিকার্ড বানান →| নথিপত্র | বিবরণ |
|---|---|
| মূল পাসপোর্ট | ন্যূনতম ১২ মাসের বৈধতা এবং অন্তত ২টি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে |
| Emirates ID | বৈধ আমিরাত আইডি, যার মেয়াদ অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস অবশিষ্ট আছে |
| দুবাই রেজিডেন্স ভিসা | GDRFA বা ICP অনুমোদিত বৈধ দুই বছরের রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস |
| Dubai Police PCC | দুবাই পুলিশ অ্যাপ থেকে সংগৃহীত ডিজিটাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট |
| ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট | ইউএই ব্যাংক থেকে স্ট্যাম্পসহ স্টেটমেন্ট (ন্যূনতম ব্যালেন্স ৮,০০০–১২,০০০ AED) |
| কাজের চুক্তিপত্র (Work Contract) | ইউরোপীয় স্পনসর কোম্পানির সিলমোহর ও বেতন উল্লেখ থাকা আসল কপি |
| সরকারি ওয়ার্ক পারমিট লেটার | সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশের শ্রম ও অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপত্র |
| Type D Visa আবেদন ফর্ম | সংশ্লিষ্ট দেশের VFS Global পোর্টাল থেকে পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ফর্ম |
| মেডিকেল ইনস্যুরেন্স ও ফিটনেস | শেঞ্জেন মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম ৩০,০০০ ইউরো কভারেজযুক্ত ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স |
| শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সনদ | সংশ্লিষ্ট পেশার নোটারাইজড ও MoFA সত্যায়িত প্রশংসাপত্র |
দুবাই থেকে ইউরোপের কাজের ভিসা প্রসেসিংয়ের সঠিক ধাপসমূহ
সঠিক আইনি পদ্ধতি মেনে ধাপে ধাপে এগোলে কোনো জটিলতা ছাড়াই ভিসা পাওয়া সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে সংক্ষেপে সাজানো হলো:
- বৈধ জব অফার ও ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ: ইউরোপের নিবন্ধিত নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ওই দেশের অভিবাসন দপ্তর থেকে আপনার নামে ওয়ার্ক পারমিট বা লেবার ক্লিয়ারেন্স ইস্যু করাতে হবে। চুক্তিতে পদের নাম, কর্মঘণ্টা এবং মাসিক বেতন স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও MoFA সত্যায়ন: Dubai Police স্মার্ট অ্যাপ থেকে PCC সংগ্রহ করুন। এরপর নথিপত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MoFA UAE) থেকে ইলেকট্রনিকভাবে বা সরাসরি সত্যায়িত করে নিন।
- VFS Global বা দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ: যে দেশের পারমিট এসেছে, তাদের নিযুক্ত কনস্যুলেট বা VFS Global Dubai সেন্টারে ন্যাশনাল ডি-ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং নিশ্চিত করুন।
- ফাইল জমা ও বায়োমেট্রিক প্রদান: নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ইনস্যুরেন্স এবং অনুবাদকৃত কাগজপত্র জমা দিন। একই সাথে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি গ্রহণ করা হবে।
- ভিসা ইন্টারভিউ ও স্ক্রিনিং: ইতালি, পর্তুগাল বা পোল্যান্ডের মতো কিছু দূতাবাস মৌলিক কাজের দক্ষতা ও ইংরেজি যোগাযোগের ওপর সংক্ষিপ্ত ইন্টারভিউ নিতে পারে।
- পাসপোর্ট স্ট্যাম্পিং ও ফ্লাইট প্রস্তুতি: ভিসা ইস্যু হলে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন। ভিসার বৈধতার মেয়াদ, এন্ট্রি ডেট এবং স্পনসর তথ্য নির্ভুল আছে কিনা যাচাই করুন।
- BMET ক্লিয়ারেন্স (বাংলাদেশিদের জন্য): প্রবাস থেকে ইউরোপ গমনকারীদের নিজ দেশের নিয়ম অনুযায়ী সরকারি অভিবাসন তথ্য ডাটাবেজে আপডেট রাখা কিংবা পরবর্তীতে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য বিএমইটি ছাড়পত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যক।
ভিজিট ভিসায় দুবাই গিয়ে কি ইউরোপের কাজের ভিসা লাগানো সম্ভব?
না, এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অসম্ভব। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩০ দিন বা ৬০ দিনের ট্যুরিস্ট কিংবা ভিজিট ভিসায় অবস্থানকারী কোনো বিদেশি নাগরিক ইউরোপীয় কোনো দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে লং-টার্ম ওয়ার্ক পারমিট বা রেসিডেন্স ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন না।
ইউরোপীয় কনস্যুলেটগুলো দুবাইয়ের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অন্তত ৩ মাস মেয়াদ থাকা বৈধ এমিরেটস রেসিডেন্স ভিসা ও এমিরেটস আইডি বাধ্যতামূলক করেছে। দালাল চক্র প্রায়ই দাবি করে ভিজিট ভিসায় দুবাই এসে এক মাসে ইউরোপের ভিসা লাগানো যায়। এসব কথায় বিশ্বাস করে কেউ টাকা দিলে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি শতভাগ। সঠিক নিয়ম হলো দুবাইয়ে দুই বছরের কাজের বা ফ্রিল্যান্স ভিসা নিশ্চিত করে ব্যাংকিং ও ট্যাক্স হিস্ট্রি তৈরি করা, তারপর ইউরোপের জন্য আবেদন করা।
দুবাই থেকে ইউরোপ ভিসা রিজেক্ট হওয়ার প্রধান কারণ ও প্রতিকার
শেঞ্জেন ও ইউরোপীয় জাতীয় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি কাজ করে:
- ব্যাংক স্টেটমেন্টে অসংগতি: শেষ মুহূর্তে হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা জমা করা বা ধারাবাহিক মাসিক বেতনের প্রতিফলন না থাকা।
- নকল ওয়ার্ক পারমিট: অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে জাল লেবার অ্যাপ্রুভাল লেটার সংগ্রহ করা।
- অনুপযুক্ত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: দুবাই পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে নাম বা পাসপোর্টের ভুল থাকা অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া।
- ভুল ক্যাটাগরিতে আবেদন: কাজের ভিসার পরিবর্তে ভুলবশত ট্যুরিস্ট ক্যাটাগরি বেছে নেওয়া।
প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়: সবসময় নিজের কোম্পানি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়মিত বেতন তুলুন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ওয়ার্ক পারমিট নম্বর যাচাই করে নিন। ভিসা রিজেক্ট হলে সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে কনস্যুলার সেকশনে আপিল করার লিখিত সুযোগ থাকে।
দুবাই প্রবাসী কর্মীদের জন্য সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
- ইউরোপের ওয়ার্ক পারমিট হাতে পেতে সাধারণত কতদিন সময় লাগে? গড়ে ৪ থেকে ৮ মাস সময় লাগে। তবে রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার পারমিট ৩ থেকে ৫ মাসের মধ্যে চলে আসে।
- দুবাই থেকে ইউরোপে কোন কাজের বেতন সবচেয়ে বেশি? পর্তুগাল ও ইতালিতে প্রারম্ভিক বেতন ৮৫০ থেকে ১,৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। পূর্ব ইউরোপে সাধারণত ৬০০ থেকে ৯০০ ইউরো হয়ে থাকে।
- ওয়ার্ক পারমিট আসল নাকি ভুয়া তা অনলাইনে যাচাই করার উপায় কী? ইউরোপীয় ইমিগ্রেশন ডিরেক্টরেটের অনলাইন ভেরিফিকেশন পোর্টাল অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাইটে পারমিট নম্বর দিয়ে যাচাই করা যায়।
- দুবাই থেকে ইউরোপ যাওয়ার পর কি পরিবারকে পরে নিয়ে আসা যায়? হ্যাঁ, প্রথম বছরের বৈধ কাজের অনুমতি নবায়নের পর নির্ধারিত ন্যূনতম বার্ষিক আয় দেখালে ফ্যামিলি রিইউনিয়ন ভিসায় পরিবার আনা সম্ভব।
- দুবাই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (PCC) কতদিনের জন্য বৈধ? ইস্যুর তারিখ থেকে সাধারণত ৩ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে, তবে কিছু দেশ সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত গ্রহণ করে।
- শেঞ্জেন ভিসা ফি ২০২৬ সালে কত? প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৯০ ইউরো (প্রায় ৩৬০–৩৮০ AED) এবং শিশুদের জন্য ৪৫ ইউরো নির্ধারিত রয়েছে।
কী টেকঅয়ে (Key Takeaways)
- দুবাই থেকে ইউরোপের সবচেয়ে সহজ দেশগুলো হলো রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল ও ইতালি।
- আবেদনের জন্য অন্তত ৩ থেকে ৬ মাসের মেয়াদ থাকা বৈধ এমিরেটস আইডি, সচল রেসিডেন্স ভিসা ও দুবাই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকা আবশ্যক।
- মোট খরচ পড়ে প্রায় ১২,০০০ থেকে ২২,০০০ AED এবং সম্পূর্ণ ভিসা প্রক্রিয়ায় সময় লাগে ৪ থেকে ৮ মাস।
- ভিজিট ভিসায় দুবাই গিয়ে ইউরোপের কাজের ভিসা লাগানো যায় না; বৈধ রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস ছাড়া ফাইল গ্রহণ করে না কোনো দূতাবাস।
- জালিয়াতি এড়াতে সবসময় অফিশিয়াল VFS Global এবং ইউরোপীয় সরকারি পোর্টালে কাজের পারমিট নম্বর যাচাই করে নিশ্চিত হোন।
Frequently asked questions
দুবাই থেকে ইউরোপের ওয়ার্ক পারমিট পেতে সাধারণত কতদিন সময় লাগে?
সাধারণত ৪ থেকে ৮ মাস সময় লাগে। তবে রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিট তুলনামূলকভাবে দ্রুত, ৩ থেকে ৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
দুবাই থেকে ইউরোপে কোন কাজের বেতন সবচেয়ে বেশি?
পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো যেমন পর্তুগাল ও ইতালিতে প্রাথমিক বেতন মাসে ৮৫০ থেকে ১,৪০০ ইউরো। পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে মাসিক বেতন গড়ে ৬০০ থেকে ৯০০ ইউরো।
ওয়ার্ক পারমিট আসল নাকি ভুয়া তা কীভাবে যাচাই করবেন?
সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশের ইমিগ্রেশন বা লেবার মিনিস্ট্রির অফিসিয়াল পোর্টালে রেফারেন্স ও পারমিট নম্বর প্রদান করে সহজেই সত্যতা যাচাই করা যায়।
ভিজিট ভিসায় দুবাই অবস্থান করে কি ইউরোপ কাজের ভিসা আবেদন সম্ভব?
না। ইউরোপীয় দূতাবাসগুলো দুবাই থেকে কাজের ভিসার আবেদনের জন্য ন্যূনতম ৩-৬ মাসের বৈধ ইউএই রেসিডেন্স ভিসা এবং এমিরেটস আইডি বাধ্যতামূলক করেছে।
ছবি: Tim.Reckmann / Wikimedia Commons, CC BY-SA 3.0; This Photo was taken by Timothy A. Gonsalves. Feel free to use my photos, but p / Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0
💬 মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রশ্ন বা অভিজ্ঞতা লিখে প্রথম মন্তব্যটি করুন।








আপনার মন্তব্য বা প্রশ্ন লিখুন