ইউরোপ ভ্রমণ বা কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছেন? তাহলে সেনজেন ভিসা (Schengen Visa) এবং সেনজেনভুক্ত দেশসমূহ (Schengen Countries) সম্পর্কে বিস্তারিত জানা আপনার জন্য অপরিহার্য। ২০২৬ সাল নাগাদ সেনজেন অঞ্চলের সম্ভাব্য সম্প্রসারণ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই নিবন্ধ। সেনজেন অঞ্চল মূলত ইউরোপের এমন এক সুবিশাল এলাকা যেখানে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নেই, অর্থাৎ একজন ব্যক্তি একবার সেনজেনভুক্ত কোনো দেশে প্রবেশ করলে অন্য সেনজেনভুক্ত দেশে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
এই প্রবন্ধে আমরা প্রথমে সেনজেন অঞ্চলের ধারণা, এর ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করব। এরপর ২০২৬ সালের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপটে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর একটি তালিকা দেব এবং সম্ভাব্য নতুন সংযোজনের বিষয়টিও আলোকপাত করব। সেনজেন ভিসার প্রকারভেদ, আবেদন প্রক্রিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ টিপসও এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা আপনাকে ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।
সেনজেন অঞ্চল কি? একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
সেনজেন অঞ্চল (Schengen Area) হচ্ছে ইউরোপের ২৮টি দেশের একটি গ্রুপ যারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাতিল করেছে। এর অর্থ হলো, একবার এই অঞ্চলের যেকোনো একটি দেশে বৈধভাবে প্রবেশ করলেই আপনি বাকি দেশগুলোতে কোনো অতিরিক্ত ভিসা ছাড়াই স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। এটি ১৯৮৫ সালে লুক্সেমবার্গের সেনজেন নামক একটি ছোট শহরে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা, যা অর্থনৈতিক সংহতি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহায়ক।
সেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বেশিরভাগ দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union – EU)-এর সদস্য। তবে কিছু নন-ইইউ দেশও সেনজেন চুক্তির অংশীদার। এর ফলে, লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং পণ্য সামগ্রী কোনোরকম সীমান্ত বাধা ছাড়াই ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করতে পারে, যা ইউরোপীয় অর্থনীতি ও পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সেনজেন চুক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (EEC) গঠিত হলেও, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ একটি বাধা হিসেবে কাজ করছিল। এই বাধা দূর করার জন্য ১৯৮৫ সালে ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ এবং নেদারল্যান্ডস-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ‘সেনজেন চুক্তি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশও এই চুক্তিতে যোগ দিতে শুরু করে এবং ১৯৯৫ সাল থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়।
ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশের তালিকা ২০২৬ (সম্ভাব্য)
বর্তমানে ২৮টি দেশ সেনজেনভুক্ত দেশ (Schengen Countries) হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৬ সাল নাগাদ এই তালিকায় ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকলেও, মূল দেশগুলো একই থাকবে। নিচে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর একটি সম্ভাব্য তালিকা দেওয়া হলো:
বর্তমান সেনজেনভুক্ত দেশসমূহ (২০২৪ অনুসারে):
- অস্ট্রিয়া (Austria)
- বেলজিয়াম (Belgium)
- বুলগেরিয়া (Bulgaria) (২০২৪ থেকে আংশিকভাবে)
- ক্রোয়েশিয়া (Croatia)
- চেক প্রজাতন্ত্র (Czech Republic)
- ডেনমার্ক (Denmark)
- এস্তোনিয়া (Estonia)
- ফিনল্যান্ড (Finland)
- ফ্রান্স (France)
- জার্মানি (Germany)
- গ্রীস (Greece)
- হাঙ্গেরি (Hungary)
- আইসল্যান্ড (Iceland) (নন-ইইউ)
- ইতালি (Italy)
- লাটভিয়া (Latvia)
- লিচেনস্টাইন (Liechtenstein) (নন-ইইউ)
- লিথুয়ানিয়া (Lithuania)
- লুক্সেমবার্গ (Luxembourg)
- মাল্টা (Malta)
- নেদারল্যান্ডস (Netherlands)
- নরওয়ে (Norway) (নন-ইইউ)
- পোল্যান্ড (Poland)
- পর্তুগাল (Portugal)
- রোমানিয়া (Romania) (২০২৪ থেকে আংশিকভাবে)
- স্লোভাকিয়া (Slovakia)
- স্লোভেনিয়া (Slovenia)
- স্পেন (Spain)
- সুইডেন (Sweden)
- সুইজারল্যান্ড (Switzerland) (নন-ইইউ)
২০২৬ সালে সম্ভাব্য নতুন সংযোজন
যদিও সেনজেন অঞ্চলের সম্প্রসারণ একটি দীর্ঘ এবং জটিল প্রক্রিয়া, তবে কিছু দেশ সেনজেন চুক্তিতে যোগদানের জন্য আগ্রহী। ২০২৪ সালে রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া সেনজেন অঞ্চলের আংশিক সদস্যপদ লাভ করেছে (বিমান ও সমুদ্রপথে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাতিল)। ২০২৬ সাল নাগাদ তাদের স্থলপথে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণও সম্পূর্ণভাবে বাতিল হতে পারে। এছাড়া, সাইপ্রাস (Cyprus)-ও সেনজেনভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ সেনজেনভুক্ত হতে পারে।
অতএব, ২০২৬ সালের সেনজেনভুক্ত দেশের তালিকাটি উপরের তালিকার মতোই হবে, তবে বুলগেরিয়া, রোমানিয়া এবং সাইপ্রাস সম্পূর্ণরূপে সেনজেন অঞ্চলের অংশ হয়ে যেতে পারে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য আরও সুবিধা বয়ে আনবে। এই পরিবর্তনগুলো ভ্রমণের স্বাধীনতাকে আরও প্রসারিত করবে।
সেনজেন ভিসার প্রকারভেদ এবং আবেদন প্রক্রিয়া
সেনজেন ভিসার প্রকারভেদ এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আপনার ইউরোপ ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সহজ হবে। মূলত স্বল্পকালীন থাকার জন্য সেনজেন ভিসা (Category C) প্রদান করা হয়।
সেনজেন ভিসার প্রধান প্রকারভেদ:
- ইউনিফর্ম সেনজেন ভিসা (Uniform Schengen Visa – USV): এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রকারের ভিসা, যা আপনাকে সেনজেন অঞ্চলের ৩০টি দেশের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত থাকতে এবং অবাধে ভ্রমণ করতে দেয়। এটি পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ, পারিবারিক সফর বা স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া হয়।
- লিমিটেড টেরিটোরিয়াল ভ্যালিডিটি ভিসা (Limited Territorial Validity Visa – LTV): এই ভিসা শুধুমাত্র সেই দেশের জন্য বৈধ, যেখানে এটি ইস্যু করা হয়েছে, অথবা সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটা সেনজেন দেশের জন্য বৈধ। বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা সাধারণত এই ভিসা পেয়ে থাকেন।
- ন্যাশনাল ভিসা (National Visa – Category D): এটি স্বল্পকালীন সেনজেন ভিসা নয়। যদি আপনি ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে সেনজেনভুক্ত কোনো একটি দেশে থাকতে চান (যেমন: পড়াশোনা, কাজ, স্থায়ী বসবাস), তাহলে আপনাকে সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় ভিসা (National Visa) এর জন্য আবেদন করতে হবে। এই D ক্যাটাগরির ভিসাধারীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেনজেন অঞ্চলে ভ্রমণ করতে পারেন।
সেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া:
সেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। সঠিক তথ্যাদি ও কাগজপত্র জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. ভিসার উদ্দেশ্য নির্ধারণ:
সর্বপ্রথম আপনাকে আপনার ভিসার উদ্দেশ্য (Purpose of Visa) নির্ধারণ করতে হবে। আপনি কি পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা, নাকি অন্য কোনো কারণে ইউরোপ যাচ্ছেন? উদ্দেশ্য অনুসারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিসার ধরন ভিন্ন হতে পারে।
২. কোন দেশের দূতাবাসে আবেদন করবেন?
আপনি যে সেনজেন দেশে সবচেয়ে বেশি সময় কাটাবেন, সেই দেশের দূতাবাসে আপনাকে আবেদন করতে হবে। যদি আপনার ভ্রমণে একাধিক সেনজেন দেশ থাকে এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে longest stay না থাকে, তাহলে আপনি যে দেশে প্রথম প্রবেশ করবেন, সে দেশের দূতাবাসে আবেদন করবেন।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ:
সেনজেন ভিসার জন্য কিছু সাধারণ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Required Documents) এবং কিছু নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়।
সাধারণ কাগজপত্র:
- পূরণকৃত এবং স্বাক্ষরিত ভিসা আবেদন ফর্ম।
- বৈধ পাসপোর্ট (ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে এবং কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে)।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২ কপি, ৩৫ x ৪৫ মিমি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)।
- যাতায়াতের টিকিট বুকিং (আগত ও নির্গত)।
- হোটেল বুকিং বা থাকার জায়গার প্রমাণ।
- ভ্রমণ বীমা (ন্যূনতম ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ)।
- আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ (ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আয়কর রিটার্ন)।
- চাকরি/ব্যবসা প্রমাণপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)।
উদ্দেশ্য-ভিত্তিক অতিরিক্ত কাগজপত্র:
- পর্যটন: বিস্তারিত ভ্রমণসূচী।
- ব্যবসা: আমন্ত্রণপত্র, কোম্পানির চিঠি, বিজনেসের প্রমাণপত্র।
- চিকিৎসা: হাসপাতাল থেকে আমন্ত্রণপত্র, চিকিৎসার বিস্তারিত বিবরণ।
- শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তির প্রমাণপত্র, আর্থিক সহায়তার প্রমাণপত্র।
৪. সাক্ষাৎকারের জন্য তারিখ নির্ধারণ:
বেশিরভাগ দূতাবাসের ক্ষেত্রেই আপনাকে অনলাইনে সাক্ষাৎকারের জন্য তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে VFS Global বা অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
৫. দূতাবাসে সাক্ষাৎকার এবং ফি প্রদান:
নির্দিষ্ট তারিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ দূতাবাসে উপস্থিত থাকুন। সাক্ষাৎকারে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে। ভিসা ফি (Visa Fee) আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই প্রদান করতে হয়, যা সাধারণত অপ্রত্যাহারযোগ্য।
৬. ভিসার জন্য অপেক্ষা:
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভিসার ফলাফলের জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। এটি সাধারণত ১৫ দিন থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারে, নির্ভর করে দূতাবাসের কার্যকারিতা এবং আবেদনের প্রকৃতির উপর।
সেনজেন ভিসা পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
সেনজেন ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন:
- সঠিক তথ্য প্রদান: আবেদন ফর্মে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেবেন না। এতে আপনার ভিসা বাতিল হতে পারে।
- পর্যাপ্ত তহবিল: আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইউরোপে থাকার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান রয়েছে তার প্রমাণ দেখান।
- ভ্রমণ বীমা: সেনজেন অঞ্চলের জন্য একটি উপযুক্ত ভ্রমণ বীমা কভার করা বাধ্যতামূলক।
- সুনির্দিষ্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা: আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা স্পষ্ট করে তুলে ধরুন।
- আগে আবেদন করুন: ভ্রমণের কমপক্ষে ৩ মাস আগে আবেদন করুন, যাতে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব এড়ানো যায়।
- সমস্ত কাগজপত্র আপ-টু-ডেট রাখুন: আপনার পাসপোর্ট, ছবি এবং অন্যান্য সমস্ত কাগজপত্র যেন বৈধ (valid) এবং আপডেটেড থাকে।
- সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসী থাকুন: সাক্ষাৎকারের সময় আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং স্পষ্টবাদী হন।
ইউরোপের অর্থনীতি এবং পর্যটনে সেনজেন অঞ্চলের প্রভাব
সেনজেন চুক্তির কারণে ইউরোপের অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্পে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সীমান্তমুক্ত চলাচল (Free movement) কারণে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান অনেক সহজ হয়েছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে গতিশীল করেছে। এর ফলস্বরূপ, বিনিয়োগ বেড়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যটনের ক্ষেত্রে, সেনজেন অঞ্চল ভ্রমণকারীদের জন্য এক অসাধারণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একজন পর্যটক একটি মাত্র ভিসা নিয়েই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখতে পারেন, যা বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে ইউরোপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এর ফলে, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং অন্যান্য পর্যটন সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি এসেছে। এটি ইউরোপের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।